কাঁকুড়গাছিতে ‘খুন’ বিজেপি কর্মী, ভোটের ফলের পরে রাত পোহাতেই রাজ্যজুড়ে বিক্ষিপ্ত হিংসা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটযুদ্ধ শেষ। ব্যালট বাক্সের জনাদেশ মাথায় নিয়ে ফের রাজ্যের মসনদে বসতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোভিড দুর্যোগের আবহে রাজ্যজুড়ে তৃণমূলকর্মীদের উৎসব-উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়লেও সংঘর্ষের ঘটনা কিন্তু এড়ানো গেল না।

বাংলার বিভিন্ন অংশে গতকাল থেকেই তৃণমূল-বিজেপি বিক্ষিপ্ত সংঘাতের খবর আসতে থাকে। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাটি ঘটেছে কাঁকুড়গাছিতে। সেখানে শীতলতলা লেন এলাকায় এক বিজেপি কর্মীকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের একাংশ। বিজেপি সূত্রে দাবি, মৃত ব্যক্তির নাম অভিজিৎ সরকার। বছর তিরিশের অভিজিৎ অনেক দিন ধরেই স্থানীয় বিজেপি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। রবিবার রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ।

মৃত বিজেপি কর্মীর পরিবারের দাবি, তৃণমূল প্রার্থী পরেশ পালের জয়লাভের খবর চাউর হতেই তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয় একদল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী। চলে ভাঙচুর। সেই সময় অভিজিৎবাবু হামলার ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করছিলেন। ফেসবুক লাইভেও আসেন তিনি। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমার একের পর এক বাড়ি, এনজিও অফিস ভেঙে দিচ্ছে। বেলেঘাটার ৩০ নং ওয়ার্ডে স্বপন সমাদ্দার ও পরেশ পালের নেতৃত্বে নারকেলডাঙা পুলিসের সামনে ঘরদোর ভাঙচুর করে দিল। নিরীহ কুকুরদেরও পিটিয়ে মেরে দিল। এরা কি মানুষ? যে যে রাজনীতিই করুক। আমার তাতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু এরা মুড়ি-মুড়কির মতো বোম মারছে, কুকুরদের হত্যা করছে।”

অভিযোগ, ঠিক তখনই বেশ কয়েকজন মিলে ঘরে ঢুকে পড়ে। তারপর ওই বিজেপি কর্মীকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে গিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে তার পেঁচিয়ে খুন করা হয়। ইতিমধ্যে বিজেপির তরফে দায়ের করা এফআইআর পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কাঁকুড়গাছি থানার পুলিস। যদিও এখন পরিস্থিতি বদলায়নি। সোমবার সকালেও গোটা এলাকা কার্যত থমথমে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটা বড় অংশ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে রবিবার দুপুরে ভোটের সার্বিক ফলাফলের ছবি সামনে আসার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সল্টলেক, নিউটাউন। আসতে থাকে একের পর এক সংঘর্ষের খবর। নির্বাচনের আগে থেকেই তেতে ছিল এই দুটি অঞ্চল। রেজাল্ট বেরোতে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সুকান্তনগর, পাথরঘাটার মতো এলাকা। সুকান্তনগরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে এক পার্টিকর্মীর বাড়ি ভাঙার অভিযোগ তোলে বিজেপি। অন্যদিকে নিউটাউনে দলীয় কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।

আবার এর উলটো ছবি ফুটে উঠেছে বালিগুড়ি, ভাঙড়ে। সেখানে আইএসএফ কর্মীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছে খোদ তৃণমূল। ভাঙড় কেন্দ্রে আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকি জয়লাভের পরেই সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছিল। সন্ধের দিকে তা ভয়াবহ চেহারা নেয়। তৃণমূল শিবিরের দাবি, আইএসএফ বাহিনীর হাতে মার খেয়ে তাদের দু’জন কর্মী গুরুতর জখম। একজনের মাথা ফেটে গেছে। সকলকে ইতিমধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কলকাতার বাইরে জেলার ছবিটাও দিনভর মোটামুটি একরকম ছিল। যেমন মুর্শিদাবাদের কান্দিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বোমাবাজির অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। একাধিক পার্টিকর্মীর বাড়িতে শাসক দলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বোমা ফেলে বলে বিজেপির তরফে দাবি। যদিও তাদের নামে ওঠা সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করেছে স্থানীয় তৃণমূল শিবির।

গতকাল ভোট গণনাকে ঘিরে নন্দীগ্রামে টানটান উত্তেজনা ছিল। হাইভোল্টেজ এই কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাস্ত করে শেষ হাসি হাসেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল সুপ্রিমোর পরাজয়ের খবর আসতেই সেখানকার পরিস্থিতি বদলে যায়। উঠতে থাকে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ। যার জেরে নন্দীগ্রামের গড়চক্রবেড়িয়া ভূতা মোড়ে পথ অবরোধ শুরু করেন তৃণমূলকর্মীরা। বিক্ষোভ এখনও চলছে। ফলে নন্দীগ্রাম-সোনাচূড়া সড়কে যান চলাচল আপাতত বন্ধ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More