প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের দুই শীর্ষকর্তা আসছেন ভারতে, হতে পারে প্রতিরক্ষা চুক্তি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতে আসার জন্য আমেরিকা থেকে রওনা হয়েছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পিও এবং প্রতিরক্ষা সচিব টি এসপার। দিল্লিতে তাঁরা বৈঠক করবেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে। ঠিক আট মাস আগে ভারতে এসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর কিছুদিনের মধ্যেই আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। তার আগে আমেরিকা ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

দুই দেশের বিদেশ মন্ত্রক ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ কর্তাদের বৈঠকের আগে আমেরিকা থেকে বলা হয়েছে, ভারত যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বড় শক্তি হিসাবে উঠে এসেছে, সেজন্য আমরা খুশি। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে আমরা ভারতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা করতে তৈরি।

রবিবার রাতে মাইক পম্পিও টুইট করে বলেন, “ভারতের পরে আমি শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং ইন্দোনেশিয়াতে যাব। ভারতীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে মত বিনিময় হবে।” ভারতে এসে পম্পিও এবং এসপার দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে। অন্যান্য সরকারি কর্তা ও শিল্পপতির সঙ্গেও তাঁদের বৈঠক হবে।

এস জয়শংকর ও রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে আমেরিকা জানিয়েছে, সেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ব্যাপারে পারস্পরিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য আদানপ্রদান ও গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান নিয়ে আলোচনা হবে।

গত সপ্তাহে আমেরিকা থেকে বলা হয়, লাদাখে ভারত-চিন সেনা সমাবেশের ওপরে তারা নজর রাখছে। নয়াদিল্লির সঙ্গে নানা তথ্যের আদানপ্রদান করছে ওয়াশিংটন। লাদাখে যাতে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য চেষ্টা করছে তারা।

গত ১৫ জুন গালওয়ানে টহলরত ভারতীয় সেনার উপর আচমকা হামলা করে চিনা সেনা। এই হামলায় ২০ ভারতীয় জওয়ান শহিদ হন। পাল্টা মারে চিনের প্রায় ৩৫ জওয়ান নিহত হয় বলে খবর। অবশ্য চিনের তরফে এই সংখ্যা জানানো হয়নি। এরপর থেকে দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তারপর থেকে সীমান্তে উত্তাপ ক্রমাগত বাড়ছে। একদিকে যেমন সেনা বাড়াচ্ছে লাল ফৌজ, অন্যদিকে তেমনই সেনা বাড়াচ্ছে ভারতও। শীতেও যাতে সীমান্তে সেনা থাকে তার বন্দোবস্ত করেছে ভারত। নিয়ে যাওয়া হয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র। এর থেকেই পরিষ্কার চিনের আগ্রাসনের জবাবে চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারত।

গত ১০ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার মস্কোতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে বৈঠকে ঠিক হয়, দু’দেশই সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। এই চুক্তিতে ঠিক হয়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে, সীমান্তে যাতে কোনও দেশ উস্কানি না দেয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে, দু’দেশের চুক্তি অনুযায়ী সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে দুই দেশ।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More