সোজা বাংলায় বলছি, দিদি ভবানীপুরে ভয় পেয়েছেন: বাবুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাস দুয়েক আগে তৃণমূলের পেশাদার প্রচার টিম একটি ক্যাম্পেইন বাংলা বাজারে চালু করেছিল। তার নাম ‘সোজা বাংলায় বলছি’।

মঙ্গলবার খেজুরিতে বিজেপির সভামঞ্চ থেকে সেই স্লোগান তুলেই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধতে চাইলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। এদিন বাবুল বলেন, “সোজা বাংলায় বলছি। দিদি ভবানীপুরে দাঁড়াতে ভয় পেয়েছেন।”

সোমবার নন্দীগ্রামের তেখালির সভা থেকে দিদি চমক দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, তিনি একুশের ভোটে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হবেন। প্রথমে বলেন ‘ভবানীপুরে ভাল প্রার্থী দেব’। তারপর বক্তৃতার একেবারে শেষে আবার বলেন,‘পারলে দুটো আসনেই লড়ব’।

এ নিয়ে গতকাল থেকেই দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, আবদুল মান্নান, সুজন চক্রবর্তীরা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পারছেন ভবানীপুর তাঁর জন্য এবার আর নিরাপদ আসন নয়। তাই দুই আসনে প্রার্থী হতে চাইছেন। এদিন বাবুলও সেই একই কথা বলেন। তবে মোড়কটা আলাদা।

কেন ভয়? নিজের মতো করে তারও ব্যাখ্যা দেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “দিদি জানেন তাঁর ভাইপো, ভাইরা ভবানীপুরে কী করেছে। বন্দুকের নলের সামনে দাঁড় করিয়ে হরিশ মুখার্জি রোডে একের পর এক সম্পত্তি দখল করেছে। ফলে এবার তিনি বুঝে গিয়েছেন হারবেন।” বাবুলের বক্তৃতার আগেই শুভেন্দু অধিকারী মমতার উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, দুটো আসনে দাঁড়ালে চলবে না, শুধু নন্দীগ্রামেই লড়তে হবে।

২০১৪-র লোকসভা ভোটে ভবানীপুর বিধানসভায় পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। যদিও ষোলোর ভোটে জোট প্রার্থী দীপা দাশমুন্সিকে হারাতে অসুবিধা হয়নি দিদির। ১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে আবার ভবানীপুর বিধানসভায় তৃণমূলের লিড থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির ওয়ার্ড ৭২ নম্বরে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল।

এসব সাত-সতেরো হিসেব নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছেই। এদিন বাবুল আরও বলেন, “মানুষের টাকা লুঠ করেছে তৃণমূল। ভাইপোর বাড়িতে হাজার হাজার টাকার ঝাড়বাতি জ্বলছে। বাংলায় মোদীজির নেতৃত্বে সরকার হলে সেই ঝাড়বাতি খুলে এনে আমরা মানুষের মধ্যে আলো জ্বালাব।”

পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়ে চাপের কৌশল নিয়েছেন। তেমনই বিজেপি এই প্রচার ছড়িয়ে দিতে চাইছে যে একটি আসনে লড়ার মতো আত্মবিশ্বাস তাঁর নেই। তৃণমূলের মনোবলে আঘাত করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। তবে এ ব্যাপারে সংশয় নেই, নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই কেন্দ্রেই এ বার লড়াই হবে জবরদস্ত।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More