গতিপথ বদলেছে সুবর্ণরেখা, উঠছে বালি চুরির অভিযোগ, সমাধান খুঁজছেন বাংলা-ওড়িশার প্রতিনিধিরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলার বিষয়টি নতুন নয়। রাজ্যে নদীগুলি থেকে মাফিয়াদের বালি চুরির দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। তাতে নদীগুলির গতিপথে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বলে দাবি পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের। ফলে নদী ভাঙনের ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ওড়িশা-বাংলার সীমান্তে থাকা সুবর্ণরেখা নদী নিয়েও এই ধরণের অভিযোগ উঠে এসছে। প্রত্যক্ষভাবেই দেখা গিয়েছে, বালি তুলে নেওয়ার ফলে সুবর্ণরেখার গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। তাই ২০১৮ সালেই সুবর্ণরেখার চড় থেকে বেআইনিভাবে বালি তোলা রুখতে পদক্ষেপ নিয়েছিল ন্যাশানাল গ্রীন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি)। ওই বছরে মামলাও হয়। সেই মামলার পর ট্রাইব্যুনাল ওড়িশা এবং বাংলাকে নদীর ক্ষতি রুখতে পরিকল্পনা করার নির্দেশ দিয়েছিল।

এনজিটির সেই নির্দেশকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর শহরে সার্কিট হাউসে দুই রাজ্যের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন, ওড়িশার বালেশ্বর জেলার অতিরিক্ত জেলা শাসক সম্বিত কুনার নায়েক, জলেশ্বরের তহসিলদার ক্ষীরদ কুমার পণ্ডা, সাব কালেক্টর ইশ্বর আশীষ প্যাটেল। অন্যদিকে, বাংলার প্রতিনিধি হিসেবে হাজির ছিলেন অতিরিক্ত ডিএলআরএস অরিন্দম মানি, এসআরও-২ হিতব্রত চন্দ্র, পশ্চিম মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলা শাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) তুষার শিংলা।

এদিনের বৈঠক শেষে বালেশ্বর জেলার অতিরিক্ত জেলা শাসক সম্বিত কুনার নায়েক বলেন, ” দুই রাজ্য এলাকার সমস্ত নথি ও ম্যাপ দেওয়া নেওয়া হয়েছে। দুপক্ষের অফিসাররা ওই এলাকায় সরজমিনে সেই সব ম্যাপ খতিয়ে দেখার পর ন্যাশানাল গ্রীন ট্রাইব্যুনালে তথ্য জমা দেওয়া হবে। তার পর ওই নদীর উপর ম্যাপে সীমানারেখা দিয়ে দেওয়া হবে।”

এদিন দুপক্ষই তাঁদের ম্যাপ নিয়ে হাজির হয়েছিলেন বৈঠকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৩টি এবং ওড়িশার ৯টি মৌজা নিয়ে একটা সিদ্ধান্তে এসেছে। সোমবার থেকে দুই রাজ্যের প্রতিনিধিরা সরজমিনে স্পট দেখার পর সীমানা দেওয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা শাসক (ভূমি ও সংস্কার) তুষার সিংলা বলেন, “ন্যাশানাল গ্রীন ট্রাইব্যুনালে মামলার পর বেশ কয়েকবার মিটিং হয়েছে দুই রাজ্যের মধ্যে। গত বছর জুলাই মাসে দাঁতন এলাকায় একটি মিটিং হয়েছিল। সীমানা নিয়ে যে সমস্যা ছিল তার সমাধান সূত্র মিলেছে। ম্যাপ ও জমির সম্পূর্ণ তথ্য দুই রাজ্যের মধ্যে পারস্পরিক আদান প্রদান হয়েছে। দুই রাজ্যের অফিসাররা সরজমিনে পরিদর্শন করবেন সোমবার থেকে। নদীর উপর সীমানা হয়ে গেলে রাজস্ব আদায় বাড়বে।”

উল্লেখ্য ২০১৮ সালে বালেশ্বর এক সমাজকর্মী সুদর্শন দাস ন্যাশানাল গ্রীন ট্রাইব্যুনালে। তাঁর অভিযোগ ছিল, ওড়িশার বালেশ্বর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন এলাকায় সুবর্ণরেখা নদী থেকে বালি তোলার ফলে নদীর পরিবেশ, ভৌগলিক অবস্থান, জল প্রবাহের গতি নষ্ট হচ্ছে। সুদর্শন দাসের সেই আপিলের ভিত্তিতে ন্যাশানাল গ্রীন ট্রাইব্যুনাল দুই রাজ্যকে বিষয়টি যৌথভাবে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More