১০০ ঘন্টার ওপর ছত্তিশগড়ে মাওবাদী ডেরায় কাটিয়ে অবশেষে মুক্তি অপহৃত জওয়ান রাকেশ্বরের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৪-৫ দিন মাওবাদী ডেরায় বন্দিদশা কাটিয়ে অবশেষে মু্ক্তি পেলেন অপহৃত জওয়ান রাকেশ্বর সিং মানহাস।  গত শনিবার ছত্তিশগড়ের বিজাপুরের জঙ্গলে মাওবাদী হামলায় ২২  জন নিরাপত্তা জওয়ান নিহত হন। জখম হন বহু। হতাহতদের মধ্যে রাকেশ্বর না থাকায় প্রবল উদ্বেগ, উত্কণ্ঠা ছড়ায়। পরে জানা যায়, তাঁকে অপহরণ করেছে মাওবাদীরাই। তাঁর স্ত্রী, আরও অনেকে কোনও ক্ষতি না করে রাকেশ্বরের নিরাপদ মুক্তির দাবি করেছিলেন। অবশেষে মাওবাদীরা সেই আবেদনে  কর্ণপাত করেছে বলে মনে হয়। আজ বিকালে তিনি ছাড়া পান। একটি সূত্রের দাবি, ১০০ ঘণ্টার ওপর মাওবাদীদের ডেরায় কাটিয়েছেন তিনি। জনৈক সিআরপিএফ অফিসার সংবাদমাধ্যমকে জানান, এদিন বিকাল ৫ টা নাগাদ গভীর জঙ্গলে রাকেশ্বরকে ছেড়ে দেয় মাওবাদীরা। সেখান থেকে নিরাপদে বিজাপুরে সিআরপিএফের ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়েছে তাঁকে।

একটি সূত্রের খবর, সিআরপিফের মাওবাদী দমনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোবরা বাহিনীর এই কম্যান্ডো শনিবারের এনকাউন্টারে জখম ৩১ জন জওয়ানের মধ্যেই ছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় মাওবাদীরা।

জম্মুতে তাঁর আত্মীয়স্বজন, পাড়াপড়শিরা  তাঁর বুরনাইয়ের বাসভবনের সামনের রাস্তা অবরোধ করেন গত ৪ এপ্রিল। স্লোগান ওঠে, ‘আমাদের হিরোকে ফিরিয়ে আনো’, ‘ভারত দীর্ঘজীবী হোক’, ‘দেশের বিশ্বাসঘাতকদের গুলি করে মারো’। তাঁর ছোট্ট মেয়েও মাওবাদীদের কাকুদের উদ্দেশে আবেদন করে, যাতে তার বাবাকে তারা ছেড়ে দেয়। মাওবাদীরা এর মধ্যে তাদের হেফাজতে বন্দি রাকেশ্বরের একটি ছবি প্রকাশ করে জানায়, সে ভাল আছে।

এদিকে স্বামীর মুক্তির খবর শুনে খুশিতে, উচ্ছ্বাসে রাকেশ্বরের স্ত্রী মিনু সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন আজ।

গত শনিবার মাওবাদীদের হাতে একাধিক জওয়ান হত্যায় গভীর বেদনা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী ট্যুইট করেছিলেন, আমার চিন্তা, উদ্বেগ ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের রুখতে গিয়ে শহিদ হওয়া জওয়ানদের সঙ্গে রয়েছে। এই সাহসী শহিদদের অবদান কখনও ভুলব না। জখমরা  দ্রুত সুস্থ হোন, প্রার্থনা করি। প্রসঙ্গত, মাওবাদী শীর্ষ কমান্ডার মাদভি হিডমার উপস্থিতির খবর পেয়েই জওয়ানদের বিরাট বাহিনী অভিযানে গিয়েছিল। কে এই হিডমা? ২০১৩ সালের জিরাম ঘাঁটির মাওবাদী হামলায় ছত্তিশগড় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা সমেত ৩০ জনের বেশি নিহত হয়েছিলেন। সেই অপারেশন নাকি হিডমার প্ল্যানমাফিক হয়েছিল। এখন শোনা যাচ্ছে, গত শনিবারও হিডমার পাতা ফাঁদে পা দিয়েই এনকাউন্টারে জড়ান জওয়ানরা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More