কেউ কাউকে জায়গা ছাড়তে নারাজ, বর্ধমান উত্তরে জোর টক্কর দুই মাস্টারমশাইয়ের

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: দুজনেই শিক্ষক। মানুষ তৈরির কারিগর দুজনেই। দুজনের লড়াইও ফুল চিহ্নে। একজনের প্রতীক জোড়াফুল, অন্যজনের পদ্ম। এখানেই পার্থক্য।

বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে এবার নিয়ে তৃতীয় বারের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন নিশীথ মালিক। পদ্ম শিবিরের প্রার্থী রাধাকান্ত রায় এবারই প্রথম লড়ছেন বর্ধমান উত্তরে। আউসা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাধাকান্তবাবু। অন্যদিকে নিশীথ কুমার মালিক নান্দুর বিবেকানন্দ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষক। এবার দুই শিক্ষকের লড়াই নজর কাড়ছে বর্ধমান উত্তর বিধানসভায়।

গত বৃহস্পতিবার বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হয় রাধাকান্ত রায়ের।একদিন বিরতি দিয়ে শনিবার থেকে পুরোদস্তুর প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তিনি। শনিবারই দুর্গা মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন তিনি। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর দলীয় কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা সেরে নেন। তারপর বিকেল থেকেই জমজমাট প্রচারে নেমে পড়েন।

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়েছে আগেভাগেই। তাই নিশীথ মালিক ইতিমধ্যেই প্রচারে তুফান তুলেছেন। প্রতিদিনই বিধানসভা এলাকার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন নিশীথবাবু। কোন দিন মিটিং তো পরের দিন বাড়ি বাড়ি প্রচার, পাড়ায় পাড়ায় প্রচার সবেতেই তিনি জোর দিয়েছেন।

২০১১ সালে প্রথম নিশীথ মালিক বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হন। সেবার গোটা রাজ্যে পালাবদল হলেও উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র বামেরা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের কাছ থেকে এই আসনটি ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। জয়ী হন বর্ধমান উত্তরের শিক্ষক নিশীথ মালিক। এবারও তিনি ঘাসফুলের প্রার্থী। কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতা বাড়ায়। তার আগে পাহাড় আর সমতল মিলিয়ে বিজেপির দখলে ছিল মাত্র দুটি আসন। ১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে ১৮ টি আসন দখল করে বিজেপি। গত দু’বছর ধরে দুই দলের মধ্যে ভাঙাগড়ার খেলা চলছে। দলবদল করেছেন একাধিক নেতা কর্মী। গোটা রাজ্যের মতই বর্ধমান উত্তরেও বিজেপির শক্তি বৃদ্ধি হয়েছে। তাই এবার লড়াই জোরদার হওয়ারই সম্ভাবনা এই কেন্দ্রে।

নিশীথবাবু বলেন, ‘‘গত দশ বছরে গোটা রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যা উন্নয়ন হয়েছে, তাতে মানুষ আবার তৃতীয় বারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই জিতিয়ে মুখ্যমন্ত্রী করবেন। এলাকার রাস্তা, ঘাট, সেচনালা, পথবাতি সবেরই উন্নয়ন হয়েছে গত কয়েক বছরে। এলাকার বহু গরীব মানুষ বাংলা আবাস যোজনায় বাড়ি পেয়েছেন।’’

অপ্রাপ্তিতে ভরসা রাধাকান্তবাবুর। বর্ধমান উত্তর বিধানসভার মধ্যে দিয়ে গেছে রেলপথ। দুর্দশার নাম যদি হয় তালিত রেল গেট, তাহলে দুর্ভোগের আর এক নাম শক্তিগড় রেলগেট। রাধাকান্ত বাবু বলেন, ‘‘আমি যদি এই এলাকা থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হই, প্রথম কাজ হবে ফ্লাইওভারের জন্য তদ্বির করা। এলাকার বেশির ভাগ মানুষই কৃষি নির্ভর। সুতরাং কৃষির জন্য উন্নত সেচ ব্যবস্থা প্রয়োজন। আমি আশাবাদী এবার ঘাসফুল নয় বর্ধমান উত্তরে ফুটবে পদ্মফুল।’’

গত লোকসভা নির্বাচনের পর উত্তর বিধানসভা এলাকার হিরাগাছি, গাংপুর, আমড়া, স্বস্তিপল্লী কিংবা হলদি সহ বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির শক্তি বেড়েছে চোখে পড়ার মত। পাড়ায় পাড়ায় পদ্ম শিবিরের পার্টি অফিস তৈরি হয়েছে। সুতরাং লড়াই যে হবে তা নিয়ে কোনও সংশয় বা সন্দেহ নেই। তাই কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়তে নারাজ।

চৈত্রের রোদ মাথায় করেই লড়াই শুরু হয়ে গেছে দুই মাস্টারমশাইয়ের।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More