‘হোঁদল কুতকুত, কিম্ভূত কিমাকার’ শাহ-মোদীর বর্ণনা-বিশেষণে কেন এমন বলছেন মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাম না করে আগের দিন অমিত শাহর উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ফানুস-ফানুস চেহারা, ফুটুস-ফাটুস চেহারা!

তার পর মাঝে একটা বড় অধ্যায় ঘটে গিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা নারুলা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কয়লা পাচার চক্রে আর্থিক লেনদেনের সূত্রে জেরা করেছে সিবিআই।

মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণের ভাষা তাই যেন আরও দু’দাগ চড়ে গেল। এদিনও নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহর নাম মুখে আনেননি দিদি। তবে বলেন, এই দেশের এখন দুটো নেতা, “একটা হলেন হোঁদল কুতকুত। আরেকটা নেতা হলেন, কিম্ভূত কিমাকার। আমি জানি না এর হিন্দি কী? এর ইংরেজি কী?”

পরে আবার বক্তৃতা প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “একজন দানব, আর এক জন দৈত্য। এক জন রাবণ অন্য জন দানব। দুটোতে মিলে দেশ চালাচ্ছে।” শুধু মোদী শাহ নয়, বিজেপি নেতাদের প্রসঙ্গে মমতা এও বলেন, “একেকটা লুটেরা, কারও কান কাটা, কারও হাত কাটা, কারও পা কাটা, কারও নাক কাটা।”

এর আগে একবার মেদিনীপুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তুই-তোকারি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাছাড়া পরে একবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার প্রসঙ্গে বলেছিলেন নাড্ডা, চাড্ডা, গাড্ডা, ফাড্ডা— রোজ কেউ না কেউ চলে আসছে।

মমতা কেন এমন বলছেন?

রাজনীতিতে বিরোধী বা প্রতিপক্ষের সম্পর্কে এ ধরনের শব্দ ও বিশেষণ প্রয়োগ কতটা সঙ্গত তা নিয়ে বিতর্ক হওয়া অস্বাভাবিক নয়। হয়তো বা সমালোচনাও করতে পারেন কেউ কেউ। এখন প্রশ্ন হল, তা সত্ত্বেও মমতা কেন এরকম বলছেন?

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এর নেপথ্যেও দিদির কৌশল থাকতে পারে! বিজেপি একটা ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করছে যে বাংলায় তৃণমূলের অত্যাচার, দাদাগিরি ঠেকাতে পারেন কোনও মজবুত নেই। এই যেমন অমিত শাহ বাংলায় সভা করে বলছেন, ভোটের দিন রাস্তা তৃণমূলের একটা গুণ্ডাও থাকবে না। তিনি যেমন গুণ্ডাদের ভয় দেখাতে চাইছেন, তেমনই এই বার্তা বাংলার মানুষকে দিতে চাইছেন যে, আমরাই এদের শায়েস্তা করতে পারি। আপনারা নির্ভয়ে ভোট দেবেন।

আবার নরেন্দ্র মোদী এসে বলছেন, বাংলায় আধুনিক পরিকাঠামো, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন তাঁরাই। কাটমানির সংস্কৃতি বন্ধ করে মানুষকে তাঁরাই আর্থিক সুরাহা দিতে পারেন। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার তামাম উপাদান তুলে ধরে দাওয়াই দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অর্থাৎ মানুষকে একটা সম্ভাবনা তথা বিকল্প ব্যবস্থার কথা বোঝাতে চাইছেন।

বিজেপির সেই দুই নেতাকেই ফুটুস, ফাটুস, হোঁদল কুতকুত, কিম্ভূত কিমাকার বলে টিপ্পনি কেটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে তাঁদের ওজন লঘু করে দিতে চাইছেন। সেই সঙ্গে হয়তো দলের কর্মীদের বোঝাতে চাইছেন এঁদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। ওই পর্যবেক্ষকদের মতে, এটা একপ্রকার স্নায়ুর লড়াই।

এখন প্রশ্ন হল, প্রতিপক্ষকে এমন ভাষায় আক্রমণ করা মুখ্যমন্ত্রীর পদের জন্য কতটা শালীন?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, সর্বভারতীয় স্তরের নেতা-নেত্রীদের মধ্যে এই প্রবণতা বিশেষ দেখা যায় না। এগুলো আঞ্চলিক রাজনীতির উপসর্গ। উদাহরণ দিয়ে এক প্রবীণ কংগ্রেস নেতা বলেন, সনিয়া-মনমোহন বা রাহুল গান্ধী কখনওই এই ভাষায় নরেন্দ্র মোদী বা অমিত শাহর সমালোচনা করতে পারবেন না। তাই আগে অনেক সময়েই লালু প্রসাদকে তাঁরা সামনে ঠেলে দিতেন। কারণ, লালু যেভাবে বলবেন তা সনিয়া, চিদম্বরমরা পারবেন না।

তা ছাড়া মমতার অ্যাডভান্টেজ রয়েছে। তিনি একজন মহিলা নেত্রী। তিনি মোদী-শাহকে হোঁদল কুতকুত বললে বাংলায় বুদ্ধিজীবী শ্রেণির অনেকের খারাপ লাগলেও বিশেষ প্রতিবাদী হবেন না। কিন্তু উল্টোটা ঘটলে প্রতিবাদে ছেয়ে যাবে সব সোশ্যাল পেজ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More