বিক্রি হয়ে যাওয়ার আগে বিএসএফের তৎপরতায় উদ্ধার বাংলাদেশী নাবালিকা! ধৃত দালালও  

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: বাংলাদেশ থেকে এক ১৫ বছরের নাবালিকাকে বিক্রির জন্য এদেশে আনা হয়েছিল। বিক্রির আগেই বিএসএফের তৎপরতায় দালালচক্রের খপ্পর থেকে উদ্ধার হল ওই বাংলাদেশী নাবালিকা। গত ২৪ মার্চ বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের জওয়ানরা ওই ১৫ বছর বয়সী নাবালিকাকে উদ্ধার করে বলে জানানো হয়েছে।

বিএসএফ সূত্রে খবর, এদিন বেলা ১২ টা নাগাদ বিএসএফের গোয়েন্দা শাখা একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে খবর পায় যে, ১১২ ব্যাটেলিয়নের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সড়কে একজন বাইকচালকের সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছে। বিএসএফ জানতে পারে তারালি এলাকার দিকে যাচ্ছে ওই বাইকচালক।

অভিযানে নামে বিএসএফ। বাইকটি আসতে দেখে বিএসএফ তার রাস্তা আটকায়। বেগতিক দেখে ওই বাইকচালক মেয়েটিকে রেখে পালানোর চেষ্টা করলে জওয়ানরা তাকেও পাকড়াও করে ফলে।

এরপর নাবালিকা ও ধৃত ওই বাইকচালককে জিজ্ঞাসাবাদের করে জানা যায়, ধরা পড়ার তিনদিন আগে ওই নাবালিকাকে সীমান্ত পার করিয়ে ভারতে নিয়ে আসা হয়েছিল। বাংলাদেশী দালাল আবুল হুসেন সাহায্যে ওই নাবালিকা সোনাই নদী পেরিয়ে ভারতে এসেছিল। দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সে। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে ওই নাবালিকার মাসিরবাড়ি। কাজ দেবার নাম করে তাকে চোরাপথে ভারতে আনা হয়।

আবুল হুসেনই তাকে ভারতীয় দালাল গোলাম খুদুস সরদার ও তার বাবা আনিশ উদ্দিনের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেয়। এরপর গোলাম ও আনিশের বাড়ি স্বরূপ নগরের হাসানপুর তারালী মজিদ পাড়ায়। বাংলাদেশী দালালকে তারা ৫০০০ টাকা দেন। পরে আরও  ৫০০০ টাকা দেওয়া হবে বলে জানায়। আনিশ ও গোলামের বাড়িতে ২ দিনের জন্য রাখা হয়েছিল নাবালিকাকে। সেখানেই তার নকল আধার কার্ড তৈরি করা হয়েছিল। এরপর দালাল যখন মেয়েটিকে বিএসএফ ডিউটি লাইন পার করতে চাইছিল, তখন বিএসএফ জওয়ানরা তাকে ধরে ফেলে।

সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ”দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত আন্তর্জাতিক সীমান্তে এই ধরনের জঘন্য অপরাধের ঘটে চলেছে। দালালরা প্রায়  অর্থের লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশী মেয়েদের এভাবে পাচার করে এনে দেহ ব্যবসায় নামায়। তাই সীমান্তে মানব পাচার বন্ধ করতে সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার মানব-পাচার বিরোধী ইউনিটকে সক্রিয় করেছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More