চিনা ভ্যাকসিনের খুব বেশি সুরক্ষা শক্তি নেই, মানলেন বেজিংয়ের স্বাস্থ্যকর্তাই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের ক্ষেত্রে এমন স্বীকার বিরল, ব্যতিক্রমীই বটে। চিনের তৈরি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনগুলির তেমন কার্যকারিতা নেই, মানলেন সেদেশের শীর্ষ স্বাস্থ্যকর্তাই। সম্প্রতি চেংডু শহরে এক সম্মেলনে চায়না সেন্টারস ফর ডিসিজ কন্ট্রোলের ডিরেক্টর গাও ফু সবার সামনেই বলেছেন, চিনা ভ্যাকসিনগুলির খুব বেশি সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা নেই,  কার্যক্ষমতা কম। গাও অবশ্য বলেছেন, আমরা নানা টেকনিক্যাল পদ্ধতিতে তৈরি বিভিন্ন ভ্যাকসিন একসঙ্গে  মিলিয়ে ব্যবহার করব কিনা, সে ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ভাবনাচিন্তা চলছে।

এদিকে বেজিং কিন্তু ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় তৈরির চেষ্টার পাশাপাশি নিজেদের তৈরি লাখ লাখ ভ্যাকসিনের ডোজ বিদেশে পাঠিয়েছে। ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে আগের পরীক্ষামূলক আরএনএ বা এমআরএনএ পদ্ধতি ব্যবহার করে।

গাওয়ের মন্তব্য বা সম্ভাব্য সরকারি প্ল্যানে বদল নিয়ে প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিতে চাননি চিনা আধিকারিকরা। তবে আরেক সিডিসি কর্তা গবেষকরা এমআরএনএ-ভিত্তিক ভ্যাকসিনের ওপর কাজকর্ম চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। ওয়াং হুয়াগিং নামে ওই কর্তা বলেছেন, আমাদের দেশে তৈরি এমআরএনএ ভ্যাকসিনগুলিকেই ট্রায়াল পর্বের মধ্যে দিয়েই যেতে হয়েছে।

তবে বিভিন্ন ভ্যাকসিনের মিশ্রণ ঘটিয়ে কর্মক্ষমতা বাড়ানো যেতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। ব্রিটেনে যেমন গবেষকরা ফাইজার-বায়োএনটেক ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের সম্ভাব্য মিশ্রণের ওপর কাজ করছেন, খতিয়ে দেখছেন।

বেসরকারি চিনা কোম্পানি সিনোভ্যাক ও সরকারি মালিকানাধীন সিনোফার্মের তৈরি ভ্যাকসিনই প্রচুর সংখ্যায় মেক্সিকো, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, হাঙ্গেরি, ব্রাজিল সহ একাধিক দেশে পাঠিয়েছে চিন। সিনোভ্যাকের একটি ভ্যাকসিনের উপসর্গযুক্ত চলতি সংক্রমণ রোধের কার্যকারিতা ৫০.৪ শতাংশ বলে দেখেছেন ব্রাজিলের গবেষকরা।  কর্মক্ষমতা ৫০ শতাংশ থাকলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একটি ভ্যাকসিনকে  ব্যবহারযোগ্য বলে মনে করেন। সেই তুলনায় ফাইজার-বায়োএনটেক ভ্যাকসিন ৯৭ শতাংশ উপযোগী বলে দেখা গিয়েছে।

চিনা ভ্যাকসিনের আমেরিকা,  পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলি ও জাপানে অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতার ফলে বিক্রি হওয়া সম্ভব নয় বলে জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সিনোভ্যাক মুখপাত্র লি পেইচেং তাঁদের ভ্যাকসিনের কার্যক্ষমতার নানা ধরনের কথা মেনে নিয়ে বলেছেন, এটা হতে পারে একটি স্টাডিতে অংশগ্রহণ করা লোকজনের বয়স, ভাইরাসের স্ট্রেন ও আরও নানা ফ্যাক্টরের জন্য।

বেজিং চিনে ব্যবহারের জন্য কোনও বিদেশি ভ্যাকসিন এখনও অনুমোদন করেনি।

গাও বলেছেন, সকলেরই এমআরএনএ ভ্যাকসিন মানবজাতিকে যে সুফল দেবে, সেটা মাথায় রাখা উচিত। ইতিমধ্যেই নানা ধরনের  ভ্যাকসিন এসে গিয়েছে বলে এটাকে উপেক্ষা করা উচিত নয়, সাবধানতার সঙ্গে একে মানা উচিত।

অতীতে গাওই অবশ্য এমআরএনএ ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁকে উদ্ধৃত করে ডিসেম্বরে চিনা সংবাদ সংস্থা জিনহুয়া বলেছিল, প্রথম স্বাস্থ্যবান লোকের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে, তাই তিনি এর খারাপ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More