‘দিল্লির সরকার আলু নিয়ে চলে যাবে, আলুসেদ্ধ ভাতও আর পাবেন না’: মুখ্যমন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার কলকাতার বাজারগুলিতে চন্দ্রমুখী আলু কিলোপ্রতি দাম ছিল ৪২-৪৫ টাকার মধ্যে। আলুর জেলা বলে খ্যাত হুগলির সবচেয়ে বড় কাঁচা আনাজের পাইকারি বাজারে চন্দ্রমুখীর পাল্লা (পাঁচ কিলো) প্রতি দাম ছিল ২০০ টাকা। বাজারে যখন আলু, পেঁয়াজের দাম ছেঁকা লাগছে, তখন সব দোষ দিল্লির ঘাড়ে চাপাতে চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, সরকারি অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ওদের ভোট দেবেন না।

এদিন বাঁকুড়ার খাতড়ায় সরকারি অনুষ্ঠান ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। ওই মঞ্চে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে আলু, পেঁয়াজ, তেল অত্যাবশকীয় পণ্য আইনে রাজ্যের হাতে ছিল। এখন দিল্লির সরকার সব আলু নিয়ে চলে যাচ্ছে। জিজ্ঞেস করুন, এত আলু নিয়ে দিল্লি কী করবে? দিল্লির সরকার আলুর সরকার।”

তাঁর কথায়, “আমাদের হাতে যখন ছিল আমরা সস্তায় দিতাম। ব্যবস্থা না নিলে দু-তিন মাস পর দামটা কোথায় যাবে দেখবেন। তখন আলুসেদ্ধ ভাতও খেতে পাবেন না। এদের আর একটিও ভোট নয়।”

এখানেও শেষ নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ সব ব্যাপারে যেমন বিশেষণ দিয়ে বলেন, এদিনও ব্যতিক্রম হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, “খেতে খেতে দানব দৈত্য হয়ে গেছে, কালোবাজারি, জোতদারদের জন্য আইন করেছে। আলু, পটল, পেঁয়াজ সব লুটে নিয়ে চলে যাচ্ছে। এত খেয়েও পেট ভরছে না। খেতে খেতে দানব, দৈত্য তৈরি হচ্ছে। ওদের আলু চাই, পটল চাই, পেঁয়াজ চাই। ওদের সব চাই আর মানুষের জন্য কিচ্ছু নাই।”

বিজেপির প্রতিক্রিয়া

সম্প্রতি এ ব্যাপারে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, তৃণমূলের তোলাবাজির কারণে আলুর দাম বাড়ছে। এদিন বিজেপি মুখপাত্ররা বলেন, ওদের গাত্রদাহর কারণ পরিষ্কার। কাটমানি খাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর কাটমানি না খেতে পারলে দল করবে কেন? অর্থাৎ ওদের জীবন, জীবিকা ও অস্তিত্বের প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে গেছে।

সিপিএমের অবস্থান

বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “কেন্দ্রের নীতির জন্য জিনিসের দাম বাড়ছে এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু যে কৃষি আইনের দিকে মুখ্যমন্ত্রী আঙুল তুলছেন তা রাজ্যে কার্যকর হওয়ার আগে থেকেই তো আলুর দাম চল্লিশ টাকা পার করে গেছে। সে প্রশ্নের জবাব কে দেবে? মূল্য বেঁধে রাখতে রাজ্যের টাস্ক ফোর্স কোথায় গেল? কোন টেবিলের তলায় লুকিয়ে আছে, সেটা কি জানানো হবে?”

বস্তুত এহেন রাজনীতির চাপানউতোর চলছে গত প্রায় এক মাস ধরে। তাতে কিন্তু আলুর দাম কমেনি। চন্দ্রমুখী ও জ্যোতির দাম যেখানে ছিল, কমবেশি সেখানেই রয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More