শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

ময়দানে চলছে মোদীর বক্তৃতা, আকাশ জুড়ে উড়ছে কালো বেলুন!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরোধী নেতাকে প্রতিবাদ জানাতে কালো পতাকা প্রদর্শন রাজনীতির লড়াইয়ে খুবই পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু এবার একই কারণে আকাশ জুড়ে কালো বেলুন উড়তে দেখল ত্রিপুরাবাসী। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার আগরতলার বিবেকানন্দ ময়দানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময়ে আগরতলা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে কে বা কারা কালো বেলুন ওড়ায় আকাশে।

তবে কারা এমন করল তা নিয়ে পুলিশ ধোঁয়াশায় থাকলেও, গত কালই কংগ্রেসের তরফে এমন কিছু করার পরিকল্পনা জানানো হয়েছিল। এবং পরকল্পনা মতোই, মোদীর চোখের সামনে আগরতলা রাজবাড়ি থেকে উড়ল শ’খানেক কালো বেলুন। উজ্জয়ন্ত প্রাসাদের সাদা গম্বুজের উপর দিয়ে উড়ে গেল সেই কালো গ্যাস বেলুন। প্রধানমন্ত্রী সেই সময়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন।

ত্রিপুরার বর্তমান মহারাজা তথা কংগ্রেস নেতা প্রদ্যোত কিশোর কিছু দিন ধরেই বিভিন্ন জায়গায় নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে সভা করছেন। বিল প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছেন। অসম, অরুণাচল বা ত্রিপুরায় নাগরিকত্ব বিল নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও সভা বয়কটের জবাবে প্রদ্যোতের ঘোষণা, “ভারতে অনুপ্রবেশকারীদের স্থান নেই। কিন্তু ভারত দখলের উদ্দেশে আসা অনুপ্রবেশকারী ও অত্যাচারিত আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে তফাৎ আমাদের বুঝতে হবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা বাধ্য হয়ে এদেশে আশ্রয় নিয়েছেন তাঁদের দুঃখও বুঝতে হবে।”

কালো বেলুন ওড়ার বিষয়ে টুইটও করেন প্রদ্যোৎ।

গুয়াহাটি পৌঁছনোর পরেই একাধিক জায়গায় কালো পতাকার মুখোমুখি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিল-বিরোধী যৌথ মঞ্চ তাঁর সফর বয়কট করেছে। উজানি অসমে ডাকা হয়েছে বন্‌ধ। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর কুশপুতুল পুড়েছে। চলেছে অবরোধ। ডিসপুরে সচিবালয়ের সামনে নগ্ন প্রতিবাদ দেখিয়েছেন আন্দোলনকারীদের একাংশ। তবে সেই বিক্ষোভকে উপেক্ষা করেই অসমের চাংসারির সভায় উপস্থিত জনসমাবেশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘নাগরিকত্ব বিলের নামে যে রাজনৈতিক প্রচার চালানো হচ্ছে তার জবাব আজকের জনসমাগম।’’

প্রধানমন্ত্রী মোদী এ দিন ভাষণে আরও জানান, আগের সরকারের ঢিলেমির পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁরাই অসমে এনআরসি নবীকরণ করছেন। অসম চুক্তি রূপায়ণেও বিজেপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি জানান। তাঁর বক্তব্য, ‘‘অসমবাসীর ৩৬ বছরের দাবি কেউ পূরণ করলে এই মোদী সরকারই করবে।”

একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অসম-সহ উত্তর-পূর্ববাসীকে আশ্বস্ত করেছেন, উত্তর-পূর্বের মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা স্বাতন্ত্র্য ও সার্বিক আশা-আকাঙ্ক্ষা অক্ষুণ্ণ রাখার ব্যাপারে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, ‘‘নাগরিকত্ব সংশোধনীর কোনও আঁচ অসম বা উত্তর-পূর্বে পড়বে না।’’ এটা সার্বিক ভাবে দেশের দায়।

Shares

Comments are closed.