পয়লা জানুয়ারির সকালে ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শীত পড়ল দিল্লিতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : নতুন বছরের প্রথম দিনের সকালে ঘন কুয়াশায় ঢেকে গিয়েছে দিল্লি। রাজধানীর তাপমাত্রা নেমেছে ১.১ ডিগ্রি সেলিসিয়াসে। গত ১৫ বছরে শহরে এত শীত পড়েনি। এর আগে ২০০৬ সালের ৮ জানুয়ারি দিল্লিতে ন্যূনতম তাপমাত্রা ছিল ০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতবছর জানুয়ারিতে দিল্লিতে ন্যূনতম তাপমাত্রা ছিল ২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের রিজিওনাল ফোরকাস্টিং সেন্টারের কর্তা কুলদীপ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোর ছ’টায় দিল্লির সফদরজং ও পালাম অঞ্চল ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল। এক মিটারের মধ্যেও কিছু দেখা যাচ্ছিল না। কুলদীপ শ্রীবাস্তব আশ্বাস দেন, শনিবার থেকেই ন্যূনতম তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে। ২ থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিম ভারতে সক্রিয় থাকবে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। তার প্রভাবেই বাড়বে তাপমাত্রা। ৪ থেকে ৫ জানুয়ারির মধ্যে ন্যূনতম তাপমাত্রা বেড়ে হবে আট ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কুলদীপ শ্রীবাস্তব বলেন, ২০০৬ সালের পরে দিল্লিতে এত ঠান্ডা আর কখনও পড়েনি। সেবছর শহরে তাপমাত্রা নেমেছিল ০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ২০২১ সালের নতুন বছরের প্রথম দিনটিতে শহরে শৈত্যপ্রবাহ চলবে।

গত বছরের শেষ দিনটিতে বর্ষবরণের উৎসব নিয়ে কড়াকড়ি করা হয়েছিল দিল্লিতে। ৩১ ডিসেম্বর ও পয়লা জানুয়ারি শহরে জারি আছে নাইট কার্ফু।

এই সময়ের মধ্যে রাস্তায় কোনওরকম জমায়েত, অনুষ্ঠান, ভিড় বন্ধ করা হয়েছে। পাঁচজনের বেশি মানুষকে এক জায়গা দেখলেই কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ। করোনার নতুন স্ট্রেন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটেন থেকে করোনার নতুন স্ট্রেন ঢুকে পড়েছে এ দেশেও। অন্তত ২০ জন ব্রিটেন ফেরত যাত্রীর শরীরে ধরা পড়েছে করোনার নতুন মিউট্যান্ট স্ট্রেন। এই সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। দিল্লি, কর্নাটক, হায়দরাবাদ, অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক বাসিন্দার শরীরে সংক্রমণ রয়েছে। বিদেশ থেকে ফিরে শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে বাসে, ট্রেনে চেপে ঘুরে বেড়িয়েছেন রোগীরা, এমন খবরও সামনে এসেছে। দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতাল, কোভিড কেয়ার সেন্টারে ব্রিটেন ফেরত যাত্রীদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

দিল্লির ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি জানাচ্ছে, ভাইরাসের এই নতুন স্ট্রেন খুব তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়তে পারে। নতুন বছরের জমায়েত, মেলামেশা বন্ধ না করলে বহু মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ সংক্রামিতদের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের সকলকে এখনও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তাই বর্ষবরণের এই সময় বাড়তি সতর্কতা দরকার।

দিল্লির সমস্ত রেস্তোরাঁ, বারগুলিতে ৫০ শতাংশের বেশি মানুষকে ঢুকতে অনুমতি দেওয়া হবে না, এমন নির্দেশই পাঠানো হয়েছে। বাজার এলাকা, শপিং মল, পাঁচতারা হোটেল, পাবগুলিতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা হয়েছে। দিল্লির পুলিশ কমিশনার এসএন শ্রীবাস্তব বলেছেন, রাস্তায় বের হলে কোভিড প্রোটোকল মানতে হবে। মুখে মাস্ক বাধ্যতামূলক, সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং জরুরি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More