পাঞ্জাবে বিজেপি বিধায়ককে মারধর, জামা ছিঁড়ে দিলেন কৃষকরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে ১০০ দিনের বেশি টানা লড়াই করছেন কৃষকরা। শনিবার একদল কৃষক পাঞ্জাবের মুক্তসর জেলার মালউত অঞ্চলে বিজেপির বিধায়ক অরুণ নারাঙ্গকে মারধর করেছেন। তাঁর জামাও ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনার নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

পুলিশ জানিয়েছে, এদিন আবোহর কেন্দ্রের বিধায়ক অরুণ নারাঙ্গ বিজেপির কয়েকজন স্থানীয় নেতাকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করছিলেন। এমন সময় কয়েকজন কৃষক তাঁর দিকে কালি ছুড়ে দেন। উপস্থিত পুলিশকর্মীরা বিধায়ক ও বিজেপি নেতাদের নিয়ে একটি দোকানে ঢুকে পড়েন। তাঁরা যখন দোকান থেকে বেরোচ্ছেন, তখন একদল কৃষক ফের তাঁদের আক্রমণ করেন। তখনই বিধায়ককে মারধর করা হয়। তাঁর জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়। পরে বিধায়ককে ঘিরে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যায় পুলিশ।

মালাউত পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট যশপাল সিং বলেন, বিক্ষোভকারীরা বলছিলেন, তাঁরা কিছুতেই বিজেপি বিধায়ককে সাংবাদিক বৈঠক করতে দেবেন না। মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং বলেছেন, কেউ যদি রাজ্যের শান্তি বিঘ্নিত করতে চায়, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও-য় দেখা যায়, অরুণ নারাঙ্গের জামা ছিঁড়ে গিয়েছে। তাঁকে পুলিশ ঘিরে রয়েছে। পরে বিধায়ক বলেন, তাঁকে ঘুষি মারা হয়েছে। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন কি? তিনি বলেন, দলের নেতৃত্বের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।

কৃষক সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার নেতা দর্শন পাল বলেন, আজ কৃষকরা আবহোরের বিধায়কের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। সেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। বিধায়ককে শারীরিক নিগ্রহ করা হয়। আমরা এই ধরনের কাজ সমর্থন করি না।

ইতিমধ্যে কৃষক আন্দোলনের পক্ষে মুখ খুলেছেন মেঘালয়ের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক। একইসঙ্গে তিনি কড়া ভাষায় বিজেপির সমালোচনা করেছেন। তাঁর ধারণা, কৃষক আন্দোলনের জেরে উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান এবং হরিয়ানায় মোদীর দলের জনসমর্থন রীতিমতো হ্রাস পাবে।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “কৃষক আন্দোলন যদি আরও কিছুদিন চলে, তাহলে রাজস্থান, হরিয়ানা ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে বিজেপির প্রভাব কমবে।” সত্যপাল মালিক জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে কৃষক আন্দোলন নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর কথায়, “কৃষকদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। সরকারের অবিলম্বে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা উচিত।”

রাজ্যপালকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি একটি সাংবিধানিক পদে থেকে সরকারের বিরুদ্ধে মন্তব্য করছেন কীভাবে? তিনি বলেন, “সরকার যদি মনে করে আমি তাদের ক্ষতি করছি, তাহলে পদত্যাগ করব। রাজ্যপাল পদে না থাকলেও আমি মতামত প্রকাশ করব।”

পরে তিনি বলেন, কৃষকদের দূরবস্থা চোখে দেখা যায় না। বিজেপি নেতারা গ্রাম ছেড়ে বেরোতে পারছেন না। অনেক জায়গায় বিজেপির বিধায়কদের মানুষ মারছে। যারা এই সমস্যার সমাধান চায় না, তারাই সরকারের ক্ষতি করছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More