১৫ দিনের মধ্যে ইস্তফা দেবেন দুই মন্ত্রী, মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির মতো পরিস্থিতি হবে, দাবি বিজেপির

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সোমবার ইস্তফা দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ। বৃহস্পতিবার রাজ্যের বিজেপি প্রধান চন্দ্রকান্ত পাতিল দাবি করলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্যের আরও দুই মন্ত্রী ইস্তফা দেবেন। মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার মতো অবস্থা সৃষ্টি হবে।

এনসিপি নেতা অনিল দেশমুখের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছিলেন মুম্বইয়ের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার পরমবীর সিং। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর ঘনিষ্ঠ পুলিশকর্মীদের সাহায্যে তোলাবাজ চক্র চালান। সেই চক্রের অন্যতম সদস্যের নাম সঞ্জয় ভাজ। তিনি শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি বাড়ির সামনে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি রাখার মামলায় বন্দি হয়েছেন।

বুধবার সঞ্জয় ভাজ অভিযোগ করেন, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ তাঁকে বলেছিলেন, পুলিশে চাকরি বজায় রাখতে গেলে ২ কোটি টাকা দিতে হবে। অপর মন্ত্রী অনিল পরব তাঁকে ঠিকাদারদের থেকে টাকা তুলতে বলেছিলেন। শিবসেনা নেতা অনিল পরব এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এদিন বিজেপি নেতা চন্দ্রকান্ত পাতিল সাংবাদিকদের বলেন, আগামী দিনে আরও অনেক কিছু ঘটবে। আপনারা জল্পনা-কল্পনা করতে থাকুন। পরে তিনি বলেন, “আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও দু’জন মন্ত্রী ইস্তফা দেবেন। কয়েকজন মিলে আদালতে দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে। ফলে তাঁরা ইস্তফা দিতে বাধ্য হবেন।” তিনি প্রশ্ন করেন, “রাজ্য সরকার যদি সব ব্যাপারেই কেন্দ্রীয় সরকারকে দোষ দেয়, তাহলে রাজ্য সরকারটাকেই কেন্দ্রের হাতে তুলে দিচ্ছে না কেন?”

অনিল দেশমুখের বিরুদ্ধে তিনি দ্বিচারিতার অভিযোগ করেন। তাঁর কথায়, “প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্তফা দেওয়ার সময় বলেছিলেন, সুষ্ঠুভাবে যাতে তদন্ত চলতে পারে সেজন্যই তিনি ইস্তফা দিচ্ছেন। কিন্তু তার দু’দিনের মাথায় তিনি সিবিআই তদন্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন।”

চন্দ্রকান্ত পাতিল অভিযোগ করেন, মহারাষ্ট্র বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের সময় রাজ্য সরকার সঞ্জয় ভাজকে রক্ষা করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সেজন্য ন’বার অধিবেশন স্থগিত রাখতে হয়। বিজেপি নেতার দাবি, রাজ্য সরকার সংগঠিত অপরাধে মদত দিচ্ছে।

নাগপুরে বিজেপির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ সাংবাদিকদের বলেন, সঞ্জয় ভাজ যে অভিযোগ করেছেন, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত।

গত মাসে ধনকুবের মুকেশ আম্বানির বাড়ির কাছে একটি বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি পাওয়া যায়। পরে ওই গাড়ির মালিক মনসুখ হিরানি খুন হন। বাণিজ্যনগরীর আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। তার জেরে মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনার পরমবীর সিংকে সরানো হয়। অনিল দেশমুখ বলেন, পুলিশ কমিশনারকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More