কর্নাটককে বাড়তি অক্সিজেন, সুপ্রিম কোর্টে মামলায় হারল কেন্দ্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কোভিড সংকটের মধ্যে কর্নাটক যাতে বাড়তি অক্সিজেন পায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল কর্নাটক হাইকোর্ট। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার মোদী সরকারের আবেদন খারিজ করে দিল। শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা স্পষ্ট ভাষায় বললেন, আমরা কর্নাটকের মানুষকে বিপদে ফেলতে পারি না। কর্নাটক হাইকোর্ট যথেষ্ট বিবেচনা করেই রায় দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের আবেদন মেনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

কর্নাটক হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, কর্নাটককে ১২০০ মেট্রিক টন মেডিক্যাল অক্সিজেন দিতে হবে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সরকার শীর্ষ আদালতে আবেদন জানায়, অবিলম্বে হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত রাখা হোক। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, কর্নাটককে এখন ৯৬৫ মেট্রিক টন অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। হাইকোর্টের আদেশ অযৌক্তিক। ওই আদেশ মানতে এলে দেশ জুড়ে অক্সিজেন সরবরাহ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।

সলিসিটর জেনারেল বলেন, “প্রত্যেক হাইকোর্ট যদি এমন নির্দেশ দিতে থাকে তাহলে কাজ করাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।” পরে তিনি বলেন, “মদ্রাজ, তেলঙ্গানা এবং অন্যান্য হাইকোর্টও অক্সিজেনের কোটা বাড়ানোর আবেদন খতিয়ে দেখছে। তাহলে হাইকোর্টগুলিকেই রাজ্যে রাজ্যে অক্সিজেন বিতরণ করতে নির্দেশ দেওয়া হোক। আমাদের অক্সিজেনের স্টক সীমাবদ্ধ।” সলিসিটর জেনারেল বলেন, প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় সরকার কর্নাটক সরকারের আলোচনায় বসে স্থির করবে, তাদের কী পরিমাণে অক্সিজেন দেওয়া যেতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন, “কর্নাটকে এখনও পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৯৫ হাজার মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। তাই তারা বাড়তি অক্সিজেন পাঠানোর জন্য আবেদন করেছে।”

কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভে যে রাজ্যগুলিতে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, তাদের মধ্যে কর্নাটক অন্যতম। বৃহস্পতিবার সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯ হাজার ৫৮ জন। মারা গিয়েছেন ৩২৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৪ লক্ষ ১২ হাজার আক্রান্তের খবর মিলেছে। মারা গিয়েছেন প্রায় ৪ হাজার মানুষ। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যান স্বচ্ছ নয়। কারণ, হাসপাতাল ও শ্মশানে মৃতদেহের ভিড় উপচে পড়ছে। ফলে আসল সংখ্যা হাতে আসছে না।

এই পরিস্থিতিতে আইআইটি হায়দরাবাদের অধ্যাপক মথুকুমাল্লি বিদ্যাসাগর বলেন, ‘আগামী কয়েকদিনের পরিস্থিতি খুব জটিল হতে চলেছে। সংক্রমণ নাগাড়ে বাড়তে থাকবে। যদিও ভাইরাস বারবার নিজের চেহারা পাল্টাচ্ছে। তাই আগেরবার আমাদের অনুমান ভুল প্রমাণিত হয়েছিল।’

একই সুর শোনা গিয়েছে আইআইএসসি ব্যাঙ্গালোরের একটি গবেষক দলের রিপোর্টে। তাঁদের গাণিতিক মডেল অনুযায়ী, ১১ জুনের মধ্যে সারা দেশে মৃতের সংখ্যা ৪ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে৷ ইতিমধ্যে যা ২ লক্ষের গণ্ডি অতিক্রম করেছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More