দলের অন্তর্ঘাতেই হারতে হল, বিস্ফোরক অভিযোগ জলপাইগুড়ির বিজেপি প্রার্থীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: অন্তর্ঘাতেই হারাতে হোলো জলপাইগুড়ি আসন। কার্যত স্বীকার করে নিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি। রিপোর্ট যাচ্ছে রাজ্য কমিটিতে।

জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা আসনে বিজেপি হারেনি। দলের কর্মীদের একাংশ পরিকল্পনা করে টাকার বিনিময়ে তৃণমূলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অন্তর্ঘাত করে মাত্র ৯৪১ ভোটে এই আসন হারিয়ে দিয়েছে। বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি প্রার্থী সৌজিত সিংহ। গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তিনি জেলা নেতৃত্বকে পাশে পাননি বলেও এক একান্ত সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন তিনি।

গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা আসনে অন্তত ৪১০০০ ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি। খুব স্বাভাবিক ভাবে এই আসনে জয় পাবে বলে আশাবাদী ছিলো গেরুয়া শিবির।

কিন্তু বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই হয় ছন্দপতন। প্রার্থী বদলের দাবিতে বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি দীপেন প্রামানিকের অনুগামীরা জেলা কার্যালয়ে ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ ওঠে। ক্ষোভ প্রশমনে আসরে নামে আরএসএস। তাঁরা দীপেন প্রামানিকের সঙ্গে বৈঠক করে ক্ষোভ প্রশমন করে। পরে তাদের সব সমস্যা মিটে গেছে বলে দাবি করে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দীপেন প্রামানিক ও বিজেপি নেতৃত্ব।

কিন্তু বাস্তবে গোটা ভোট প্রক্রিয়াতে জেলা নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে হাতে গোনা কিছু নেতা কর্মীদের পাশে নিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া সারেন বিজেপি প্রার্থী সৌজিত সিংহ। এদিন তিনি বলেন, “দলীয় নেত্রীত্বের একাংশের অন্তর্ঘাতের শিকার হয়েছি। এর ফলেই মাত্র ৯৪১ ভোটে জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা আসনে হার হয়েছে আমাদের। জলপাইগুড়ি শহরের মানুষ এবারেও বিজেপিকে ঢেলে ভোট দিয়েছে। কিন্তু হার হয়েছে গ্রামে। মজার ব্যাপার সেইসব গ্রামীণ এলাকায় বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। অনেকেই দাবি করেন তাঁরাই দলের পুরনো কর্মী। কিন্তু তাঁরাই যদি টাকার বিনিময়ে তৃণমূলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অন্তর্ঘাত করে তবে আর করার কিছু থাকে না।”

বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি বাপী গোস্বামীও অন্তর্ঘাতের বিষয়টি কার্যত স্বীকার করে নেন। তিনি বলেন,”জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা আসনে একটি গোঁজ প্রার্থী রয়ে গিয়েছিলেন। তাঁকে কারা দাঁড় করালো, আর কোন অঞ্চলে কী ফল হলো তার বিস্তারিত রিপোর্ট আমি দ্রুত রাজ্য কমিটিতে পাঠাবো। এরপর রাজ্য কমিটি যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা নেবে।”

ঘটনায় যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই দীপেন প্রামানিকের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয় নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More