সিবিআই ও কয়লা, রুজিরার পাশে থেকে পাল্টা আক্রমণে মমতা, বললেন, ‘তোমার গায়েই ময়লা’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উনিশের ভোটের আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা নারুলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সোনা পাচারের অভিযোগ এনেছিল বিজেপি। সেই সময়েও রুজিরার পাশে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন,“অভিষেক যাকে বিয়ে করেছে, ও বাচ্চা মেয়ে। ওরা প্রেম করত। আমরা বিয়ে দিয়ে দিয়েছি। ওই মেয়েটার পিছনেও পড়েছে।”

এবার বেআইনি কয়লা পাচার চক্রের আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে সিবিআই যখন ইতিমধ্যে রুজিরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, দিদি শুধু ‘বাড়ির মেয়ে’কে আগলে রেখেই থেমে থাকলেন না, পাল্টা আক্রমণে বললেন, “আরে তোমার তো সারা গায়ে ময়লা!”

সিবিআই সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, অভিষেকের স্ত্রী রুজিরার থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ও শ্যালিকা মেনকা গম্ভীরের লন্ডনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেআইনি লেনদেন হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই দুই বোনকে জেরা করেছেন সিবিআই গোয়েন্দেরা। শুধু তা নয়, সূত্রের মতে, দুই বোনকে মুখোমুখি বসিয়েও জেরা করতে পারে সিবিআই।

ভোটের আগে এভাবেই যখন দুর্নীতির অভিযোগ দিদির পরিবারের উপর আছড়ে পড়েছে, তখন মঙ্গলবার হুগলির সাহাগঞ্জে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার উপর নজর ছিল অনেকেরই। দৃশ্যত ক্ষুদ্ধ মমতা দ্রুত পায়ে মঞ্চের এ পাশ থেকে ওপাশ করতে করতে বলেন, “আপনি আমার ঘরে ঢুকে গিয়ে বাইশ তেইশ বছরের একটা বাচ্চা মেয়েকে কয়লা চোর বলছেন? আর নিজেরা কয়লা চোরদের কোলে তুলে ঘুরছেন? আমার বাড়ির মা বোনেরা কয়লা চোর? তোমার সারা গায়ে ময়লা। নোটবন্দির ময়লা। সেই টাকা গেল কোথায় নরেন্দ্র মোদী জবাব দাও।”

অনেকে বলেন, রক্ষণাত্মক রাজনীতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধাতে নেই। মোটামুটি ভাবে বলা যায়, তা কোনও আঞ্চলিক দলের নেতা-নেত্রীরই ধাতে নেই। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় কাউকে সরিয়ে দেওয়া, পদচ্যুত করা এ সব আঞ্চলিক দলে তাই বিশেষ দেখা যায় না। বরং তাঁরা তখন পাল্টা আক্রমণাত্মক হন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতিও তার থেকে আলাদা নয়। তা ছাড়া এখন ভোটের সময়। দুর্নীতি প্রশ্নে রক্ষণাত্মক অবস্থান নিলে ঝুঁকি রয়েছে বলেই নিশ্চয়ই মনে করছেন তিনি।

সম্ভবত সেই কারণেই এদিন পাল্টা আক্রমণেই গিয়েছেন বারবার। বোঝাতে চেয়েছেন বাংলায় যে তোলাবাজির অভিযোগ করেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ, তার থেকে অনেক গুণে বড় বিজেপির দুর্নীতি। মমতার কথায়, “উনি বলেন তৃণমূল কংগ্রেস তোলাবাজ। আপনি কী? আপনি তো সবথেকে বড় দাঙ্গাবাজ, সব থেকে বড় ধান্দাবাজ।”

দিদি এও বলেন, “পাঁচ টাকা দশ টাকা যারা তোলে তাদের বলে তোলাবাজ। যারা দেশকে বেচে দেন, তাঁদের কী বলা হবে? তাঁরা কি ক্যাটমানি খান, নাকি ব়্যাটমানি খান? গরিব লোকেরা খেলে হয় কাটমানি, আপনাদের মতো কোটি পতিরা খেলে হয় ব়্যাটমানি।”

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ সব মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি ও কংগ্রেস। বিজেপির মুখপাত্র সায়ন্তন বসু বলেন, “বাংলার মানুষ জেনে গেছে কয়লা, বালির টাকা কে তুলেছে। এখন বোঝা যাচ্ছে, আপনিও জানতেন কারা টাকা তুলেছে? তাই আড়াল করতে ‘বাচ্চা’ বলে সহানুভূতি কুড়োতে চাইছেন। কিন্তু আপনার ভাইপো বাচ্চা নয়, চৌবাচ্চা। টাকার চৌবাচ্চা।” অন্যদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সততার ফানুস ফুটো হয়ে যাচ্ছে। এখন উনি খুব চিৎকার করবেন। খুব।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More