কী খারাপ একটা ভোট দেখল বাংলা, রবিবার শেষটা ভাল হবে তো!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে ‘শেষ ভাল যার সব ভাল’।

রবিবার বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণা। তার আগে এখন বড় প্রশ্ন ও কৌতূহল যে শেষটা অন্তত ভাল হবে তো!

গত বিশ বছরে এত খারাপ ভোট সম্ভবত এই প্রথম হল। প্রচারের শুরুতেই পায়ে চোট পান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা নিয়ে চাপানউতোর পরের বিষয়, বড় কথা হল শাসক দলের সভানেত্রীকে দেড় মাস ধরে প্রচার করতে হয় হুইলচেয়ারে বসে। তার পর প্রচার গড়াতেই কুকথার বন্যা। এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায়। এমনকী মন্ত্রীদেরও অশালীন ভাষায় গালমন্দ করতে দেখা গেল প্রচারে।

এমনিতেই বাংলার ভোট সংস্কৃতিতে রাজনৈতিক হিংসা পাকাপোক্ত বাসা বেঁধে ফেলেছে। কিন্তু এতদিন যা দেখা যায়নি এবার তাও বাদ যায়নি। প্রচারে বেরিয়ে রীতিমতো মার খেতে হয় বহু প্রার্থীকে। কখনও দেখা যায় বিজেপির মহিলা প্রার্থীকে পুলিশের সামনেই ঘাড়ে ধাক্কা দিচ্ছে এক বীর সন্তান। আবার এও দেখা গেছে তৃণমূল প্রার্থী প্রাণ হাতে করে আল ধরে ছুটছেন।

খোদ কলকাতায় বিজেপি প্রার্থীকে ভোটের দিন লাথি পর্যন্ত মারার ঘটনা ঘটেছে। আর এ সব যখন চলছে তখন কোভিড প্রাণ কেড়ে নিয়েছে একাধিক প্রার্থী ও রাজনৈতিক নেতার। তা ছাড়া মাইলফলক হিসাবে থেকে গিয়েছে শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চার জনের মৃত্যুর ঘটনা এবং তা নিয়ে রাজনীতি।

প্রচারের কদর্য ভাষা ও আচরণের পাশাপাশি এও দেখা গেছে যে রাজনীতির থেকে ক্রমশই যেন বড় হয়ে উঠছে ট্রিক্স। মিথ্যা তথ্য সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে, ফোনে কথোপকথন ফাঁস করে, ফটোশপ করা ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য রীতিমতো কারখানা তৈরি করে লড়াই হয়েছে সেয়ানে সেয়ানে।

প্রচার যখন এই স্তরে পৌঁছেছে তখন নির্বাচন কমিশনকেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হয়েছে নেতা নেত্রীদের প্রচারের উপর। আবার কমিশনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। কখনও সেই অভিযোগ তুলেছে শাসক দল, কখনও কড়া পর্যবেক্ষণ দিয়েছে আদালত।

এত কিছু খারাপের পর রবিবার ভোটের গণনা হবে। তার আগে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ শনিবার বলেছেন, ‘ফল ভাল হবে। এর পর আর দুষ্কৃতীদের গুলি বোমার আওয়াজ শোনা যাবে না রাজ্যে’। জয়ের ব্যাপারে প্রত্যয় দেখিয়েছেন তৃণমূল নেতারাও।

তবে রাজনৈতিক শিবিরেরই অনেকের আশঙ্কা, রবিবার ফলাফল যাই হোক রাজনৈতিক হিংসা এখনই হয়তো থামবে না। বরং ফল প্রকাশের পর তা নতুন করে শুরু হতে পারে। রাজ্য রাজনীতির এক প্রবীণ নেতার কথায়, প্রচলিত প্রবাদ আরও একটি রয়েছে। তা হল ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’। যতটা খারাপ ভোটের সময়ে দেখা গিয়েছে, ভোটের পরেও তেমনই চলতে পারে কয়েকদিন।

তাঁর মতে, এবার ভোটে যে হিংসা শুরু হয়েছে তা এখনই হয়তো থামার নয়। ভোটের পর সেই ধারা অব্যহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তাই পুলিশ প্রশাসনের উচিত হবে এখন থেকেই সতর্ক থাকা। আবার পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন, কোনও একটি দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে হয়তো পরিস্থিতি তবু নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। কিন্তু ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি হলে অস্থিরতা বাড়বে বই কমবে না।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More