শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

‘মন্দির ওহি বানায়েঙ্গে’, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়কে জানিয়ে দিল যুব বিজেপি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্দির তৈরি করার কথা জানাল জেলা বিজেপি যুবশাখা। এবং এ বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। এমনকী তারা এমনও হুমকি দিয়েছে, কর্তৃপক্ষ কোনও সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে তারা নিজেদের মতো করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবে!

সূত্রের খবর, আলিগড়ের জেলা বিজেপি যুবশাখার পক্ষ থেকে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেই তারা একটি মন্দির তৈরি করতে চায়। এর জন্য কর্তৃপক্ষকে আলাদা করে জায়গা দিতে হবে তাদের। এই নিয়ে একটি অফিসিয়াল চিঠিও দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। ওই চিঠিতে যুব বিজেপি সদস্যদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখতে গেলে মন্দির নির্মাণ করাটা জরুরি।

ওই চিঠিতে আরও বলে দেওয়া হয়েছে মন্দির নির্মাণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে যুব কর্মীরা নিজেরাই তা করে নেবে।

বিজেপি যুব শাখার প্রেসিডেন্ট মুকেশ সিং লোধি এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে বিবেচনা করে দেখার জন্য। তার পরে চিঠির জবাব দিতে হবে তাঁদের। আর সে জবাব ইতিবাচক না হলে, আমরাই ক্যাম্পাসে মূর্তি স্থাপন করব। মন্দির বানিয়ে নেব।”

অনেকেই বলছেন, এ তো জোর করে মন্দির নির্মাণ করা। বিশ্ববিদ্যালয়কে নাম কা ওয়াস্তে চিঠি দিলেও, আসলে সে চিঠি কোনও প্রস্তাব দেওয়া বা অনুমতি চাওয়ার জন্য নয় বলেই অভিযোগ। চিঠিটা কেবল সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যা-ই ঠিক করুন না কেন, মন্দির শেষমেশ বানাবে বলেই ঠিক করেছে যুব বিজেপি। বিশ্ববিদ্যালয় না বানালে তারা নিজেরা বানাবে। চিঠিতে এমনই লেখা আছে।

বিজেপি যুব শাখার প্রেসিডেন্ট ভাইস চ্যান্সেলরকে আরও জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কোনও মন্দির না থাকায় পুজোর সময়ে হিন্দু ছাত্রদের বেশ অসুবিধে হয়। তাই তাদের ধর্মাচরণে যাতে বাধা না পড়ে, সে জন্য মন্দির নির্মাণ জরুরি। প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে তো বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মসজিদও গড়তে হয়, গড়তে হয় গির্জাও। গুরুদ্বারাও বাদ থাকার কথা নয়। কারণ ক্যাম্পাসে ধর্মাচরণের প্রশ্ন উঠলে, তা তো সব ধর্মের ছাত্রছাত্রীর জন্যই হওয়া উচিত। এবং তেমন হলে বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ধর্ম অভ্যাসের জায়গাই হয়ে উঠবে। পড়াশোনার জায়গা আর থাকবে না।

প্রসঙ্গত, লোকসভা নির্বাচনের মুখে তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের সংরক্ষণ না দেওয়া জন্য আলিগড় মুসিলম বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তার পরেই এই চিঠি।

Shares

Comments are closed.