দিল্লির হাসপাতালগুলিতে সংকট, অক্সিজেনের কোটা বাড়াল কেন্দ্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার জানা যায়, দিল্লির বেশ কয়েকটি হাসপাতালে অক্সিজেনের সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার ফের জানা যায়, অক্সিজেনের সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে রাজধানীতে। তাতে বিপন্ন হতে পারেন অন্তত ২ হাজার কোভিড রোগী। এই প্রেক্ষিতে এদিন সন্ধ্যায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিয়াল জানালেন, রাজধানীর জন্য অক্সিজেনের কোটা বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগে দিল্লি পেত ৩৭৮ মেট্রিক টন অক্সিজেন। এবার থেকে পাবে ৫০০ মেট্রিক টন। বাড়তি অক্সিজেন সম্ভবত আসবে ওড়িশা থেকে। দিল্লির শাসক আম আদমি পার্টি বলেছে, কোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু এখনও অবধি আমরা আগের কোটার ৩৭৮ টন অক্সিজেনই পুরোপুরি পাইনি।

বুধবার শোনা যায়, দিল্লিগামী একটি অক্সিজেনের ট্যাঙ্কারকে ফরিদাবাদে আটকে রেখেছে হরিয়ানা সরকার। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ শিশোদিয়া দাবি করেন, নির্দিষ্ট কোটা অনুযায়ী অক্সিজেন দিতে হবে দিল্লিকে। কোনও রাজ্য যদি দিল্লিতে অক্সিজেন সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তাঁর কথায়, অক্সিজেন নিয়ে রাজ্য সরকারগুলির মধ্যে বিবাদ হওয়া ঠিক নয়। প্রতিটি রাজ্যেরই নির্দিষ্ট কোটা অনুযায়ী অক্সিজেন পাওয়া উচিত। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে করোনার সঙ্গে লড়াই করতে হবে। নিজেদের মধ্যে লড়াই করলে চলবে না। দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অক্সিজেন নিয়ে তাঁদের সঙ্গে হরিয়ানার যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ করা উচিত।

হরিয়ানার অভিযোগ, এদিন একটি অক্সিজেনের ট্যাঙ্কার ফরিদাবাদের দিকে যাচ্ছিল। দিল্লি সরকার ট্যাঙ্কারটিকে লুঠ করেছে। হরিয়ানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনিল ভিজ বলেন, “এর আগে আমাদের প্রাপ্য অক্সিজেন দিল্লিকে দিতে বাধ্য হয়েছি। এখন আমাদের কাছে যে পরিমাণ অক্সিজেন আছে, তাতে আগে রাজ্যের প্রয়োজন মেটাব, পরে অন্য রাজ্যকে দেব।

দিল্লির হোলি ফ্যামিলি হসপিটালের ডিরেক্টর ফাদার জর্জ জানান, বুধবার তাঁদের হাসপাতালে ৪০০ জন অক্সিজেন সাপোর্টে আছেন। তাঁদের কাছে যে পরিমাণ অক্সিজেন আছে, তাতে এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে। ফরিদাবাদের একটি কোম্পানি তাঁদের অক্সিজেন সরবরাহ করে। তারা জানিয়েছে, আর অক্সিজেন দিতে পারবে না। ‘ওপরতলা থেকে’ তাদের নিষেধ করা হয়েছে।

সেন্ট স্টিফেনস হাসপাতালের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর জন পুন্নোস বলেন, তাঁদের ৫০০ জন রোগী অক্সিজেন সাপোর্টে আছেন। হাসপাতালে যে পরিমাণ অক্সিজেন আছে, তাতে আর দু’ঘণ্টা চলবে। তাঁরা যে অক্সিজেন আনাচ্ছিলেন, তা হরিয়ানা সীমান্তে আটকে আছে।

ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতাল জানিয়েছে, তাদেরও অক্সিজেন সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। হাসপাতালে যে পরিমাণ অক্সিজেন আছে, তাতে আর ১০-১২ ঘণ্টা চলতে পারে। অ্যাপোলো হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর পি শিবকুমার বলেন, তাঁদের ৩৫০ জন রোগী অক্সিজেন সাপোর্টে আছেন। অক্সিজেনের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে এই রোগীদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে উঠবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More