প্রথম দিন ভ্যাকসিন নিলেন বিজেপির এমপি, তৃণমূলের বিধায়ক

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দেশ জুড়ে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হওয়ার দিনই টিকা নিলেন বিজেপি নেতা মহেশ শর্মা। তিনি উত্তরপ্রদেশের গৌতমবুদ্ধ নগরের সাংসদ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগেই বলেছিলেন, প্রথম দফায় কোনও রাজনীতিক টিকা নেবেন না। কিন্তু মহেশ শর্মা রাজনীতিক হিসাবে নন, স্বাস্থ্যকর্মী হিসাবে টিকা নিয়েছেন।

মহেশ শর্মা পেশায় চিকিৎসক। তিনি নয়ডার সেক্টর ২৭-এ এক হাসপাতালে টিকা নেন। ৬১ বছর বয়সী মহেশ শর্মাকে টিকা দেওয়ার পরে ৩০ মিনিট অবজারভেশনে রাখেন চিকিৎসকরা। পরে মহেশ শর্মা হিন্দিতে টুইট করে বলেন, “আজ কোভিড ১৯ অতিমহামারীর শেষের শুরু হল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশ্বের বৃহত্তম টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা করেছেন।” পরে তিনি লেখেন, “চিকিৎসক হিসাবে আমি ভ্যাকসিন নিয়েছি। এখন ভালই বোধ করছি। এই ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ নিরাপদ। সকলেরই ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত।”

পশ্চিমবঙ্গে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ও এদিন ভ্যাকসিন নিয়েছেন। তিনি রোগী কল্যাণ কমিটির সদস্য হিসাবে টিকা নেন। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দেন, যাঁরা আগে ভ্যাকসিন পাবেন সরকার তাঁদের তালিকা তৈরি করেছে। তাঁদের মধ্যে আছেন ১ কোটি স্বাস্থ্যকর্মী ও আরও ২ কোটি করোনাযোদ্ধা। পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স কর্মী ও সাফাইকর্মীদের সম্মুখ সারির করোনা যোদ্ধা হিসাবে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তি এবং পঞ্চাশের নীচে যাঁদের বয়স কিন্তু কোনও গুরুতর রোগ আছে, তাঁদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। জুলাইয়ের মধ্যে ৩০ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।

এদিন সকালে ভারতে প্রথম ভ্যাকসিন নিয়েছেন দিল্লির এইমসের সাফাইকর্মী মনীশ কুমার। এদিন মণীশ যখন ভ্যাকসিন নেন তাঁর সামনেই দাঁড়িয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাক্তার হর্ষবর্ধন। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর মণীশের পিঠ চাপড়ে দেন তিনি। তারপরেই এইমসের ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া ভ্যাকসিন নেন। কেন্দ্রীয় সরকার প্রথমেই জানিয়েছিল কোভিড যুদ্ধে সামনের সারির সেনানী তথা ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কাররাই প্রথমে ভ্যাকসিন নেবেন। তিন কোটি যোদ্ধাকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।

এদিন ভিডিও বার্তায় এই টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “এই কঠিন সময়ে কিছু মানুষ আমাদের আশা দেখিয়েছিলেন। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডাক্তার, নার্স, অ্যাম্বুল্যান্স ড্রাইভার, আশা কর্মী, সাফাই কর্মী, পুলিশ ও অন্যান্য ফ্রন্টলাইন কর্মীরা আমাদের বাঁচিয়েছেন। মানবিকতার জন্য নিজেদের কাজকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের পরিবার, সন্তান, বাড়ি-ঘর সবকিছু থেকে তাঁরা দিনের পর দিন দূরে থেকেছেন। কত মানুষ আর বাড়িই ফেরেননি। তাঁরা নিজেদের জীবন বলিদান দিয়েছেন। তাই আজ স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রথমে টিকা দিয়ে দেশ তাঁদের ঋণ শোধ করছে।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More