শুভেন্দুর খোলাখুলি বিরোধিতায় রাজীব, মমতার সমালোচনা করায় আপত্তি পরাজিত বিজেপি সৈনিকের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যেন কে আগে প্রাণ করিবেক দান! মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায়কেও ছাপিয়ে গেলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ডাকে দিল্লি গিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। তার পর সাংবাদিকদের বলেছেন, বাংলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ। রাজনৈতিক খুন-সন্ত্রাস-হিংসার ঘটনা অব্যাহত। সংবিধানের ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের থেকেও খারাপ অবস্থা।

সে ঘটনার পর কয়েক প্রহরও কাটেনি, ফেসবুকে পোস্ট করে ফোঁস করে উঠলেন বিজেপির নব্য নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “মানুষের বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আসা নির্বাচিত সরকারের ও মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করতে গিয়ে, কথায় কথায় দিল্লি আর ৩৫৬ ধারার জুজু দেখালে মানুষ ভাল ভাবে নেবে না”। বরং রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কোভিড ও ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন রাজীব।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এ কথা অনস্বীকার্য যে তৃণমূল বাংলায় ফের সরকার গঠনের পর থেকেই কখনও সিবিআই, কখনও রাজ্যপালের টুইট, কখনও বা কেন্দ্রের চিঠি—যে ভাবে নবান্নকে ব্যস্ত করে রেখেছে, তার মধ্যে অনেকেই বিজেপির অসহিষ্ণুতাকে দেখতে পাচ্ছেন। তাঁরা মনে করছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই এই সব পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এই সরকারকে দু’দণ্ড তিষ্ঠতে দেবে না বিজেপি। আবার পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এ সব হয়তো শুধু রাজ্য বিজেপির কথা ভেবে দিল্লি করছে না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জাতীয় স্তরে আরও বড় ভূমিকায় উত্থানের পথ অমসৃণ করতেই তা করা হচ্ছে।

কিন্তু এ সব যেমন ঠিক, তখন কারও কারও মতে এও ঠিক যে শুভ্রাংশু ও রাজীবের এ ধরনের পোস্ট বেমানান এবং কোথাও যেন সুবিধাবাদী রাজনীতির ঘ্রাণ রয়েছে। কারণ, এতে সন্দেহ বাড়ছে যে দলকে পরামর্শ দেওয়ার তুলনায় তৃণমূল নেতৃত্বের নেক নজরে পড়ার তাগিদটাই বেশি। তাঁদের মতে, বাংলায় রাজনৈতিক হিংসার পরম্পরা নতুন নয়। আগে বাম সন্ত্রাসে আক্রান্ত হতেন তৃণমূল কর্মীরা। এখন বিজেপির অভিযোগ, বিক্ষিপ্ত ভাবে উত্তর থেকে দক্ষিণে তাঁদের কর্মীরা প্রতিদিন আক্রমণের মুখে পড়ছেন। হাইকোর্টের নির্দেশের পরে বাস্তবে বিশেষ ফারাক হয়নি। দলের নেতারা তাঁদের কর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন, সেটাই স্বাভাবিক।

রাজীবের এই পোস্টে বিজেপি নেতারা যে অসন্তুষ্ট তা নিয়ে সংশয় নেই। দলের এক সাংসদ বলেন, রাজীবের কথা শুনে অবাক হয়ে যাচ্ছি। বিধানসভা ভোটের আগে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সামনে তাঁর আত্মবিশ্বাস ও প্রত্যয়ের কথা এখনও মনে আছে। সেই বৈঠকে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁদের সকলেরই তা মনে থাকার কথা। তার পর বিধানসভা নির্বাচনে চল্লিশ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাস্ত হয়েই ভোল পাল্টে গেছে দেখছি। কেন এমন হচ্ছে, নিশ্চয়ই সকলেই তা বুঝতে পারছেন।

রাজ্য রাজনীতির অনেকেই মনে করছেন, শুভ্রাংশু রায় তৃণমূলে ফেরার চেষ্টা করছেন। সেই চেষ্টা শুরু করে দিয়েছেন রাজীবও। একটি সূত্রের দাবি, রাজীব ইতিমধ্যে তৃণমূলকে ফিলার পাঠিয়েছেন। এমনকি শান্তিপুর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইছেন। তবে তৃণমূলের মধ্যে শীর্ষ নেতৃত্বের এ ব্যাপারে পাল্টা চাপ রয়েছে। নিচুতলার বহু নেতা কর্মীর দাবি, বিজেপি থেকে কেউ তৃণমূলে আসতে চাইলে তাঁকে নেওয়া হোক। কিন্তু তৃণমূল থেকে যাঁরা বিজেপিতে গিয়েছেন, তাঁদের দলে ফেরত নেওয়া যাবে না।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More