বিজেপিকে নিশানা করে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও, কেরলের কবি সচ্চিদানন্দের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল ফেসবুক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনে কেরলে ধরাশায়ী হয়েছে বিজেপি। দক্ষিণের এই রাজ্যটিতে একটি আসনও দখল করতে পারেনি নরেন্দ্র মোদীর দল। এই ইস্যুতেই হোয়াটসঅ্যাপে ব্যঙ্গবিদ্রুপ মেশানো একটি ভিডিও পান কে সচ্চিদানন্দন। তারপর তা ফেসবুকে শেয়ারও করেন। কিন্তু এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেসবুক থেকে নোটিফিকেশন আসে। যেখানে বলা হয়, তাঁর অ্যাকাউন্ট আপাতত ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। গোটা ঘটনায় কেরলের প্রথিতযশা এই কবির অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। যদিও বিজেপির তরফ থেকে সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করা হয়েছে।

ফেসবুক-টুইটারের সঙ্গে বিজেপি আঁতাত নিয়ে বিরোধীরা এর আগে একাধিকবার সরব হয়েছে। কৃষক আন্দোলন এবং কোভিড দুর্যোগ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করার জেরে মোছা হয় সাংসদ-বিধায়কদের টুইট। এমনকী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া ‘হ্যাশট্যাগ-আন্দোলন’ আটকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ফেসবুকের বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় সরকারের আদেশেই তারা এমন পদক্ষেপ করেছে বলে গলা চড়ায় নেটিজেনদের একাংশ। যদিও ‘ভুলবশত’ ওই হ্যাশট্যাগ বন্ধ করা হয়েছিল বলে পরে বার্তা দেয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

এবার কেরলের জনপ্রিয় কবি সচ্চিদানন্দনের অভিযোগ খুব স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘কেরলে বিজেপির শোচনীয় পরাজয় নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও শেয়ার করায় ফেসবুক আমায় ব্যান করে। ভিডিওতে একটি বিদেশি ফিল্মের ক্লিপিংস রয়েছে। যেখানে দেখানো হয়েছে, যুদ্ধে হেরে যাওয়ার পর হিটলার কীভাবে তাঁর বাহিনীর নেতাদের তুলোধনা করেন। অবশ্য মূল অডিও সরিয়ে সেখানে মালয়ালম ধারাবিবরণী দেওয়া হয়। আর বলা হয়, হিটলার নয়, নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ এখন এভাবেই তর্জন-গর্জন করছেন!’

উল্লেখ্য, সচ্চিদানন্দন যে ক্লিপিংসের কথা বলেছেন, তা ‘ডাউনফল’ ফিল্মের। ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জার্মান ছায়াছবির এই বিশেষ দৃশ্য আগেও একাধিক ইস্যুতে মিম-নির্মাতাদের নেকনজরে এসেছে। কিন্তু এর জেরে জোরালো বিতর্ক তেমন শোনা যায়নি।

সচ্চিদানন্দনের অভিযোগ, ফেসবুক এর আগেও তাঁকে মোদী-বিরোধী মন্তব্যের জন্য সতর্ক করেছিল। ২১ এপ্রিল তিনি #রিজাইনমোদী লিখে একটি কমেন্ট করেন। যার জেরে হুঁশিয়ারির নোটিফিকেশন পাঠায় ফেসবুক। তাঁর দাবি, ‘ভারত একটা বড় ব্যাবসার জায়গা। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এটা ভালোমতো জানে। তাই তাদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদী সরকারের অশুভ গাঁটছড়া রয়েছে। তা ছাড়া বিজেপির আইটি সেল খুব সক্রিয়। ওরা সবসময় আমাদের মতো বিরোধীদের উপর নজরদারি চালায়।’

গোটা বিষয়টিকে অবশ্য মোটেই ভালোভাবে দেখছেন না কেরলের খ্যাতিমান কবি। সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষের বাকস্বাধীনতার উপর যেভাবে আঘাত হানা হচ্ছে, তাকে ‘ঔদ্ধত্য’ বলে দেগেছেন সচ্চিদানন্দন।

অন্যদিকে চলতি বিতর্কে নিজেদের দায়ভার ঝেরে ফেলেছে বিজেপি। কেরলে দলের মুখপাত্র পিকে কৃষ্ণদাস বলেন, ‘ফেসবুকে কোথায় কী ডিলিট হল কিংবা কী আটকে দেওয়া হল, তাতে আমাদের কোনও হাত নেই। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের এর জবাব দেওয়া উচিত।’ অবশ্য ইতিমধ্যে প্রতিবাদী কবির পাশে দাঁড়িয়েছেন কেরলের অর্থমন্ত্রী টমাস আইজ্যাক। সাহিত্য আকাদেমির প্রাক্তন সেক্রেটারির অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে ফেসবুক যেভাবে খবরদারি চালিয়েছে তাকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি৷ কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরও সচ্চিদানন্দনকে সমর্থন করে টুইট করেন৷ থারুর জানান, ‘উনি আমাদের রাজ্যের শ্রেষ্ঠ জীবিত কবি। কোনওভাবেই রাজনীতির মধ্যে এ ধরনের সেন্সরশিপ বরদাস্ত করা উচিত নয়।’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More