প্যানেলের সদস্যরা কৃষি বিশেষজ্ঞ, তাঁদের বদনাম করা হচ্ছে কেন? বলল সুপ্রিম কোর্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো : তিনটি কৃষি আইন খতিয়ে দেখার জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গড়ে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তার পরে অনেকে বলেন, চার সদস্যই অতীতে কৃষি আইনের পক্ষে মতপ্রকাশ করেছেন। তাঁরা দাবি করেন, ওই প্যানেল ভেঙে নতুন প্যানেল গড়তে হবে। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট নতুন প্যানেল গড়ার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের মতামত জানতে চায়। এই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে বলেন, “প্যানেলের সদস্যরা কৃষি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ। তাঁদের নিন্দা করা উচিত নয়।”

সুপ্রিম কোর্ট প্যানেল গড়ার পরে কৃষকরা জানিয়ে দেন, যতদিন না তিনটি আইন প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে, ততদিন তাঁদের এই আন্দোলন চলবে। সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত প্যানেলের সঙ্গেও কোনও রকম সহযোগিতা করতে রাজি নন তাঁরা। কৃষক আন্দোলনের নেতাদের বক্তব্য, “আমরা আগেই জানতাম নিজের ঘাড় থেকে দায় সরাবার জন্য সুপ্রিম কোর্ট একটা প্যানেল গঠন করবে। তাই আগের দিন রাতেই আমরা জানিয়েছিলাম, কোনও প্যানেলের সঙ্গে আমরা কথা বলব না। কৃষি আইন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”

সুপ্রিম কোর্ট যে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল তার সদস্যরা হলেন, কৃষি অর্থনীতিবিদ অশোক গুলাটি, শ্বেতকারি সংঠনের সভাপতি অনিল ঘানওয়াত, ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের সভাপতি ভুপিন্দর সিং মান এবং আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি বিশেষজ্ঞ প্রমোদ কুমার যোশী।

দেশের শীর্ষ আদালত কমিটিকে জানিয়েছে, সব দিক খতিয়ে দেখে দু’মাসের মধ্যে একটি রিপোর্ট জমা দিতে। ততদিন কৃষি আইনে স্থগিতাদেশ জারি হয়েছে। গত ১৪ জানুয়ারি কমিটির সদস্য ভূপিন্দর সিং মান পদত্যাগ করেন। তার পরে একটি কৃষক ইউনিয়ন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে, কমিটির বাকি তিন সদস্যকেও সরিয়ে দেওয়া হোক। তারপর নতুন কমিটি গঠন করুক শীর্ষ আদালত।

ভূপিন্দর সিং মান কমিটি থেকে পদত্যাগ করার পরে বলেন, কৃষকদের স্বার্থের সঙ্গে আপস করতে চান না। তিনি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, “আমি নিজে একজন কৃষক। একইসঙ্গে আমি কৃষক ইউনিয়নের নেতা। মানুষের ভাবাবেগের কথা বিবেচনা করে আমি কমিটির সদস্যপদ ত্যাগ করছি। আমি চাই না, পাঞ্জাব তথা দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হোক।” পরে তিনি বলেছেন, “আমি সবসময়ই পাঞ্জাব এবং দেশের পক্ষে দাঁড়াব।”

সুপ্রিম কোর্ট কৃষি আইন নিয়ে রায় দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই অমৃতসর থেকে দিল্লি সীমান্তের উদ্দেশে রওনা হয়েছে ট্র্যাক্টরের কনভয়। কিষাণ-মজদুর সংঘর্ষ কমিটির ব্যানারে ওই কনভয় ২৬ জানুয়ারি দিল্লির ট্রাক্টর মিছিলে অংশ নেবে। ২০ জানুয়ারির মধ্যে পাঞ্জাবের আরও নানা জায়গা থেকে যত বেশি সংখ্যক ট্র্যাক্টর দিল্লিতে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। কৃষক ইউনিয়নগুলি বলেছে, যাঁরা ট্র্যাক্টর পাঠাতে পারবেন না, তাঁদের জরিমানা দিতে হবে। নয়তো তাঁরা সামাজিক বয়কটের মুখে পড়বেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More