বাংলাদেশের বর্জ্যে দূষিত এপারের চূর্ণী, তৈরি হচ্ছে মাস্টারপ্ল্যান

দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: বাংলাদেশের কারখানার বর্জ্যে এপারের দূষিত হচ্ছে চূর্ণী নদী। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাংলাদেশের দর্শনার ধারে গজিয়ে ওঠা চিনি কলগুলির জন্য চূর্ণী দূষিত হচ্ছে। ধাক্কা খাচ্ছেন মৎসজীবীদের জীবিকা। একাধিকবার বিষয়টি উচ্চপর্যায় গেলেও ঠেকানো যায়নি দূষণ। দুর্গন্ধে চূর্ণী লাগোয়া এলাকার মানুষ তিষ্টতে পারছেনা।

নদীর ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের দর্শনা নদী মাথাভাঙা মিশেছে।  মাথাভাঙার একটি শাখা মেজিদিয়ার কাছে এসে ইচ্ছামতীতে ও অন্যটি চূর্ণীতে মিশেছে। তবে চুর্ণীতে ঢাল বেশি থাকায় দর্শনার দূষিত জল মিশছে তাতে। পরে বনগাঁ বসিরহাট দিয়ে বয়ে গিয়ে সাগরে মিশছে। অন্যদিকে চূর্ণী সেই জল পায়রাডাঙ্গার কাছে এসে গঙ্গায়তেও মিশছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাংলাদেশের চিনি কলগুলি তাঁদের জমানো বর্জ্য যখন-তখন দর্শনা নদীতে ফেলছে। সেই বর্জ্যই স্রোতে ভেসে চুর্ণীতে দূষণে ছড়াচ্ছে। তাতে সমস্যায় পড়ছেন মৎস্যজীবী থেকে সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এই নদীতে সংস্কারের অভাব রয়েছে। ময়লা জমে নিজের স্বচ্ছতা হারাচ্ছে চুর্ণীর জল।

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী দফতরে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা হয়নি চূর্ণী সংস্কারে। ইতিমধ্যে, স্থানীয় বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারও চূর্ণী সংস্কার নিয়ে লোকসভায় আলোচনা করেছেন। ২০১৯ সালে তিনি বিজেপি সাংসদ হওয়ার বিষয়টিকে উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু এখন ভোটের ডঙ্কা বেজে যাওয়া বিষয়টি নিয়ে আলোচনা কিছুটা থমকে গিয়েছে।

জগন্নাথ সরকার জানান, ”বহুবার সংসদে বিষয়টিকে নিয়ে দরবার করেছি এবং বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি লিখেছি। মাস্টার প্ল্যানও তৈরি হচ্ছে। একসময় রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এসেছিলেন এই নদীপথে। সেই নদী আজ অনেকটাই এখন দূষণের কবলে। অবিলম্বে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজন রয়েছে। না হলে অর্থনীতিতে একটা বড় প্রভাব পড়বে।”

এদিকে রাজ্য নদী বাঁচাও কমিটির আহ্বায়ক জ্যোতির্ময় সরস্বতীয় কেন্দ্রের কাছে বহুবার এর আগেই দরবার করেছেন। পরিবেশমন্ত্রকের কাছেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এক পরিবেশ প্রেমী চূর্ণী নিয়ে মামলাও করেছেন। কিন্তু এখন চূর্ণী দূষণ নিয়ে তেমন কোনও সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে খবর, আন্তর্জাতিক এই নদীটিকে ঘিরে বেশ কয়েকটি অংশের মানুষের বসবাস। এই নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬ কিলোমিটার। একটা সময় এই চূর্ণী নদী দিয়েই চলাচল করত বড় নৌকো, লঞ্চ। তবে সেসব এখন অতীত। প্রতিবছর বাংলাদেশের দর্শনার ধারের চিনিকলের বর্জ্যের দূষণে মারা যাচ্ছে মাছ, বিভিন্ন জলজ প্রাণী। নদীটিকে ঘিরে ১০ হাজারেরও বেশি মৎস্যজীবীর উপার্জন জড়িয়ে রয়েছে। মাছ ধরতে না পেরে আজ অনেকেই বেকার।

নদী বাঁচাও কমিটি আহ্বায়ক জ্যোতির্ময় সরস্বতী তিনি জানান, ”বাংলাদেশের কেরু কোম্পানি চিনির বজ্র পদার্থ প্রায় চার দশক ধরে নদী পথ বেয়ে এভাবেই চুর্ণীতে এসে পড়ছে, যার ফলে মানুষ জীবিকা হারাচ্ছে। জলের দূষণ বর্তমানে এতটাই যাতে জলজ প্রাণী বেঁচে থাকার সম্ভাবনা হারাচ্ছে। পাশাপাশি এলাকার মানুষ যারা নদীতে স্নান করেন এবং মাছ ধরেন তারা আর কেউই জলে নামতে সাহস পাচ্ছেন না। জেলা প্রশাসন থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত জানানো হলেও কেউ কথা রাখেনি।”

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More