‘দ্য ওডিসি’, মন ভাল রাখার কথা প্রচার করবেন বাঙালি দম্পতি, চললেন মধ্য এশিয়া

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘মন’, শরীরের সবথেকে গুরুত্ব অংশ, যাকে স্পর্শ করা না গেলেও অনুভব করা যায়। সেই মনকে ভাল রাখতে, মনের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখার জন্য উদ্যোগ নেন এক বাঙালি দম্পতি। লকডাউনে দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে থাকার ফলে মনের ওপরেও অনেকের প্রভাব পড়েছে। কোভিড পরবর্তী পৃথিবীতে মানসিক স্বাস্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আর সেই ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করতে চন্দননগরের বাসিন্দা, বাঙালি দম্পতি ড. দেবাঞ্জলি রায় এবং ব্যবসায়ী কৌশিক রায় এবছর পাড়ি দিচ্ছেন মধ্য এশিয়ার চারটি দেশে, যথাক্রমে – কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান ও তাজাকিস্তান। ১৮দিন ধরে ঘুরে প্রায় ৪০০০কিমি অতিক্রম করবেন তাঁরা, সঙ্গে থাকবে তাঁদের সাত বছর এবং দুই বছর বয়সী মেয়েরাও। তাঁদের এই ভ্রমণ পরিকল্পনার নাম “দ্য ওডিসি”।

গাড়ি করেই তাঁরা সফর করবেন মধ্য এশিয়াতে। এই বিষয়ে ডাক্তার দম্পতির বলেন, ”যে সমাজে আমরা বসবাস করছি তার প্রতি কিছু কর্তব্য থেকে যায় সবসময়, আর পৃথিবীকে যেহেতু এখন “গ্লোবাল ভিলেজ” হিসাবে ধরে নেওয়া হয়েছে তাই মানুষ তথা সমাজের প্রতি অবদান দেশ ও দেশের সীমানা ছাড়িয়ে যায়।”

সাম্প্রতিককালে মানসিক স্বাস্থ্যের থেকে অন্য কোনও বিষয়কে বেশি প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়নি তাঁদের। তাই এই ব্যাপারে সচেতনতা পৃথিবীর যে কোনও জায়গার মানুষেরই কাজে লাগবে বলে মনে করেন দম্পতি। ভ্রমণ হল মানসিক স্বাস্থ্যোন্নতির অন্যতম উপায়, তাই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ভার্চুয়াল বক্তৃতার চেয়ে এই মাধ্যমকেই বেছে নিয়েছেন তাঁরা।

এর আগেও ২০১৮-তে এই দম্পতি ব্যথার উপসর্গ এবং উপশমের ব্যাপারে সচেতনতা ছড়ানোর জন্য ৩০টি-রও বেশি দেশ ভ্রমণ করে প্রায় ৪৫,০০০কিমি যাত্রা করেছিলেন। এবছর তাঁদের উদ্দেশ্য মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি যাতে হয় সেই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। মধ্য এশিয়ার পর এই বছরের অগস্ট মাসে রাশিয়ার ব্লাডিভস্তক থেকে ট্রান্স সাইবেরিয়ান বরাবর গাড়ি নিয়ে ভ্রমণ ও সচেতননা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে এই বাঙালি দম্পতির।

ড. দেবাঞ্জলি রায়ের মতে “ভ্রমণ কখনই আমাদের কাছে সময়ের অপচয় অথবা নেহাতই রোজনামচার থেকে সময় বের করে ছুতে বেড়ানো নয়। আমরা নিজের অভিজ্ঞতা বাড়ানোর সঙ্গে অন্যের জীবনে আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে কীভাবে প্রভাব ফেলা যায় বা তাদের জীবনের কোনওভাবে উন্নতি করা যায় সেই বিষয়ে ভাবতেও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হই। আর সেই জন্যই “দ্য ওডিসি” বার বার পৌঁছে যাবে মানুষের প্রয়োজনে”।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More