১৫ লক্ষ বৃদ্ধার পেনশন চালু হচ্ছে রাজ্যে, পড়ুয়াদের ট্যাব কেনার টাকাও আজ থেকেই পৌঁছবে: মুখ্যমন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৫ লক্ষ বিধবা ভাতা ও পেনশনের আবেদন মঞ্জুর করল রাজ্য সরকার। আজ, বৃহস্পতিবার নবান্নে ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, কাল থেকেই এই সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। এদিন মমতা বলেন, “আমাদের রাজ্যে অনেক বৃদ্ধা মায়েরা আছেন, যাঁদের দেখার কেউ নেই, নিজেদের জীবন নিজেরাই চালান, তাঁরা অনেক দিন ধরেই আবেদন করেছিলেন, আমরা সবটাই অনুমোদন করে দিয়েছি।”

এছাড়াও এদিন রাজ্যের শিক্ষার্থীরাও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে ছিল। সেখানে মমতা ঘোষণা করেন, ট্যাব এবং স্মার্টফোন কেনার জন্য দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১০ হাজার টাকা করে পাঠানোর কাজ শুরু করে দিচ্ছি রাজ্য সরকার। এদিন বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে রাজ্যের ন’লাখ পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে।

করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইন পঠনপাঠন হচ্ছে রাজ্য জুড়ে। কিন্তু গ্রাম-মফস্বলের বহু পড়ুয়াই স্মার্টফোন না থাকার কারণে পড়াশোনা করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতেই রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্যের উচ্চমাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসাগুলির দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের একটি করে ট্যাব কিনে দেওয়া হবে। একথা ঘোষণা হ গত মাসেই। কিন্তু পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এত সংখ্যায় ট্যাব একসঙ্গে কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সকলকে টাকা দেওয়া হবে, যা দিয়ে পড়ুয়ারা নিজেদের ডিভাইস কিনে নিতে পারে।

এদিন এই ঘোষণা করে সকলকে শুভেচ্ছা জানান মমতা, বলেন পড়ুয়ারা বড় হয়ে যেখানেই যান না কেন, তাঁরা যেন বাংলার গৌরবকে মনে রাখেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করেছি। ছাত্রদের ভালবাসি। তারা মাথা নত করে না। আমরা ভাঙি তবু মচকাই না। দিদির আশীর্বাদ, শুভেচ্ছা, দুয়া সঙ্গে রইল তোমাদের প্রতি। কোনও দরকারে জানিও।”

মুখ্যমন্ত্রীকেও ধন্যবাদ জানায় পড়ুয়ারা। মমতা তাদের বলেন, স্মার্টফোন কেনার পরে তারা যেন তা যত্ন করে রাখে, চুরি যেন না হয়ে যায়।

এছাড়াও এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত দু’কোটির বেশি মানুষ ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরে হাজির হয়েছেন। ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই মানুষ পরিষেবা পেয়ে গেছেন। আবারও এক দফায় ‘দুয়ারে সরকার’ শিবির চলবে বলে জানিয়েছেন মমতা। সাধারণ মানুষের আগ্রহ দেখেই এই সিদ্ধান্ত।

এছাড়াও আজ মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যে রিফিউজি কলোনি যতগুলো আছে তাদের সব সার্ভে করে ফ্রি হোল্ড-এর অনুমোদন দেওয়া হবে। আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, “আজকেও প্রায় ৪ হাজার পাট্টা দেওয়া হয়েছে। মোট ২ লক্ষ ৭৯ হাজার পাট্টা দেওয়া হয়েছে এ পর্যন্ত। কাউকে জোর করে উচ্ছেদ করা যাবে না।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More