ধর্ষণ বৃদ্ধির সঙ্গে মহিলাদের পোশাকের যোগসূত্র টেনে বিতর্কে ইমরান, ‘চরম অজ্ঞতা’, সমালোচনার ঝড় পাকিস্তানে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করেছেন, কিন্তু পাকিস্তানে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির সঙ্গে মেয়েদের পোশাকের সম্পর্ক, যোগসূত্র টেনে প্রবল বিতর্কে জড়ালেন ইমরান খান। সপ্তাহ শেষে টিভিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধর্ষণ বেড়ে যাওয়া যে কোনও সমাজে অশালীনতা বৃদ্ধির পরিণতির দিকেই ইঙ্গিত করে। ধর্ষণের ঘটনা সমাজে সত্যিই খুব দ্রুত বেড়েছে।
ব্রিটেনে সাতের দশকে যে ‘যৌনতা, মাদক, রক অ্যান্ড রোল’ সংস্কৃতির সূত্রপাত, তাকেই সেদেশে বিবাহ বিচ্ছেদের হার বৃদ্ধির জন্যও দায়ী করেন ইমরান, একসময় যাঁর নিজেরই প্লেবয় ভাবমূর্তি ছিল।
ইমরান মহিলাদের বলেছেন, প্রলোভন ঠেকাতে তাঁরা যেন শরীর ঠিকঠাক ঢেকে রাখেন। তাঁর ব্যাখ্যা, পর্দা প্রথার পুরো ধারণাটাই প্রলোভন এড়ানোর জন্য। সকলের তা এড়ানোর মতো মনের জোর থাকে না। ইমরানের ইঙ্গিত, মেয়েরা ভদ্র, শালীন পোশাক পরুন।
ইমরানের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানি মানবাধিকার সংগঠনগুলির লোকজন। তিনি চরম অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন বলে তাঁদের অভিযোগ। কয়েকশো লোক অনলাইনে স্বাক্ষর করা একটি বিবৃতি ছড়িয়ে দাবি করেছেন, ইমরানের বক্তব্য তথ্যগত ভাবে ভুল, অসংবেদনশীল, বিপজ্জনক। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দোষ কেবলমাত্র ধর্ষক ও তাকে সাহস দেওয়া সিস্টেম, যার মধ্যে এমন ধরনের মন্তব্যে পুষ্ট সংস্কৃতিও পড়ে।
ইমরানের বক্তব্যে তারা হতবাক, জানিয়েছে পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন। তারা বলেছে, কোথায়, কেন, কীভাবে ধর্ষণ হয়, সেব্যাপারে চরম অজ্ঞতাই শুধু এতে ফুটে ওঠেনি, ধর্ষণের শিকার নির্যাতিতাদেরই দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সরকারের অবশ্যই জানার কথা, এদের মধ্যে একেবারে বাচ্চা মেয়ে থেকে সম্মানহানি সংক্রান্ত অপরাধের শিকার মেয়েরাও পড়ে।
পাকিস্তানের গভীরে রয়েছে রক্ষণশীল মানসিকতা, যেখানে যৌন নিগ্রহের বলি মেয়েদের সন্দেহের চোখে দেখা হয়। ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের হলেও গুরুত্ব সহকারে তদন্ত হয় খুব কম। দেশের অধিকাংশ জায়গাতেই সম্মান সংক্রান্ত আচরণবিধি মেনে চলতে হয় মেয়েদের। তাদেরই পরিবারের কলঙ্ক হিসাবে দেখা হয়, হিংসার শিকার হতে হয়, এমনকী খুনও করা হয়।
লিঙ্গ সাম্যের মাপকাঠিতে পাকিস্তানের ঠাঁই হয় একেবারে খারাপ দেশগুলির মধ্যে।
গত বছরই পাকিস্তান প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল এক পুলিশকর্তা কোনও পুরুষ সঙ্গী ছাড়াই একা রাতে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বেরনোয় গণধর্ষিতা এক মহিলাকে বকাঝকা করায়। মহিলার গাড়ির জ্বালানি ফুরিয়ে গিয়েছিল। নির্জন রাতের রাস্তায় বাচ্চাদের সামনেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছিল।
গত বছর আরেকটি টিভি শোতে ইমরানের সামনেই এক মৌলবাদী দাবি করেন, মহিলারা ভুল, অন্যায় কাজকর্ম করে বলেই করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে! কিন্তু ইমরান চুপচাপ কথা শোনেন। এজন্যও তীব্র সমালোচিত হন তিনি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More