কাজে লাগল না মোদী ম্যাজিক, প্রধানমন্ত্রীর সভা করা বেশিরভাগ কেন্দ্রেই হার বিজেপির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাসের পর মাস খেটেও মিলল না জয়ের রাস্তা। ২ মে বেলাশেষে একুশের মহারণের ফলাফল বলছে, তৃণমূল শুধু জয়ীই নয়, একেবারে গো-হারা হেরেছে বিজেপি। ডাহা ফেল করেছে মোদী শাহের নির্বাচনী রণকৌশল।

তবে একথা সত্যি, পশ্চিমবঙ্গের মসনদ দখলের লড়াইয়ে আদাজল খেয়ে লেগেছিল গেরুয়া শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বাংলায় মোট ২২টি জনসভা করার কথা ছিল শুধুমাত্র নরেন্দ্র মোদীরই। ১২ বার রাজ্য সফরে আসার কথা ছিল তাঁর। যদিও শেষ দিকে কোভিডের বাড়বাড়ন্তের কারণে প্রধানমন্ত্রীর বেশ কিছু সফর বাতিল হয়ে যায়। ২২ গিয়ে ঠেকে ১৮-তে। ভার্চুয়াল মাধ্যমেও বেশ কিছু বক্তৃতা রাখেন মোদী।

আর শুধু তো নরেন্দ্র মোদী নন, বাংলার প্রচারে সময় দিয়েছিলেন অমিত শাহ, স্মৃতি ইরানি, রাজনাথ সিং, জেপি নাড্ডা, কৈলাশ বিজয়বর্গীয় এমনকি যোগী আদিত্যনাথও। তবে বিজেপি বরাবরই বড়াই করে থাকে মোদী ম্যাজিকের। গেরুয়া প্রচারে ঝড় উঠেছিল যেসব কেন্দ্রে, আদতে কেমন হল তাদের ফলাফল? ম্যাজিক কি দেখা গেল?

বলা বাহুল্য, ২ মে-র ফলাফলে গায়েব সব ম্যাজিক। হাতে রয়েছে শুধু নন্দীগ্রাম আর হলদিয়া। ৭ ফেব্রুয়ারি এই হলদিয়াতেই প্রথম নির্বাচনী জনসভাটি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি প্রার্থী তাপসী মন্ডল সেখানে জিতেছেন ১ লক্ষ ৩ হাজার ৪৮৯ ভোটে। কাঁথিতে সভা ছিল ২৪ মার্চ। কাঁথি উত্তর বা দক্ষিণে জয় আসেনি। তবে নাটকীয় ভাবে নন্দীগ্রামে শেষ বেলায় জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমোকে পরাজিত করেছেন তিনি।

এর আগে হুগলিতেও লকেট চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে সভা করেন মোদী। ২২ ফেব্রুয়ারির সেই সভা বিশেষ দাগ কাটতে পারেনি জনমনে। লকেট হেরেছেন প্রায় ১৮ হাজার ভোটে। হুগলিতে কার্যত ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির।

১৮ মার্চ পুরুলিয়া আর ২১ মার্চ বাঁকুড়ায় সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এই দুই এলাকাতেই বিজেপির পরাজয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ লোকসভায় এখানে তৃণমূল কংগ্রেসকে রীতিমতো পিছনে ফেলে দিয়েছিল গেরুয়া দল। ২০ মার্চ খড়গপুরের সভা অবশ্য হিট। তারকা প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায় খড়গপুর সদরে জয় পেয়েছেন। এছাড়া মার্চের ৭ তারিখ কলকাতায় ছিল বিজেপির ব্রিগেড সমাবেশ। সেখানেও হাজির ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তবে কলকাতাতেও একেবারেই আশানুরূপ হয়নি গেরুয়া শিবিরের ফলাফল।

১ এপ্রিল নরেন্দ্র মোদীর সভা ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে। সভা করেছিলেন হাওড়ার উলুবেড়িয়া ও ডুমুরজলাতেও। তবে সব জায়গাতেই পরাজিত হয়েছেন গেরুয়া প্রার্থীরা।

কৃষ্ণনগরের মোদীর সভা কিছুটা হলেও সফল বলা যায়। কারণ তৃণমূলের তারকা প্রার্থী কৌশানী মুখার্জীর বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর উত্তরে জয় পেয়েছেন মুকুল রায়। তবে দক্ষিণে ফের হার হয়েছে বিজেপির। কল্যাণীতে মোদীর সভার পর জিতেছেন গেরুয়া প্রার্থী অম্বিকা রায়। আসানসোল দক্ষিণে জয় এসেছে অগ্নিমিত্রা পলের হাত ধরে। তবে ভরাডুবি অব্যাহত বারাসাতে।

মোদী ম্যাজিক অবশ্য কিছুটা কাজ করেছে উত্তরবঙ্গে। শিলিগুড়ি, কোচবিহারে সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দার্জিলিং জেলার সবকটি আসনেই তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে জিতেছে গেরুয়া শিবির। জয় এসেছে কোচবিহার উত্তরেও।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More