বাজপেয়ী থেকে মমতা, গরুর গাড়ি থেকে ই-স্কুটার, প্রতিবাদেরও বিবর্তন রাজনীতিতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সত্তর দশকের গোড়ার কথা। ১৯৭৩ সাল। সে সময়ে পেট্রলের দাম লিটার-প্রতি দেড় টাকার কাছাকাছি। আন্তর্জাতিক স্তরে কাঁচা তেলের সঙ্কট তৈরি হওয়ায় ভারতেও পেট্রল, কেরোসিনের দাম বাড়তে শুরু করে। একে মুদ্রাস্ফীতির হার তখন প্রায় ১৭ শতাংশ, তার উপর পেট্রল, কেরোসিনের দাম বাড়ায় সরাসরিই আক্রান্ত সমাজের সব অংশ।

ইন্দিরা গান্ধী তখন প্রধানমন্ত্রী। বাজপেয়ী জনসংঘের নেতা। বিজেপির তখনও জন্ম হয়নি। পেট্রল ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সেবার গরুর গাড়ি চেপে সংসদে এসেছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। তখন সংসদ ভবন এখনকার মতো উঁচু পাঁচিলে ঘেরা ছিল না। সোজা পৌঁছে যাওয়া যেত সংসদের মূল ভবনের গেটে। গরুর গাড়িতে চেপে সংসদ ভবনের এক নম্বর গেটের কাছে এসে নেমেছিলেন বাজপেয়ী।

অটলবিহারী বাজপেয়ী যখন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী, তখনও একবার আন্তর্জাতিক স্তরে কাঁচা তেলের দাম বেড়েছিল। সম্ভবত সেটা ২০০২ সালের জুন মাস। সেই সময়ে এক ধাক্কায় পেট্রলের দাম আড়াই টাকা বাড়িয়েছিল বাজপেয়ী সরকার। ডিজেলের দাম বেড়েছিল লিটার প্রতি দেড় টাকা। সেই সরকারের শরিক ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বা়জপেয়ী বা নরেন্দ্র মোদী সরকার যে সুবিধা পেয়েছে, কংগ্রেস সরকারের কপাল ততটা চওড়া ছিল না।

২০০৪ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেলের দাম ছিল সব থেকে চড়া। তাই পেট্রলের দাম বাজপেয়ী জমানার ২৮ টাকা থেকে মনমোহন জমানার শেষে সত্তর টাকায় পৌঁছে গেছিল। সেই সময়েও ঘটনাচক্রে মনমোহন সরকারের শরিক দল ছিল তৃণমূল। কিন্তু মোদী সরকার পত্তনের সময়ে চোদ্দ সালে ক্রুড অয়েল তথা কাঁচা তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০-১৩০ ডলার থেকে কম ৫০-৬০ ডলারে নেমে আসে। কিন্তু সেই সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছয়নি বলেই ক্ষোভ বিরোধীদের। কারণ, পেট্রোপণ্যের বিনিয়ন্ত্রণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেলের দাম কমলে পেট্রল, ডিজেলের খুচরো দামও সেই অনুপাতে কমার কথা।

কিছু দিন আগে পেট্রল, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ট্রাক্টরে চড়ে বিধানসভায় পৌঁছেছিলেন বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। ডিজেলের দাম বাড়ায় কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়ছে বলে অভিযোগ করে তিনি ট্রাক্টরে চেপেছিলেন।

Farm Bills: RJD leader Tej Pratap sits atop tractor driven by brother Tejashwi during protest in Patna

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিবাদ অভিনব। পেট্রল, ডিজেলের দাম বাড়ায় তিনি বৃহস্পতিবার ই-স্কুটার চেপে নবান্নতে গিয়েছেন। ই-স্কুটার ব্যাটারিতে চলে। ডিজেল, পেট্রলের প্রয়োজন হয় না। তা ছাড়া পরিবেশ সহায়কও বটে।

সংসদীয় রাজনীতিতে এ হেন প্রতিবাদ চলছে এবং আগামী দিনেও হয়তো চলবে। কারণ এ ধরনের প্রতিবাদে সহজে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হয়। গরুর গাড়িতে চড়ে বাজপেয়ীর সংসদ যাত্রা আজও কিংবদন্তী হয়ে আছে।

MP wearing 'onion garland' in Parliament...

শুধু পেট্রোপণ্য কেন, অতীতে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদেও সংসদে অভিনব বিক্ষোভ হয়েছে। একবার এক সাংসদ পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজ্যসভায় পেঁয়াজের মালা পরে এসেছিলেন। অনেকেই সেই গন্ধ নাক সিঁটকোচ্ছিলেন। এমন সময়ে সভার চেয়ারম্যান মজা করে তাঁকে বলেন, পেঁয়াজের দাম বেড়েছে বলে আপনি পেঁয়াজের মালা পরেছেন। আচ্ছা চামড়ার দাম বাড়লে কী করবেন! চেয়ারম্যানের কথা শুনে ট্রেজারি, বিপক্ষ দুই শিবিরের সাংসদরাই হো হো করে হেসে ওঠেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More