বদলা নিতে কালাশনিকভ তুলে নেবেন ঔরঙ্গজেবের বাবা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৪৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলের জওয়ান শহিদ ঔরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর দুদিন পেরিয়ে গেছে। কিন্তু ক্রোধের আগুন নেভার সম্ভাবনা নেই সালানি গ্রামের। আগুন আরও উস্কে দিয়েছে ঔরঙ্গজেবকে হত্যার কয়েক মিনিট আগে সন্ত্রাসবাদীদের তোলা একটা ভিডিও, যেটা ১৫ জুন থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। জম্মু কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে গাছের তলায় ব্লু জিন্স আর ব্ল্যাক টি শার্ট পরা ঔরঙ্গজেবকে বুলেটে ঝাঁঝরা করে দেওয়ার আগে ভিডিওটি করেছিল জঙ্গিরাই।
এক মিনিট পনেরো সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ক্যামেরা ফলো করছে ঔরঙ্গজেবকে। ক্যামেরার পিছন থেকে ভেসে আসছে জঙ্গিদের  প্রশ্ন।

এই জেরার শেষেই ঝাঁঝরা হয়ে যান ঔরঙ্গজেব

জঙ্গি- নাম? 
ঔরঙ্গজেব- ঔরঙ্গজেব 

জঙ্গি-বাবার নাম? 
ঔরঙ্গজেব-মোহাম্মদ হানিফ 

জঙ্গি- কোথায় থাকো? 
ঔরঙ্গজেব-পুঞ্চ

জঙ্গি- কোথায় পোস্টিং? 
ঔরঙ্গজেব-শাদি মার্গ ক্যাম্প, পুলওয়ামা। 

জঙ্গি- কাকে রিপোর্ট করতে হয়, শুক্লা স্যার ? 
ঔরঙ্গজেব-মেজর রোহিত শুক্লা 

জঙ্গি- তোমার ডিউটি কী? 
ঔরঙ্গজেব-আমি একজন জওয়ান। অন পোস্ট ডিউটি করি। 

জঙ্গি- তার মানে তুমি শুক্লার গার্ড, তুমি কি তার সঙ্গে সিভিল কাজেও যাও।
ঔরঙ্গজেব-হ্যাঁ 

জঙ্গি- তুমি কি মোহাম্মেদ, ওয়াসিম, তালহা ভাইয়ের এনকাউন্টারের পিছনে ছিলে? 
ঔরঙ্গজেব-হ্যাঁ 

জঙ্গি- তুমিই কি তাদের শরীর ক্ষতবিক্ষত 
করেছো? 
ঔরঙ্গজেব-না আমার হাতে ইনজুরি ছিলো। 

জঙ্গি- ইনজুরি হওয়ার কারণ কী? 
ঔরঙ্গজেব-আমার হাতে ফ্র্যাকচার হয়েছিল। 

জঙ্গি- কে টেররিস্টদের শরীর ক্ষতবিক্ষত করেছিল? 
ঔরঙ্গজেব-ফায়ারিং-এর জন্য হয়েছিল। 

জঙ্গি- তিন জনের শরীরই ফায়ারিং-এর জন্য ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল ? 
ঔরঙ্গজেব- হ্যাঁ ফায়ারিং-এর জন্য। 

জঙ্গি- এর ফলেই তারা শহিদ হয়েছিল ? 
ঔরঙ্গজেব-হ্যাঁ 

গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে শান্ত গলায় বীর সন্তানের জীবনের শেষ দৃশ্য দেখে একফোঁটা জল ফেলেননি পঞ্চান্ন বছর বয়সী  মহম্মদ হানিফ। নিজেও সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত। জলের বদলে চোখে ঝলকে উঠেছে আগুন। বাহাত্তর ঘণ্টা সময় দিয়েছেন তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে। “জানি না সরকার জেবির (ঔরঙ্গজেব) হত্যাকারীদের নিকেশ করতে গড়িমসি করছে কেন। আমি সরকারকে ৭২ ঘণ্টা সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে যদি আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা না নেয়, আমি নিজে আমার ছেলের হত্যার বদলা নিতে নামব।”

নিহত জওয়ান ঔরঙ্গজেবের বাবা মহম্মদ হানিফ

সালানি গ্রামে নিজের বাড়িতে ছেলের দেহের জন্য অপেক্ষা করছিলেন রিটায়ার্ড আর্মি জওয়ান হানিফ। তিনি কাশ্মীরের জনগণের উদ্দেশে বলেন, তাঁর ছেলের পরিণতি দেখে কাশ্মীরের  বাবা-মায়েরা যেন তাঁদের ছেলেদের সেনাবাহিনীতে পাঠানো বন্ধ না-করে দেন। তা হলে দেশকে কারা রক্ষা করবে?
চোয়ালচাপা মুখে, হিমশীতল গলায় মহম্মদ হানিফ সাংবাদিকদের  বলেন, “মৃত্যু একদিন আসবে, আমিই দেশের সেবা করার জন্য ছেলেকে সেনাবাহিনীতে পাঠিয়েছিলাম। আর আমি জানি, এক জন জওয়ানের কাজ শত্রুকে মারা বা শত্রুর হাতে বীরের মৃত্যুবরণ করা। আর আমি জানতাম জেবি সন্ত্রাসবাদীদের হিটলিস্টে আছে। কারণ, তার জন্যই উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদীদের সংখ্যা কমে আসছিল।”
আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় সারা ভারত দাঁড়িয়েছে পুত্রহারা হানিফের পাশে। কাশ্মীর-সহ সারা ভারতের ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা যখন খুশির ঈদ নিয়ে ব্যস্ত, তখন এক ধর্মভীরু মুসলিম ফৌজি তাঁর নামিয়ে রাখা কালাশনিকভ ফের হাতে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফৌজি ছেলের নির্মম হত্যার বদলা নিতে।

 

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More