‘মুখ্যমন্ত্রী যা করেছেন মোদীও তাই করছেন’, ভিক্টোরিয়ায় জয় শ্রীরাম বিতর্কে তোপ সেলিমের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবাসরীয় সন্ধ্যায় ভিক্টোরিয়ার উঠোন থেকে জয় শ্রীরাম স্লোগান শুনে তাত্‍ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে পোডিয়াম ছেড়ে নেমে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর তিন ধরনের বাম সমর্থকের দেখা মিলছিল।

একাংশ হইহই করে মমতার পক্ষ নিয়ে নিয়েছিলেন, একাংশ যুক্তি ছাড়াই বলতে শুরু করেছিলেন ‘দ্যাখ কেমন লাগে!’ আর একটা অংশ বাম নেতারা কী বলছেন সেই দিকে তাকিয়েছিলেন।

ভিক্টোরিয়ার অনুষ্ঠানের পর আলিমুদ্দিনের সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল-বিজেপিকে এক যোগে আক্রমণ শানালেন সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম।

নেতাজি জয়ন্তীর সরকারি অনুষ্ঠানে যে ভাবে জয় শ্রীরাম ধ্বনি তোলা হয়েছে তাকে ধিক্কার জানিয়ে সেলিম বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আজকে বলছেন সরকারি অনুষ্ঠানকে দলীয় অনুষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে! কিন্তু তিনি নিজে কী করেছেন? সমস্ত প্রশাসনিক বৈঠক থেকে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠককে দলীয় সভায় পরিণত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে।”

তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি মুখ্যমন্ত্রীর এই পোডিয়াম ছেড়ে নেমে আসাকে সমর্থন করেন? প্রাক্তন সাংসদ বলেন, “ও ভাবে এক লাইনে সমর্থন বা বিরোধিতা বলছি না। আমি বলছি, বাংলায় একটা প্রবাদ আছে আপনি আচরি ধর্ম, পরকে শিখাইও! মুখ্যমন্ত্রী যা করেছেন মোদী এখন তাই করছেন। তবে কে কার থেকে শিখেছেন বলতে পারব না।”

২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারে আসার পর থেকেই বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, কংগ্রেস, সিপিএমের বিধায়কদের এলাকায় কোনও প্রকল্পের উদ্বোধন হলেও সেই সরকারি অনুষ্ঠানে তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয় না। বামেদের বক্তব্য, বিরোধীদের দুর্মুশ করার যে আধিপত্যবাদী মানসিকতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় শুরু করেছিলেন আজ তাঁকে সেটাই পোহাতে হচ্ছে।

অতীতে বাবুল সুপ্রিয় একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অর্থে গড়া প্রকল্পের ফিতে কেটে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী অথবা রাজ্যের মন্ত্রীরা অথচ সাংসদ হিসেবে তাঁকে ডাকাই হচ্ছে না। দক্ষিণেশ্বর স্কাই ওয়াক উদ্বোধনেও কামারহাটির সিপিএম বিধায়কমানস মুখোপাধ্যায়কে না ডাকার অভিযোগ ওঠে! এদিন সিপিএম সাফ জানিয়েছে, দিদি যেমন, মোদীও তেমন। কোনও ফারাক নেই।

তবে বিজেপিরও সমালোচনা করেছেন এই সিপিএম নেতা। সেলিম বলেন, “আবিদ হাসান সাইরানিকে নেতাজি দায়িত্ব দিয়েছিলেন এমন একটি স্লোগান ঠিক করতে যা সমগ্র দেশের প্র্তিনিধিত্ব করবে কিন্তু যাতে কোনও ধর্মীয় গন্ধ থাকবে না। অনেক আলাপ আলোচনার পর জয় হিন্দ স্লোগান চূড়ান্ত হয়েছিল। আজকে নেতাজির নামে অনুষ্ঠানে সেটাই ভূলুন্ঠিত হল।”

এদিন সকালে রেড রোডের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী দাবি তোলেন কলকাতা সহ দেশে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, উত্তর-পূর্ব মিলিয়ে আরও চারটি রাজধানী করতে হবে। এ ব্যাপারে সেলিম বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আসল বিষয় থেকে নজর ঘোরাতে এসব কথা বলছেন। ইংরেজদের সময়েও কলকাতা, বম্বে, মাদ্রাজ, লাহোর-চারটি প্রেসিডেন্সি ছিল। উনি কি সেটাই চাইছেন? আর কলকাতার গুরুত্ব বাড়াতে মুখ্যমন্ত্রীর যদি এতই চিন্তা তাহলে যখন একের পর এক রাষ্ট্রীয় সংস্থার সদর দফতর কলকাতা থেকে গুটিয়ে নেওয়া হচ্ছে তখন তৃণমূলের সাংসদরা নীরব হয়ে রয়েছেন কেন?”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More