চিনের টাকা কংগ্রেসের রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনে, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ বিজেপির

প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নামে তৈরি ফাউন্ডেশনের সভাপতি কংগ্রেসের অন্তর্বর্তী সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। এছাড়াও পরিচালন বোর্ডে রয়েছেন প্রিয়ঙ্কা বঢরা, মনমোহন সিং, পি চিদম্বরমের মতো প্রথম সারির কংগ্রেস নেতারা।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-চিন সংঘাতের মধ্যেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ বিজেপির। সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ দাবি করেন, রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনে নিয়মিত অর্থ দেয় চিনা দূতাবাস। বৃহস্পতিবার কোন বছরে কত টাকা তারও একটি হিসেব পেশ করেছেন প্রসাদ।

প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নামে তৈরি ফাউন্ডেশনের সভাপতি কংগ্রেসের অন্তর্বর্তী সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। এছাড়াও পরিচালন বোর্ডে রয়েছেন প্রিয়ঙ্কা বঢরা, মনমোহন সিং, পি চিদম্বরমের মতো প্রথম সারির কংগ্রেস নেতারা। সেই ফাউন্ডেশনেই চিনা দূতাবাসের টাকা আসে বলে দাবি বিজেপির। রবিশঙ্কর প্রসাদ দাবি করেন, রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনের বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৫-০৬ আর্থিক বছরে গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের নয়াদিল্লি দূতাবাস থেকে প্রায় ৯০ লক্ষ টাকার মতো ডোনেশন পেয়েছে। ওই রিপোর্টে সাধারণ ডোনেশনদাতাদের তালিকায় রাখা হয়েছে দূতাবাসকে। রবিশঙ্কর প্রসাদের দাবি, ওই ডোনেশন পাওয়ার পরেই ভারত ও চিনের মধ্যে অবাধ বাণিজ্য চুক্তি হাওয়া প্রয়োজন কেন সে ব্যাপারে গবেষণা করে রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশন। সেই গবেষণায় বলা হয়, চিনের থেকেও অবাধ চুক্তি ভারতের জন্য বেশি প্রয়োজনীয়। ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার অঙ্গ হিসাবেই এই চুক্তি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত। প্রসাদের দাবি, ওই চুক্তির ফলে ভারতের প্রভূত আর্থিক ক্ষতি হয়।

আরও পড়ুন

চিনা আগ্রাসনের মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক মোতায়েন করতে পারে আমেরিকা, জানালেন মার্কিন বিদেশ সচিব

সাংবাদিক বৈঠকে প্রসাদ বলেন, কংগ্রেস এবার তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের জবাব দিক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কংগ্রেস কি কিছু লুকোতে চাইছে? কংগ্রেস ও চিনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে কি কোনও চুক্তি হয়েছে? কেন কংগ্রেসকে ডোনেশন দেওয়া হয় বলে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ওরা রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনের পাওয়া ডোনেশনের জন্য নরেন্দ্র মোদী সরকারকে আক্রমণ ও চিনকে সমর্থন করছে। তাঁর আর‌ও দাবি, প্রথমে ওরা চিনকে জমি ছেড়ে দেয়, তারপর ৯০ লক্ষ টাকা দান নেয়। রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশন কংগ্রেসের শাখা ছাড়া কিছুই নয়। তারা বিদেশি অর্থ ডোনেশন নেওয়ার আগে সরকারের অনুমতি নিয়েছিল কিনা এবং কেন নিচ্ছে জানিয়েছিল কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

চিন ইস্যুতে প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক কংগ্রেস। বিশেষ করে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। বারবার তিনি নরেন্দ্র মোদী সরকারের নীতি ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আক্রমণও শানাচ্ছেন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। এবার কংগ্রেসকেই কাঠগড়ায় তুলতে চাইছে বিজেপি। এর আগে দেশে বিভাজন ঘটানোর অভিযোগ তোলে বিজেপি। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর মনোবলে চিড় ধরানোয় অভিযুক্ত করেন খোদ বিজেপি সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা। টুইট করে তিনি বলেন, কংগ্রেস সাংসদ সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, জেপি নাড্ডা কংগ্রেসের সঙ্গে ২০০৮ সালে চিনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির স্বাক্ষরিত চুক্তি নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তিনি সেই চুক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, এটা কি কংগ্রেসের মউ (মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং) চুক্তির ফল!

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে উচ্চ পর্যায়ে পারস্পরিক মতামত বিনিময়ের জন্য চুক্তি করে তৎকালীন শাসকদল কংগ্রেস ও চিনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)। সেই চুক্তিতে সই করেছিলেন তখন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রাহুল গান্ধী ও চিনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এদিন সেই প্রসঙ্গ টেনে আনেন নাড্ডা।

বিজেপি সভাপতি টুইটে লেখেন, প্রথমে কংগ্রেস চিনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করে। তারপর চিনকে জমি ছেড়ে দেয়। ডোকলাম সমস্যার সময়ে তো রাহুল গান্ধী লুকিয়ে চিনা দূতাবাসে গিয়েছিলেন। একই সঙ্গে নাড্ডার অভিযোগ, সব গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতেই রাহুল গান্ধী দেশে বিভাজন ঘটানোর চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর মনোবলে চিড় ধরান। এটা কি মউয়ের প্রভাব?

রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, এতদিন বিজেপি শুধু রাহুলকেই আক্রমণ করছিল। এবার রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীকেও আক্রমণ শানাতে রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশন প্রসঙ্গ টেনে আনল বিজেপি। কারণ, সনিয়া ওই ফাউন্ডেশেনের প্রধান।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More