‘সরকারের সমালোচনা করলেই এফআইআর করা যায় না’, কলকাতা পুলিশকে কড়া ধমক সুপ্রিম কোর্টের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা-সহ রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন সম্পর্কে এত দিন বিরোধীরা যে কথা বলত, কার্যত সেই কথাই বলল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের কড়া ধমক শুনতে হল লালবাজারকে।

তখন কড়া লকডাউন চলছে রাজ্যে। মে মাসে রোশনী বিশ্বাস নামের দিল্লি নিবাসী এক মহিলা ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন। তাতে তিনি রাজাবাজার এলকায় বাজারে, রাস্তায় থিকথিকে ভিড়ের ছবি দিয়ে বলেছিলেন, এর বেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না কেন?

তারপরই রোশনীকে সমন পাঠায় লালবাজার। বালিগঞ্জ থানায় দায়ের করা হয় এফআইআর। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি সহ একাধিক ধারা দেওয়া হয়। ওই সমন নিয়ে প্রথমে হাইকোর্ট ও পরে সুপ্রিম কোর্টে যান রোশনী। সেই শুনানিতেই এদিন লালবাজারের কাজকর্ম নিয়ে তীব্র ভর্ত্সনা করল সুপ্রিম কোর্ট।

বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। আদালত কলকাতা পুলিশের উদ্দেশে বলে, সরকারের সমালচনা করলেই কথায় কথায় এফআইআর দায়ের করা যায় না। তাহলে বাক স্বাধীনতা বলে বিষয়টাই থাকবে না। ডিভিশন বেঞ্চ আরও বলে, যদিও কেউ বিদেশে থেকে সমালচনা করতেন তাহলে তাঁকে কি এভাবে হেনস্থা করতে পারতেন? বলতে পারতেন, আসুন এবার আপনার ব্যবস্থা করছি! এটা স্বাধীন দেশ।স্বাধীন থাকতে দিন। যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তা ভয়ঙ্কর।

বাংলায় বিরোধীরা দলগুলির নেতারা প্রায়ই বলেন, সরকারের সমালচনা করা মানেই পুলিশের রোষানলে পড়া। গুচ্ছ মামলা দিয়ে এমন হেনস্থা করে যাতে আর কেউ সমালোচনা করার সাহস না দেখান!

প্রসঙ্গত, সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকার তথা সরকারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিদের সমালচনা করে রাজ রোষে পড়ার উদাহরণ কম নেই রাজ্যে। যাদবপুরের অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র থেকে শিলাদিত্য চৌধুরী কী হয়নি রাজ্যে। পিপিই কিটের অভাব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করায় এক চিকিত্‍সককেও হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছিল বলে অভিযোগ।

দিল্লি নিবাসী রোশনী প্রথমে মামলা করেন কলকাতা হাইকোর্টে। হাইকোর্ট তাঁকে পুলিশের সামনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান রোশনী। পুলিশের সামনে হাজিরা দেওয়ার হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেইসঙ্গে শীর্ষ আদালত বলেছে, পুলিশ যদিও বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেয়, তাহলে তা রক্ষা করতে আদালতকে হস্তক্ষেপ করতে হবে।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More