গবেষণার খরচ দিচ্ছেন বিল গেটস, করোনার ভ্যাকসিন তৈরি হতে পারে এক বছরের মধ্যে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : যদি সবকিছু ঠিকঠাক চলে, তাহলে আমরা এক বছরের মধ্যেই করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারব। খুব বেশি হলে লাগবে দু’বছর। এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকারে এমনই বললেন বিশ্বের দ্বিতীয় ধনীতম ব্যক্তি বিল গেটস। একটি মহল থেকে শোনা যাচ্ছে, আগামি সেপ্টেম্বরেই ভ্যাকসিন তৈরি শুরু হতে পারে। বিল গেটস সেকথা উড়িয়ে দেন।

হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরাস টাস্ক ফোর্সের সদস্য চিকিৎসক অ্যান্টনি ফসির কথা উল্লেখ করে বিল গেটস বলেন, আমরা দু’জনেই একটা ব্যাপারে একমত। দেড় বছরের মধ্যে ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যেতেই পারে। আমেরিকায় যেভাবে করোনাভাইরাসের টেস্ট হচ্ছে, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন বিল গেটস। গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইট করে বলেছিলেন, আমেরিকায় ৫০ লক্ষ মানুষকে টেস্ট করা হয়েছে। এই সংখ্যা যে কোনও দেশের চেয়ে বেশি। বিল গেটস বলেন, “শুধু কতজনকে টেস্ট করা হয়েছে, তার সংখ্যা দিয়েই কিছু প্রমাণ হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুল লোককে টেস্ট করা হয়েছে। তার রেজাল্ট জানতে লাগছে ২৪ ঘণ্টার বেশি। এতে টেস্টের কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে অনেকাংশে।”

লকডাউন কীভাবে তোলা উচিত এ সম্পর্কেও মতামত দেন বিল গেটস। তিনি বলেন, প্রথমে স্কুল খোলা উচিত। ম্যানুফ্যাকচারিং ও নির্মাণশিল্পেও কাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়া উচিত। কিন্তু এক্ষেত্রে মাস্ক পরে কাজ করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

করোনা অতিমহামারীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি। আমেরিকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষ। সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ৫৫ হাজার পেরিয়েছে ইতিমধ্যেই। মার্কিন মুলুকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মোট ৯,৮৭,৩২২। মৃত্যু হয়েছে ৫৫,৪১৫ জনের।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা বাড়ছে বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশে। স্পেনেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আড়াই লাখ পেরিয়েছে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা। স্পেনে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মোট ২,২৬,৬২৯। মৃত্যু হয়েছে ২৩,১৯০ জনের। ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে করোনায় মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ইতালিতে। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা এখনও দু লাখ ছাড়ায়নি। ইতালিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মোট ১,৯৭,৬৭৫। মৃত্যু হয়েছে ২৬,৬৪৪ জনের।

ফ্রান্স-জার্মানি এবং ব্রিটেনেও আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লক্ষ পেরিয়ে গেইয়েছে ইতিমধ্যেই। ফ্রান্সে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১,৬২,১০০। মৃত্যু হয়েছে ২২,৮৫৬ জনের। মৃতের সংখ্যার নিরিখে ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে ইতালি এবং স্পেনের পরে রয়েছে ফ্রান্স। এরপরেই রয়েছে ব্রিটেন। সেখানে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা মোট ১,৫২,৮৪০। মৃত্যু হয়েছে ২০,৭৩২ জনের। জার্মানিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১,৫৭,৭৭০। তবে এখানে আক্রান্তের সংখ্যার তুলনায় মৃতের সংখ্যা অনেকটাই। দুইয়ের মধ্যেই ফারাক আকাশ-পাতাল। জার্মানিতে কোভিড-১৯ সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৫,৯৭৬ জনের।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More