কেশপুরে বিজেপি প্রার্থীর গাড়িতে ইট, লাঠি, লোহার রডের বাড়ি, জঙ্গলরাজের ভয়াল ছবি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নন্দীগ্রামে বসে দুদিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ভোটে তারাই গুন্ডামি করে যাদের হেরে যাওয়ার ভয় থাকে।

বৃহস্পতিবার কেশপুরে দেখা গেল গুন্ডামি কারা করছে। এদিন সকালে সেখানে ভোট শুরুর দু’ঘণ্টার মধ্যেই আক্রান্ত, রক্তাক্ত হয়ে বুথ ছাড়তে হয় বিজেপির মহিলা পোলিং এজেন্ট শাবিনা বেগমকে। অভিযোগের তির ছিল তৃণমূলের দিকে। খবর পেয়ে কেশপুরের ১৭৩ নম্বর বুথের সামনে পৌঁছন বিজেপি প্রার্থী প্রীতীশ কুমার। তখনই বিজেপি প্রার্থীর গাড়ির উইন্ড স্ক্রিন চুরমার করে দেওয়া হয়। এরপর ওই বুথের পোলিং এজেন্টকে মারতে মারতে বুথ থেকে বের করা হয়।

তার পর বেলা গড়াতে ফের বিজেপি প্রার্থীর গাড়ির উপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। আধলা ইট, লাঠি, লোহার রড নিয়ে হামলা চালায় স্করপিও গাড়ির উপর। চারদিক থেকে হামলা করে সেই গাড়ি ভাঙা হয়। হামলা চালানো হয় সংবাদমাধ্যমের গাড়ির উপরেও। সেই ছবি দৃশ্যত ভয়ঙ্কর।

এদিন সকালে প্রীতিষ অভিযোগ করেছিলেন, তৃণমূলের লোকজন পিস্তলের বাঁট দিয়ে পিটিয়েছে সংখ্যালঘু মহিলা পোলিং এজেন্টকে। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর মাথার পিছনের দিকে সেলাই পড়েছে।

বিজেপি প্রার্থীর আরও অভিযোগ, রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি যখন গাড়িতে তুলে শাবিনাকে তুলে নিয়ে আসছিলেন তখনও তাঁর গাড়ি ঘিরে রাখা হয়েছিল। তাঁর কথায়, “কোনও রকমে ওদের থেকে পালিয়ে এসেছি। পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে।” তিনি এও বলেন, ওই বুথের ত্রিসীমানায় তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনও আধাসেনাকে দেখতে পাননি। জখম মহিলা পোলিং এজেন্টকে সাহায্যও করতে আসেননি কেউ। এই ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।

পরে দুপুরে ফের হামলার পর প্রীতিষ বলেন, “আমার আর কিছু বলার নেই। এই ছবি বাংলার মানুষ দেখেছেন। তাঁরাই বলুন।”

এদিন ভোট শুরু আগে বুধবার রাতে কেশপুরের ৪ নম্বর গোলার অঞ্চলে তৃণমূল কর্মী উত্তম দলুইকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। তবে সেই ঘটনায় সকালের মধ্যেই ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী। তৃণমূল প্রার্থী শিউলি সাহা বলেছেন, “কেশপুরে বিজেপি সন্ত্রাস করার চেষ্টা করেছিল। ওরা ভেবেছিল উত্তম দলুইকে খুন করে মানুষকে ভয় পাইয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু সূর্য উঠতেই মানুষ তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে কেশপুরে।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More