সিবিএসই-র বোর্ড পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে অনলাইনে পিটিশন, ক্ষুব্ধ বহু পড়ুয়া

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিয়রে পরীক্ষা। সেই সঙ্গে চোখ রাঙাচ্ছে কোভিডের সংক্রমণ। অথচ এই পরিস্থিতিতেও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী মে মাসে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা নিতে চলেছে সিবিএসই। যাকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। মুখ খুলেছে পড়ুয়াদের একাংশ। পাশে দাঁড়িয়েছে বেশ কিছু সংগঠনও। পড়ুয়াদের দাবি, পরীক্ষা বাতিল করা হোক। নয়তো যেভাবে অনলাইনে পরীক্ষা হচ্ছে, সেভাবেই নেওয়া হোক বোর্ড পরীক্ষা। পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্যে শোরগোল সোশ্যাল মিডিয়া। ‘ক্যানসেলবোর্ডএক্সামস২০২১’ হ্যাশট্যাগ সমেত একাধিক পোস্টে ছয়লাপ টুইটার।

এমনিতেই দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে চড়ছে আক্রান্তের হার। বাড়ছে মৃত্যুও। লাগামছাড়া সংক্রমণ রুখতে নাইট কার্ফু জারি করেছে একাধিক রাজ্য। স্বাভাবিকভাবে স্কুল-কলেজে পঠন-পাঠন থমকে আছে। যদিও এই অবস্থায় কোনওভাবে পরীক্ষা আয়োজন থেকে পিছিয়ে আসতে রাজি নয় সিবিএসই এবং সিআইএসসিই বোর্ড। পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধির সমস্ত আয়োজন সম্পূর্ণ। সেইমতো পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে পরীক্ষায় বসতে পড়ুয়াদের কোনও অসুবিধা থাকার কথা নয়।

সিবিএসই-এর এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, ‘কোভিড প্রোটোকল মেনে সমস্ত পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসবেন। পড়ুয়াদের সুরক্ষা নিয়ে আমাদের ভাবনাচিন্তা রয়েছে৷ এই পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা খুব জরুরি। তাই অন্যান্য বছরের তুলনায় ৪০-৫০ শতাংশ পরীক্ষাকেন্দ্র বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর আগে সেগুলি সম্পূর্ণভাবে স্যানিটাইজও করা হবে।’

কিন্তু এতেও পিছু হটতে রাজি নয় পড়ুয়ারা। প্রতিবাদ হিসেবে একটি অনলাইন ওয়েবসাইটে পিটিশন জমা দিয়েছে প্রায় ১ লক্ষ পরীক্ষার্থী। সেখানে বলা হয়েছে, ‘দেশের করোনা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যু — দুই’ই বাড়ছে। এর আগে যখন সংক্রমণ ততটা বাড়েনি, তখন বোর্ড পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল। আর এখন, যখন করোনার সংক্রমণের গ্রাফ শীর্ষ ছুঁয়েছে, তখন স্কুল খোলার পরিকল্পনা চলছে। শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আমাদের অনুরোধ, দয়া করে বিষয়টি বিবেচনা করুন। আমরা যথেষ্ট দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি। তাই সমস্ত পরীক্ষা বাতিল করা হোক।’

এর মধ্যে অনেকে কিছুটা নরম সুরেও প্রস্তাব রেখেছে। যেমন, ক্লাস টেনের দিব্য গর্গ। টুইটারে দিব্য লিখেছে, ‘অন্তত এক মাসের জন্য পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া উচিত৷ তারপর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।’

আরেক ছাত্রের দাবি, বছরভর অনলাইনে পড়াশোনা হয়েছে। তাই পরীক্ষাটাও অনলাইনেই হওয়া জরুরি। অথবা ইন্টারনাল পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে ফাইনালের নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।

এরপরেও বোর্ড কর্তৃপক্ষ নিজেদের অবস্থানে অনড়। গত সপ্তাহে সিবিএসই জানায়, প্র‍্যাক্টিকাল পরীক্ষা চলাকালীন কোনও পড়ুয়া অথবা তাঁর পরিবারের কেউ করোমা আক্রান্ত হলে সংশ্লিষ্ট স্কুল শুধুমাত্র তার জন্য নতুন করে পরীক্ষা নেবে৷ যদিও একই নিয়ম থিয়োরি পরীক্ষার ক্ষেত্রে থাকবে কিনা, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More