সারা জীবন সংস্কৃত পড়েছি, কেউ মনে করায়নি আমি মুসলিম! আক্ষেপ বিএইচইউ-এর সেই অধ্যাপকের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা জীবন ধরে সংস্কৃত শিখে এসেছেন তিনি। কখনও অনুভব করেননি, তাঁর ধর্ম ‘ভিন্ন’! কিন্ত সারা জীবনে অর্জন করা সেই শিক্ষায় যখন অন্যকে আলোকিত করার সুযোগ পেলেন, তখনই তাঁর সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াল তাঁর ধর্ম! ঘটনায় কার্যত ভেঙে পড়েছেন ফিরোজ খান। যাঁর নিয়োগকে কেন্দ্র করে দিন কয়েক আগেই উত্তল হয়েছে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়। দাবি উঠেছে, সংস্কৃত পড়ানোর জন্য কোনও মুসলমান অধ্যাপককে নিয়োগ করা যাবে না!

৭ই নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন  ফিরোজ খান। খুব ভাল নম্বর নিয়ে শাস্ত্রী (স্নাতক), আচার্য (স্নাতকোত্তর), শিক্ষা শাস্ত্রী (বি.এড) ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। সংস্কৃত চর্চায় রীতিমতো পরিচিত নাম তাঁর। তাঁর বাবা রমজান খানও সংস্কৃতে স্নাতক। কিন্তু এমন শিক্ষিত ও যোগ্য হওয়ার পরেও ফিরোজ খান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে ধর্না। ছাত্রদের একাংশের দাবি, মুসলিম ধর্মের মানুষের কাছে সংস্কৃত পড়বেন না তাঁরা।

ঘটনার ধাক্কায় রীতিমতো স্তম্ভিত ফিরোজ। বন্ধ করে রেখেছিলেন নিজের মোবাইল। সামনেও আসেননি সংবাদমাধ্যমের। শেষমেশ একটি সর্বভারতীয় দৈনিককে ফিরোজ জানিয়েছেন, তিনি বহু বছর ধরে সংস্কৃত চর্চা করছেন। কিন্তু কখনও এরকম কোনও পরিস্থিতি বা অনুভূতির সম্মুখীন হননি।

বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটির সংস্কৃত বিদ‍্যা ধর্ম বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত ফিরোজ খানের কথায়, “আমি দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে সংস্কৃত শিখতে শুরু করেছিলাম। আমার এলাকায় প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম মানুষের বাস। কেউ কখনও আমায় বাধা দেননি এ নিয়ে, কোনও খারাপ কথাও বলেননি। কোনও মৌলবী, কোনও পড়শি– কেউ মনে করিয়ে দেননি, আমি মুসলিম। আমি যতটা সংস্কৃত জানি, ততটা কোরাণও জানি না। আমার এলাকার বিশিষ্ট হিন্দুরা সংস্কৃত এবং সাহিত‍্যে জ্ঞান থাকার জন্য আমার খুব প্রশংসাও করেন। অথচ এখন যখন শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছি, তখন আমার ধর্মটাই যেন একমাত্র বিষয় হয়ে ওঠেছে।”

ফিরোজ সংস্কৃতে পিএইচডি করেছেন ২০১৮ সালে। এ বছরই ১৪ অগস্ট  রাজস্থান সরকার তাঁকে সংস্কৃত যুব প্রতিভা পুরস্কার দিয়েছে। ফিরোজের নিয়োগ নিয়ে ঝামেলা চলার সময়ে অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্পষ্টই বলেছেন, সিলেকশন কমিটি ইউজিসির সমস্ত নিয়ম মেনেই তাঁকে নিয়োগ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সমস্ত ধর্ম, জাতি, সম্প্রদায়, লিঙ্গকে সমানাধিকার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

যদিও এ সবের পরেও ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছেন অধ্যাপক। তাই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছেন, “আমি ভাল পড়াতে পারলে ওরা নিশ্চয় আমায় পছন্দ করবে। তখন আমি নিশ্চয় ওদের মনের বাধা দূর করতে পারব।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More