ভোপালে কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে মিছিলে তুলকালাম, কাঁদানে গ্যাস, জলকামান

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কৃষি আইন বিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে মধ্যপ্রদেশে দুই সপ্তাহ ব্যাপী কর্মসূচি পালন করেছে কংগ্রেস। শনিবার কর্মসূচির শেষ দিনে কংগ্রেসের একটি মিছিল রাজভবনের দিকে যেতে চেষ্টা করলে তুলকালাম বাধে। মিছিল ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। পরে লাঠিচার্জও করা হয়। দু’পক্ষের মারপিটে কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা ও পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন।

এদিন দুপুরের আগে শহরের জহর চৌক থেকে মিছিলের সূচনা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ। কয়েকশ কংগ্রেস কর্মী মিছিলে শামিল হয়েছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল রাজভবন ঘেরাও করা। কমলনাথ আগেই বলেছিলেন, তাঁরা কৃষক আন্দোলন সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে চান। একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, তিনি ও আরও কয়েকজন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা একটি বাস থামিয়ে মিছিল যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন।

মিছিল রাজভবনের কাছাকাছি পৌঁছলে পুলিশ মাইকে বারবার সতর্ক করতে থাকে। রাজভবনের চারপাশে পুলিশ ব্যারিকেড করেছিল। জনতা ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করলে পুলিশ হুঁশিয়ারি দেয়, এবার বলপ্রয়োগ করা হবে। তারপরেই জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, বহু কংগ্রেস সমর্থক পতাকা নিয়ে পুলিশের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন। অপর এক ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, জনতা একটি পুলিশের গাড়িকে ঘিরে রয়েছে।

প্রায় দেড় মাস ধরে দিল্লিতে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে ৪০টি কৃষক সংগঠন। আইন প্রত্যাহার না হলে আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না বলেই জানিয়েছেন কৃষকরা। এই অবস্থায় কেন্দ্রের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয় কৃষি আইন দেড় বছরের জন্য স্থগিত রাখতে তারা তৈরি। সূত্রের খবর, কেন্দ্র আরও জানায়, একটি হলফনামা দিয়ে এই প্রস্তাবের কথা সুপ্রিম কোর্টকেও জানাবে তারা। সেই প্রস্তাবই নাকচ করে দিলেন কৃষকরা।

এদিকে গত সপ্তাহে এই আইনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। একটি কমিটি গড়ে দিয়েছে তারা। এই কমিটিকে আলোচনা করে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তারপরেই সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেবে।

এর মধ্যেই আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, সমস্যার সমাধান না হলে আগামী ২৬ জানুয়ারি দেশে ট্র্যাক্টর র‍্যালির আয়োজন করবেন তাঁরা। ট্র্যাক্টর চালিয়ে দিল্লিতে ঢুকবেন তাঁরা। সেইসঙ্গে আগামী দিনে এই আন্দোলন আরও বাড়বে। কেউ তাঁদের আটকাতে পারবে না, এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। এখন দেখার কৃষকরা নিজেদের মধ্যে আলোচনায় কী সিদ্ধান্ত নেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More