বাগনানের ফুলচাষে ক্ষতি, সুরাহা না পেয়ে ব্যালটে জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত চাষিদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: দুর্যোগ ক্ষতি করেছে চাষের। এখন ছত্রাকের প্রকোপে মাথায় উঠেছে ফুলচাষ। সমস্যা কথা হটিকালচার দফতরের কাছে থাকলেও কোনও লাভ হয়নি। পাচ্ছেন না সরকারি ক্ষতিপূরণ। তাই সেই জবাব এবার ভোটের ব্যালটে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাগনানের ফুল চাষীরা।

চাষিদের দাবি, ”দেড়-দু’লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে ফুলচাষ করা হয়েছিল। কিন্তু আমফানের ত্রাণ হিসাবে ক্ষতিপূরণ হিসাবে যে এক হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে কখনই ফুলচাষের আর্থিক ক্ষতি মেটাতে পারবেন না।”

হাওড়া গ্রামীণ জেলার উলুবেড়িয়ার বাগনান বিধানসভার ঘোড়াঘাটা, দেউলটি ও আন্টিলা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ফুল চাষের ওপর রুজিরুটি নির্ভর করে কয়েক হাজার চাষির। লক ডাউন, আমফান, অকাল বৃষ্টির ফলে ব্যাপক আর্থিক সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাঁদের।

চাষিদের অভিযোগ, আমফানের পর ক্ষতিপূরণ হিসাবে কেউ ১ হাজার কেউবা পেয়েছে ২ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। অনেকেই আবার তাও পায়নি। তবে, এই সময় ব্যাপক ক্ষতি মুখে পড়েছে ফুল চাষ। যার পরিমাণ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। তাই, ঋণের টাকা তাঁরা কিভাবে মেটাবেন? তা ভেবে পাচ্ছেন না। এখন গোদের মতো বিশ ফোড়ার মতো বিষাক্ত ছত্রাকের প্রকোপ শুরু হয়েছে। তাতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গাছের পাতা। হটিকালচার দফতরের লোকজন এসেছিলেন। সমস্যার সমাধান হয়নি।

ফুল চাষি তাপস খাঁয়ের অভিযোগ, ”বারবার ফুলের বীমা করার জন্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে আবেদন করা হয়ে ছিল, কেউ কর্ণপাত করেনি‌। ভোট এলেই প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাসান নেতারা। ভোটের পর তাদের টিকি খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই ভোটেই সমস্ত বঞ্চনার উত্তর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাপসের মতো চাষিরা।”

এদিকে জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ রমেশ পাল জানিয়েছেন, ”এটা একধরণের ছত্রাক। ২০১৯ সালে এই ধরনের ছত্রাকের আক্রমণ দেখা গিয়েছিল। সেই সময় কৃষি আধিকারিকদের নিয়ে অঞ্চলে ঘুরে বেরিয়ে চাষিদের ট্রেনিং দিয়েছিলাম, যে কিভাবে আমরা এই ছত্রাকের আক্রমণ থেকে গাছ বাঁচাতে পারি। ২০২০ সালে এটির প্রকোপ কম দেখা গেলেও এবছর ফের সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে।

রমেশবাবু আরও জানান, ”বিষয়টি নিয়ে চাষিদের ট্রেনিং দিলেও সেবিষয়ে সচেতনার অভাব রয়েছে চাষিদের মধ্যে। তাদের বলা হয়েছিল গাছ থেকে মাটিতে পাতা পড়তে দেওয়া চলবে না। আক্রান্ত পাতা মাটিতে পড়লে তার সঙ্গে মিশে অন্যান্য গাছের ক্ষতি হবে। এখন বিষয়টি জানতে পেরে কৃষি আধিকারিকরা গিয়েছিলেন। দেখে এসছেন। ফের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More