নতুন কৃষি আইন চালুর আগে মােদী সরকারের উচিত ছিল চাষিদের সঙ্গে কথা বলা, সরব উত্তরপ্রদেশের বিজেপি নেতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনটি কৃষি আইন নিয়ে বিতর্ক, কৃষক বিক্ষোভের মধ্যেই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে নিশানা করলেন উত্তরপ্রদেশের বিজেপি ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য রাম ইকবাল সিং। নতুন কৃষি আইন চালু করার আগে সরকার চাষিদের সঙ্গে কথা বললে তারা কোনও আন্দোলনেই নামতেন না বলে অভিমত জানিয়েছেন তিনি। কৃষকদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (এমএসপি) গ্যারান্টি দিতে আইন আনারও আবেদন করেছেন তিনি।
টিকরি, সিঙ্ঘু ও গাজিপুর সীমান্তে রাজধানীর উপকন্ঠে হাজারে হাজারে কৃষক গত বছরের সেপ্টেম্বর চালু হওয়া তিনটি কৃষি আইন বাতিল ও ফসলের ন্যূনতম এমএসপি সুনিশ্চিত করার জন্য আইনের দাবিতে মাসের পর মাস অবস্থান আন্দোলনে বসে রয়েছেন। ইকবাল সাংবাদিকদের এই প্রেক্ষাপটেই বলেন, নতুন কৃষি আইনগুলি চালু করার আগে মোদী সরকারের উচিত ছিল কৃষকদের সঙ্গে পরামর্শ করা। এই আইনগুলি আনার আগে সরকার কৃষকদের আস্থা-ভরসা অর্জন করলে এ নিয়ে কোনও আন্দোলনই হত না। মোদী সরকার চাষিদের এমএসপি সুনিশ্চিত করতে আইন আনুক, দাবি করে তিনি বলেন, কৃষকদের ফসলের জন্য় এমএসপি না দেওয়া ধর্তব্যযোগ্য অপরাধ হওয়া উচিত।
সরকার গত সেপ্টেম্বরে ৬টি রবি শস্যের এমএসপি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। কিন্তু বিজেপি নেতাটির দাবি, ডিজেল ও সারের দামবৃদ্ধির সঙ্গে তাল রেখে বাড়ানো হয়নি এমএসপি। এতে চাষিদেরই লোকসান হবে।
পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের শাসনে উত্তরপ্রদেশের থানা, তহশিলগুলিতে পরিস্থিতি খারাপ বলেও দাবি করেন তিনি। সম্প্রতি লখনউয়ে বিজেপির রাজ্য ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে তিনি এসব প্রসঙ্গ তুলেছিলেন বলেও জানান রাম ইকবাল সিং।
কেন্দ্রের দাবি, কৃষিতে বড় রকমের সংস্কার ঘটানোর উদ্দেশ্যেই তিনটি কৃষি আইন আনা হয়েছে, এতে দালালরাজের অবসান হবে, চাষিরা দেশের যেখানে খুশি, ফসল বেচতে পারবেন। পাল্টা আন্দোলনরত কৃষকদের আশঙ্কা, নতুন আইনগুলি এমএসপির নিরাপত্তাকবচ তুলে দেওয়ার রাস্তা পরিস্কার করবে, মান্ডি (পাইকারি বাজার) সিস্টেম তুলে দেবে, তাদের বড় কর্পোরেটদের দয়ার ওপর নির্ভর করে থাকতে হবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More