এবার থেকে সরকারি কাজ পাবে বেসরকারি ব্যাঙ্কও, ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বেসরকারি ব্যাঙ্ককে সরকারি কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন টুইট করে জানান, ‘বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিও এবার ভারতের উন্নয়নে ভূমিকা নিতে পারবে। সামাজিক ক্ষেত্রে তারা সাহায্য করবে সরকারকে। এর ফলে আমানতকারীদেরও সুবিধা হবে।’

অর্থমন্ত্রী এই ঘোষণা করার পরে নিফটি ব্যাঙ্ক ইনডেক্স পৌছায় ৩৬৪৯৩.৮০ এর ঘরে। এইচডিএফসি, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের শেয়ারের দাম চার থেকে পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সেনসেক্স ওঠে ১০৫০ পয়েন্ট।

অর্থনীতিতে করোনার ধাক্কা সামলাতে গত বাজেটে ব্যাপক বেসরকারিকরণের পথে হেঁটেছে সরকার। আশা করা হচ্ছে, এভাবে অর্থনীতিকে কিছুদূর চাঙ্গা করা যাবে। চলতি আর্থিক বছরে রাজকোষ ঘাটতি পৌঁছতে পারে জিডিপি-র ৯.৫ শতাংশে। করোনা অতিমহামারীর ফলে রাজকোষ ঘাটতির রেকর্ড হতে পারে ২০২০-২১ সালে।

সরকারের রাজস্ব বাবদ আয় ও ব্যয়ের মধ্যে যে ফারাক, তাকেই রাজকোষ ঘাটতি বলা হয়। ২০২১-২২ সালের আর্থিক বছরে ওই ঘাটতি ৬.৮ শতাংশে বেঁধে রাখার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস বলেন, আগামী আর্থিক বছরে ১২ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ করা হতে পারে। তাঁর দাবি, চলতি আর্থিক বছরে রাজকোষ ঘাটতির যে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছিল, তা কোভিড অতিমহামারীর জন্য পূরণ করা যায়নি।

রাজকোষ ঘাটতি যত বেশি হয়, সরকারকে তত বেশি ঋণ নিতে হয়। ফিসক্যাল রেসপন্সবিলিটি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী মাঝারি মেয়াদে রাজকোষ ঘাটতি তিন শতাংশে বেঁধে রাখতে হয়।

রাজকোষ ঘাটতি বাদে এবারের বাজেটের নানা প্রস্তাব নিয়েও এদিন আলোচনা করবেন সীতারমন। কীভাবে পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তোলা যাবে, স্বাস্থ্যখাতে ব্যয়রাদ্দ বৃদ্ধি করা কেন প্রয়োজন ছিল, তাও অর্থমন্ত্রী ব্যাখ্যা করবেন। আগামী মার্চে শেষ হওয়া আর্থিক বছরে অর্থনীতি সম্ভবত সংকুচিত হবে ৭.৭ শতাংশ হারে।

আর্থিক ঘাটতির মোকাবিলা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার চারটি মাঝারি মাপের ব্যাঙ্ক বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের জন্য শর্টলিস্ট করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আছে ব্যাঙ্ক অব মহারাষ্ট্র, ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক এবং সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। একটি সূত্রে খবর, চারটির মধ্যে অন্তত দু’টি ব্যাঙ্ককে ২০২১-২২ সালের আর্থিক বছরের মধ্যেই বিক্রি করে দেওয়া হবে। সরকার প্রথমে মাঝারি ও ছোট মাপের ব্যাঙ্কগুলি বেসরকারিকরণের দিকে নজর দিচ্ছে। তাতে সাধারণ মানুষের কী প্রতিক্রিয়া হয়, তা লক্ষ করে বড় মাপের ব্যাঙ্ক বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More