রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৪

#Breaking: আদালত অবমাননায় নাগেশ্বর রাওকে সাজা সুপ্রিম কোর্টের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিহারের মুজফফরপুরে শেল্টার হোমে নাবালিকাদের ওপরে যৌন নিগ্রহ নিয়ে তদন্ত করছিলেন সিবিআই অফিসার এ কে শর্মা। আদালতের নির্দেশ ছিল, তাঁকে বদলি করা যাবে না। কিন্তু সিবি আইয়ের অন্তর্বর্তী প্রধান হয়ে তাঁকে বদলি করে দিয়েছিলেন নাগেশ্বর রাও। আদালত অবমাননার দায়ে মঙ্গলবার নজিরবিহীনভাবে নাগেশ্বর রাও ও সিবিআইয়ের লিগ্যাল অফিসারকে এক লক্ষ টাকা করে জরিমানা করল সুপ্রিম কোর্ট। শুধু তাই নয়, নাগেশ্বর রাওকে বলা হল, এদিন আদালত মুলতবি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে আদালত কক্ষের এক কোণায় বসে থাকতে হবে।

নাগেশ্বর রাওয়ের হয়ে এদিন শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেন অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ তাঁকে বলেন, এ কে শর্মাকে বদলি না করলে কি মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ত? এর আগেই নাগেশ্বর রাও আদালতে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, কাজের চাপে হয়তো ভুল হয়েছিল। অথবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল হয়ে থাকতে পারে। আমি ইচ্ছা করে এই ভুল করিনি।

কে কে বেণুগোপালও বলেন, সিবিআইয়ের প্রাক্তন অন্তর্বর্তী প্রধান ইচ্ছা করে আদালতের নির্দেশ অমান্য করেননি। তাঁকে যদি আদালত অবমাননার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়, তাহলে তাঁর পুরো কেরিয়ার নষ্ট হয়ে যাবে।

একথা শুনে দৃশ্যতই ক্রুদ্ধ প্রধান বিচারপতি বলেন, মিস্টার অ্যাটর্নি, একটা কথা স্পষ্ট করে শুনুন। আমি মনে করি আদালতের সম্মান সব সময় রক্ষা করা উচিত। এক্ষেত্রে সরাসরি আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে।

নাগেশ্বর আদালতে নিঃশর্তে ক্ষমা চাইলেও সুপ্রিম কোর্ট তা প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালত থেকে দু’বার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, এ কে শর্মাকে মুজজফরপুরের শেল্টার হোম মামলা থেকে সরানো যাবে না। কিন্তু সিবিআইয়ের অন্তর্বর্তী প্রধান খুব তাড়াহুড়ো করে তাঁকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁকে সিআরপিএফের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল করে দেওয়া হয়। তিনি আদালত অবমাননা করেছেন, কেরিয়ারে দাগ তো পড়বেই।

গত সপ্তাহেও আদালত ওই অফিসারকে বদলি করা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। বিচারপতিরা বলেন, আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, মুজফফরপুর শেল্টার হোমের ঘটনা নিয়ে তদন্তে যুক্ত কোনও অফিসারকে যেন বদলি না করা হয়। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে। আমরা ব্যাপারটাকে খুব সিরিয়াসলি নিচ্ছি। ঈশ্বর আপনাদের সাহায্য করুন।

Shares

Comments are closed.