মেয়েদের জন্য একরাশ প্রতিশ্রুতি ইস্তেহারে, নারীশক্তিই পাখির চোখ বিজেপির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘বাংলা নিজের মেয়েক’ চাই বলে প্রচার করছে তৃণমূল। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের ভোট প্রচারেই হোক বা ইস্তেহারে, বাংলার মা-বোনেরা বারবার আসছে সামনের সারিতে।

মুখ্যমন্ত্রী কখনও বলছেন রান্না করতে করতে গৃহবধূদের তেড়ে যাওয়ার কথা, আবার ইস্তেহারে ঘোষিত ‘পকেট মানি’ কখনও বদলে যাচ্ছে বাড়ির মহিলাদের হাতখরচায়। কখনও আবার এ রাজ্যের নারীসুরক্ষা যে অন্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির চেয়ে অনেক ভাল, সেকথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন তৃণমূলের নেতামন্ত্রীরা।

এমনই পরিস্থিতিতে ইস্তাহার ঘোষণা করল বিজেপি। আর তাতে উপচে পড়ল বাংলার মেয়েদের জন্য মনমোহিনী সব প্রকল্প এবং প্রতিশ্রুতি। মহিলাদের গুরুত্ব দেওয়ার ব্যাপারে যে বিজেপি কোনও ভাবেই পিছিয়ে নেই, তাই যেন এদিন বোঝাতে চাইলেন অমিত শাহ্।

আজ বিকেলে সল্টলেকের ইজেডসিসি-তে ইস্তেহার ঘোষণা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শিক্ষা থেকে চাকরি, সংরক্ষণ থেকে স্বাস্থ্য– সব ক্ষেত্রেই মহিলারা অগ্রাধিকার পেলেন, পেলেন একগুচ্ছ সুবিধা।

অমিত শাহর ঘোষণা করা ইস্তেহার অনুযায়ী, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বালিকা আলো প্রকল্পের আওতায় জন্মের পর থেকেই রাজ্যের কন্যাদের একটানা আর্থিক সহায়তা করা হবে।

‘বালিকা আলো’ প্রকল্পের অধীনে কোনও পরিবারে কন্যাসন্তান জন্মালে ৫০,০০০ টাকার বন্ড দেবে রাজ্য সরকার। এছাড়া কন্যা সন্তান ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠলে ৩,০০০ টাকা, নবমে ৫,০০০ টাকা, একাদশে ৭,০০০ টাকা ও দ্বাদশে ৭,০০০ টাকা করে পাবে। ১৮ বছর বয়সে দ্বাদশ শ্রেণির পাশ করার পর সে অবিবাহিত থাকলে তাকে ২ লক্ষ টাকা দেবে সরকার।

এছাডা়ও ‘ঘরের লক্ষ্মী’ নামে একটি প্রকল্পে বিয়ের সময় তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং ওবিসি মেয়েদের নামে ১ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট করে দেবে সরকার।

তৃণমূল সরকারের কন্যাশ্রী প্রকল্পে এখন বছরে ১,০০০ টাকা করে অনুদান দেয় সরকার। সঙ্গে দ্বাদশ পাশের পর মেলে ২৫,০০০ টাকা। রূপশ্রী প্রকল্পে বিয়ের জন্য আরও ২৫,০০০ টাকা দেয় রাজ্য সরকার।

বলাই বাহুল্য, বিজেপির আর্থিক অনুদানের প্রতিশ্রুতি তার থেকে কয়েক গুণ বেশি।

এছাড়াও প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর (কেজি থেকে পিজি) পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত মেয়ের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা আনবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। সেই সঙ্গে, রাজ্য সরকারি চাকরিতে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ আসনও সংরক্ষিত থাকবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষা ও চাকরির পাশাপাশি, সমস্ত মহিলাকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হবে, যার মধ্যে থাকবে ওপিডি ও উন্নত চিকিৎসা দুইই।

ইস্তেহারের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি হল, সমস্ত মহিলার জন্য বিনামূল্যে সবরকম পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াতের কথা ঘোষণা করছেন অমিত শাহ।

এসবের পাশাপাশি আনা হবে মিশন আত্মনির্ভর মহিলা, যাতে মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। বিধবা ভাতা প্রতি মাসে এক হাজার থেকে বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা করা হবে। আশা কর্মীদের বর্তমান স্থায়ী মাসিক সাম্মানিক সাড়ে চার হাজার টাকা, সেটিও বাড়িয়ে ৬,০০০ করা হবে।

বাদ নেই নারীসুরক্ষার দিকটিও। জানা গেছে, রাজ্য পুলিশে ৯টি মহিলা পুলিশ ব্যাটেলিয়ন গঠন এবং রাজ্য সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীতে ৩টি মহিলা ব্যাটেলিয়ন গঠন করা হবে বিজেপি ক্ষমতায় এলে।

সবমিলিয়ে, নারীশক্তিকে দৃঢ় করার যে অঙ্গীকার বিজেপি আজকের ইস্তেহারে প্রকাশ করেছে, তা অনেকের কাছেই প্রশংসনীয়। যদিও এর পরেই পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বিজেপি কার্যত নকল করেছে তৃণমূলের ইস্তেহার। কিন্তু সে বিতর্ক থাক, নারী-মূল্যায়ণ যে যুযধান দলগুলির প্রতিশ্রুতির অনেকটা অংশ নিয়ে থাকছে, তাই দেখেই খুশি অনেকে। কীসের কতটা বাস্তবায়ন হবে সে উত্তর সময়ই দিতে পারবে।

একনজরে দেখে নিন, মেয়েদের জন্য কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি।

  • রাজ্য সরকারি চাকরিতে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ।
  • প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর (কেজি থেকে পিজি) অবধি সমস্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা।
  • সমস্ত মহিলাদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান, যার মধ্যে ওপিডি ও উন্নত চিকিৎসা।
  • সমস্ত মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে সকল পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াত।
  • মিশন আত্মনির্ভর মহিলা – মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী গুলির জন্য ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।
  • বালিকা আলো – মেয়েদের অবিচ্ছিন্ন আর্থিক সহায়তা এবং ১৮ বছর বয়সে ২ লক্ষ টাকা প্রদান।
  • বিধবা ভাতা প্রতি মাসে ১,০০০ থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা।
  • রাজ্য পুলিশে ৯টি মহিলা পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠন এবং রাজ্য সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীতে ৩টি মহিলা ব্যাটালিয়ন
  • আশা কর্মীদের বর্তমান স্থায়ী মাসিক সাম্মানিক ৪,৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৬,০০০ টাকা করা।
You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More