রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৭

BREAKING: শিলং-পর্ব চলবে, মঙ্গলবার ফের সকাল দশটা থেকে জেরা রাজীব কুমারকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সকাল ১১টা নাগাদ সিবিআই দফতরে ঢুকেছিলেন তাঁরা। কয়েক ঘণ্টা পরে মেলে লাঞ্চ ব্রেক। ঘণ্টা খানেক পরে ফের শুরু হয় দ্বিতীয় দফার জেরা। শেষমেশ সন্ধে সাতটার পরে সিবিআই দফতর থেকে বেরোন তাঁরা। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকাল দশটায় ফের জেরার জন্য হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজীব কুমারকে।

আগামী কাল হলে, এই নিয়ে চার দিন হবে শিলংয়ের সিবিআই দফতরে রাজীব কুমারকে সারদা এবং রোজ় ভ্যালি কাণ্ডে জেরা করার।

এ দিন জেরার পরে সিবিআই দফতর থেকে বেরিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদের খুঁটিনাটি নিয়ে আমি কিছু বলব না। তবে আমি চিরকাল সমস্ত তদন্তে সাহায্য করে এসেছি, এবারেও করব। সে তদন্তের শেষে কী হবে, তা নিয়ে কিছু বলা আমার এক্তিয়ারে পড়ে না।”

তবে এই জিজ্ঞাসাবাদের শেষে তিনি নৈতিক জয় পেয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান কুণাল ঘোষ। বলেন, “আমায় মাননীয় পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের মুখোমুখি বসানো হয়েছে। আমার যা অভিযোগ এবং বক্তব্য, তা তাঁকে শুনতে হয়েছে। এখানেই আমার নৈতিক জয় হয়েছে বলে আমি মনে করছি।”

পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার অবশ্য জেরার পরে সিবিআই দফতর থেকে বেরিয়ে সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।

কেউ কেউ মনে করেছিলেন, মঙ্গলবার হয়তো কলকাতায় ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে। কারণ এই দিন শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষা চলাকালীন শহরে ও রাজ্যে সুষ্ঠু পরিস্থিতি বজায় রাখতে কমিশনারের উপস্থিতি জরুরি বলে মনে করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু সে সব বিচার না করে, মঙ্গলবারও শিলঙেই জেরা চলবে বলে জানিয়ে দিল সিবিআই।

সিবিআই সূত্রের খবর, সোমবার জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দফায় আলাদা আলাদা করে রাজীব ও কুণালকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারী অফিসাররা। তার পরে আরও আড়াই ঘণ্টা তাঁদের দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে সিবিআই।

এর পরে শুরু হয় দ্বিতীয় দফার জেরা। দফতরে উপস্থিত ছিলেন রোজ় ভ্যালি কাণ্ডের তদন্তকারী অফিসার চোজম শেরপা। সূত্রের খবর, গত কালই জেরার সময়ে সারদার পাশাপাশি রোজ় ভ্যালি নিয়ে কুণাল ও রাজীবকে জেরা করা হয়েছিল। আজকের জেরার দ্বিতীয় দফাতেও ফের রোজ় ভ্যালি প্রসঙ্গ ওঠে বলে সূত্রের খবর।

সোমবার উপস্থিত ছিলেন রোজ় ভ্যালি কান্ডের তদন্ত শুরুর প্রথম যে প্রধান তদন্তকারী অফিসার, সেই ব্রতীন ঘোষালও। এই ব্রতীন ঘোষালকেই কলকাতা পুলিশ নানা ভাবে হেনস্থা করেছিল বলে অভিযোগ ওঠে এক সময়ে। তাঁর পরেই তদন্তকারী অফিসার হিসেবে এসেছিলেন চোজম শেরপা। আজকের জিজ্ঞাসাবাদে সেই দুই অফিসারই উপস্থিত রয়েছেন বলে সূত্রের খবর।

প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার থেকে শিলংয়ে সিবিআই দফতরে চিটফান্ড কাণ্ডের তদন্ত সূত্রে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করেছেন সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা। প্রথম প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা সিবিআই দফতরে ছিলেন রাজীববাবু। রবিবার আবার রাজীববাবুর পাশাপাশি হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল কুণাল ঘোষকে। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় রাজীববাবুর সঙ্গে কুণালকে মুখোমুখি বসিয়েছিল সিবিআই। রবিবার প্রায় ১১ ঘণ্টা সিবিআই দফতরে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার।

Shares

Comments are closed.