শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

মোদী পশ্চিমবঙ্গে আসার আগেই জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের অনুমোদন কেন্দ্রের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তরবঙ্গে আসার ঠিক আগে বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ গঠন অনুমোদন করল কেন্দ্রীয় সরকার। উত্তরবঙ্গের চারটি জেলা, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার পড়বে সার্কিট বেঞ্চের আওতায়।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করেছে বিজেপি। এর পরে কেন্দ্র জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ চালু করার অনুমতি দেওয়ায় গেরুয়া ব্রিগেডেরই সুবিধা হবে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

১৯৮৮ সালে কলকাতা হাইকোর্টের পুরো বেঞ্চ জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চ বানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এতদিন কেন্দ্রীয় সরকার তা অনুমোদন করেনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পরেই ওই সার্কিট বেঞ্চ গঠনের জন্য সচেষ্ট হন। তিনি চেষ্টা করেছিলেন যাতে গতবছর পুজোর আগেই বেঞ্চ চালু করা যায়। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি।

উত্তরবঙ্গের মানুষ দীর্ঘদিন সার্কিট বেঞ্চের দাবি জানিয়ে এসেছে। কারণ উত্তরবঙ্গের কোনও মামলা হাইকোর্টে এলে মানুষকে বহু দূর থেকে কলকাতায় আসতে হয়। যাতায়াতে খরচ ও সময় লাগে যথেষ্ট। কিন্তু উত্তরবঙ্গে সার্কিট বেঞ্চ হলে অনেক সহজে তাঁরা মামলা চালাতে পারবেন।

কলকাতা হাইকোর্ট সার্কিট বেঞ্চ বানানোর সিদ্ধান্ত নিলেও প্রথমে জলপাইগুড়িতে জমি পাওয়ার সমস্যা হয়েছিল। পরে পরিকাঠামো নিয়েও নানা সমস্যা দেখা দেয়। তবে বেঞ্চ চালু হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তারা এর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেয়নি।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জলপাইগুড়ি জেলায় প্রধানমন্ত্রীর সভা হওয়ার কথা। কিছুদিন আগেও তাঁর সভা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা ছিল। তাঁর বিমান নামার ক্ষেত্রে টালবাহানার অভিযোগ উঠেছিল রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। বিজেপির অভিযোগ, রাজ্য সরকার তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রচারে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের মতো নেতা যাতে এরাজ্যে প্রচার না করতে পারেন, সেজন্য নানা আপত্তি তুলেছে। এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলার সভাপতি দেবাশিস চক্রবর্তী কিছুদিন আগে জানান, রাজ্য সরকার সরকারি জমিতে প্রধানমন্ত্রীর সভা করতে অনুমতি দেয়নি। আমাদের দল এক ব্যক্তির নিজস্ব জমিতে সভার আয়োজন করেছে। কিন্তু কোন জমিতে তাঁর বিমান নামবে এখনও স্থির হয়নি।

এই অনিশ্চয়তার পরিস্থিতিতে আচমকা সার্কিট বেঞ্চের অনুমোদন দিয়ে মোদী ভোটের আগে মাস্টারস্ট্রোক দিলেন বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

Shares

Comments are closed.