শ্যাম লাহা, ইন্ডাস্ট্রির হুয়াদা, নিজেই নিজের ডাকনাম রেখেছিলেন ‘হুয়া’

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

‘হনুমান কি কারো নাম হয় নাকি! আমার নাম হচ্ছে অনুমান। অনুমান মন্ডল। ব্যাপারটা কি হয়েছিল জানেন, আমি যখন জন্মেছিলুম না সকলে আমাকে মরা অনুমান করেছিল। সেই থেকে আমার নাম হয়ে গেল অনুমান।’

বিখ্যাত ছবির বিখ্যাত সংলাপ। কিন্তু যে অভিনেতার মুখে, তিনি সবার প্রিয় হয়েও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে রয়ে গেছেন ব্রাত্য। এ যুগের অনেকে সেই অভিনেতার নামটাও জানেননা।

‘দেয়া নেয়া’ ছবির বিখ্যাত সংলাপ। যার সংলাপ তিনি অভিনেতা শ্যাম লাহা। পুরনো ড্রাইভার ‘অনুমান’ শ্যাম লাহা এই কথা বলেছিলেন নতুন আসা ড্রাইভার হৃদয়হরণ ওরফে উত্তম কুমারকে। বাংলা ছবিতে আইকনিক হয়ে আছে দুই ড্রাইভারের এই কমেডি দৃশ্য। শ্যাম লাহা আর নবদ্বীপ হালদারকে নামভূমিকায় রেখে তৈরি হয়েছিল কমেডি বাংলা ছবি ‘মানিকজোড়’।

লরেল-হার্ডির ছায়ায় তৈরি হয়েছিল ‘মানিকজোড়’। তাই শ্যাম লাহার মোটা-সোটা চেহারা আর নবদ্বীপ হালদারের রোগা হাড়গিলে চেহারার দুই অভিনেতাকে মুখ্য ভূমিকায় নেওয়া হয়। এছাড়াও ‘সাড়ে চুয়াত্তর’, ‘মরুতীর্থ হিংলাজ’, ‘বসন্ত বিলাপ’, ‘যমালয়ে জীবন্ত মানুষ’ অজস্র ছবিতে অভিনয় করেছেন শ্যাম লাহা। অথচ শ্যাম লাহার জীবনী কখনও লেখা হয়নি চলচ্চিত্র ইতিহাসে।

শ্যাম লাহা ও নবদ্বীপ হালদার- মানিকজোড় 

‘হুয়া আবার কারো নাম হয় নাকি!’

শ্যাম লাহা ছিলেন বউবাজারের লাহা বাড়ির ছেলে। শ্যাম লাহার পুরো নাম ছিল শ্যামচাঁদ লাহা আর ডাকনাম ‘হুয়া ‘! তিনি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ‘হুয়াদা’ বা ‘হুয়াবাবু’ নামেই পরিচিত ছিলেন। এই বিচিত্র ডাকনামটি তিনি নিজেই নিজেকে দিয়েছিলেন যখন নাকি তাঁর মাত্র দু-তিন বছর বয়স!

নামটির মতো নামকরণের কারণটিও বড় বিচিত্র। হুয়া অর্থাৎ শ্যাম লাহার জন্ম ১৯১১ সালের ২৬ শে নভেম্বর। এটি বাঙালির একটি বিরাট গর্বের বছর, কেননা ঐ সালেই মোহনবাগান ক্লাব ইংরেজদের টিমকে হারিয়ে আই এফ এ শিল্ড জিতেছিল। পিতা যদুনাথ লাহা। শ্যাম লাহার আরেকটি অফিসিয়াল নাম ছিল কাশীনাথ।

এবার আসি তাঁর হুয়া নামকরণের ঐতিহাসিক ঘটনায়।

সেইসময় কলকাতার যত্রতত্র শিয়াল ঘুরে বেড়াত রাতেরবেলা। হুয়াবাবুদের বউবাজার এলাকাটিও এর ব্যতিক্রম ছিল না। স্বাধীনতার বহু বছর আগে ব্রিটিশ শাসনের অধীনে কলকাতা। অধিকাংশ এলাকাতেই ঝোপ জঙ্গল আর শিয়ালের বাস। ওই শিয়ালের হুক্কাহুয়া ডাক বড় বেশি মাত্রায় প্রভাব ফেলেছিল শ্যামের মনে, যেন ঠিক শ্যামের বাঁশি। তিনি ওই ডাক শুনলেই খুব মজা পেতেন আর ঐ হুক্কাহুয়া ডাক অনুকরণ করতেন। ছোট ছেলে যা হয় আর কি! শেয়ালের ডাক নকল করে ডাকতেন। যেমন বাচ্চারা এখনও বসন্তকালে কোকিলের ডাক নকল করে ডেকে ওঠে তেমনি ছোট্ট হুয়াও শেয়ালের ডাক নকল করে ডাকতেন।

এমনই একটা সময় এক পরিচিতা মহিলা আসেন তাঁর মায়ের সঙ্গে দেখা করতে। স্বাস্থ্যবান, ফুটফুটে ছেলেটিকে খেলা করতে দেখে কোলে তুলে নিয়ে তিনি জিজ্ঞেস করেন “তোমার নাম কি?” তখন নাকি হুয়াবাবু তাঁকে জবাব দেন : “আমার নাম হুয়া।”

ভদ্র মহিলা তো হা হা করে হেসে বলেন “এ আবার কী নাম? হুয়া আবার কারও নাম হয় নাকি!”

হুয়াবাবুর জননী তখন খুলে বলেন “রোজ রাতে শিয়ালের ডাক শুনবে আর ‘হুয়া, হুয়া’ করে চেঁচাবে। এখন সেটাই বলছে।”

মহিলা তখন বলেন “বেশ তো, ও নিজেই যখন নিজের নাম রেখেছে তখন তোমরাও ওকে ওই নামেই ডাকো।” সেই থেকেই ক্রমশ শ্যাম লাহা ‘হুয়া’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। এমনকি ইন্ডাস্ট্রিতেও তাঁর নাম হয়ে যায় হুয়াদা। উনি কিন্তু খুব একটা কাউকে ইন্ডাস্ট্রিতে খুলে বলতেন না তাঁর নামকরণের ঘটনা। অথচ এতটাই মজার ঘটনা। ঠিক যেমন ‘দেয়া নেয়া’ অনুমানের নামকরণের ইতিহাস। অনুমান হয়ে গেছিলেন হনুমান।

দেয়ানেয়া’ ছবির দৃশ্য

হুয়াবাবু একটি ছেলেকে তুলে ছুঁড়ে শ্রদ্ধানন্দ পার্কে ফেলে দিলেন 

বঙ্গবাসী কলেজে পড়তে পড়তেই পড়াশোনার পাট চুকিয়ে শ্যাম লাহা পুরোপুরি মেতে ওঠেন গান বাজনা আর কুস্তির প্যাঁচ পয়জার শিখতে।

শ্যাম লাহার দেহ সৌষ্ঠব ছিল দেখার মতো। পরে যদিও ভারিক্কি চেহারা হয়ে যান। কিন্তু খুব প্রাণোচ্ছল মানুষ ছিলেন। কুস্তিতে বেশ নামডাক হয় তখন তাঁর। একদিন শ্যাম লাহা ‘পূরবী’ সিনেমার কাছে শ্রদ্ধানন্দ পার্কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন সকালবেলা। এমন সময় দেখলেন কয়েকজন স্কুল ছাত্রী সেখান দিয়ে যাচ্ছে আর কিছু বখাটে ছেলে পার্কের রেলিংয়ে বসে তাদের দিকে অশ্লীল ইশারা ইঙ্গিত করছে আর কটুকথা ছুঁড়ে দিচ্ছে। হুয়াবাবুর ভীষণ রাগ হল। গরম হয়ে গেল মাথা। তিনি ছেলেগুলোকে অভব্যতা বন্ধ করতে বললেন কিন্তু তারা স্বভাবতই সে প্রস্তাব কানে তুলল না এবং হুয়াবাবুকেই নানা কটুকথা বলতে লাগল। এবার ‘কুস্তিগীর’ হুয়াবাবু নিজমূর্তি ধরলেন। হুয়াবাবু একটি ছেলেকে তুলে ছুঁড়ে পার্কে ফেলে দিলেন। বাকি ছেলেগুলো তা দেখে প্রাণপণে ছুটে পালাল। ছাত্রীদের চোখে তখন কৃতজ্ঞতা। এমন সময় পরিস্থিতি শান্ত হলে পিছন থেকে তাঁকে ডেকে উঠলেন একজন অপরিচিত ব্যক্তি।

সেই ব্যক্তিটি আর কেউ নন তখনকার বিখ্যাত বাদ্যযন্ত্রী তিমিরবরণ ভট্টাচার্যের ভাই মিহিরকিরণ ভট্টাচার্য। হুয়াবাবুর বীরত্ব দেখে তিনি মুগ্ধ। আর যখন তিনি শুনলেন হুয়াবাবুর আসল পছন্দের জিনিস গান-বাজনা তখন নিজেই তাঁর দাদার কাছে তালিম নেওয়ায় সব ব্যবস্থা করে দিলেন। এই তিমিরবরণ আবার বাজনা শেখাতেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেই ভানু-জায়া নীলিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সঙ্গীতশ্রী’ গানের স্কুলে। সেই সূত্রে ভানু-নীলিমার সঙ্গে শ্যাম লাহার পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এছাড়াও ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবি দিয়েই তো ভানু-জহর-শ্যাম-নবদ্বীপ সবার কমেডিয়ান হিসেবে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে, বন্ধুত্ব আরও হৃদ্যতা পায়। তিমিরবরণ সব ধরনের বাদ্যযন্ত্রে শ্যাম লাহাকে তালিম দিয়েছিলেন। তাই কমেডিয়ান হিসেবে জনপ্রিয় হলেও শ্যাম লাহা সবধরনের বাদ্যযন্ত্র বাজানোতেই পারদর্শী ছিলেন। অথচ তাঁর বাজনার হাত সে অর্থে কোথাও স্বীকৃতি বা প্রচারের আলো পায়নি। দুঃখ এখানেই।

একই ফ্রেমে ভানু জহর অজিত হরিধন শ্যাম নবদ্বীপ – সাড়ে চুয়াত্তর

পাহাড়ি সান্যালের হাত ধরে ফিল্ম লাইনে আসা

কিন্তু বাজনার হাতই তাঁর অভিনয় জীবনে কপাল খুলে দিল। হুয়াবাবুও গুরু তিমিরবরণের সঙ্গে সারা ভারতবর্ষ ঘুরে ঘুরে ফাংশন করেছেন। এমনই একটি ফাংশনে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় পাহাড়ি সান্যালের। তখন পাহাড়ি সান্যালও স্বল্প বিখ্যাত, সবেমাত্র প্রমথেশ বড়ুয়া সাহেবের সুনজরে পড়েছেন। পাহাড়িবাবুর বিশেষ সখ্যতা গড়ে উঠেছে নিউ থিয়েটার্সের সঙ্গে।

লক্ষ্ণৌতে এক কনফারেন্সে ম্যারিস কলেজের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ছাত্র পাহাড়ি সান্যালের গানের সঙ্গে তবলা বাজাতে বসেছিলেন শ্যামবাবু। সঙ্গীতের তালে তালে আশ্চর্যভাবে সুন্দর সুন্দর এক্সপ্রেশন দিয়ে চলেছিলেন তিনি। গান গাইতে গাইতে শ্যামবাবুর সেইসব এক্সপ্রেশনও মুগ্ধ চোখে লক্ষ্য করছিলেন পাহাড়ি সান্যাল।

পাহাড়ি সান্যালের এক দেখাতেই ভাল লেগে গেল শ্যাম লাহাকে। ফাংশন শেষ হতেই পাহাড়ি সান্যাল সরাসরি জিজ্ঞেস করেন তাঁকে, কেন তিনি সিনেমা–থিয়েটারে অভিনয় করেন না? পাহাড়িবাবুর কথাটা প্রথমে বুঝতেই পারছিলেন না শ্যামবাবু। অবাক হয়ে বলেছিলেন “সে কী! আমি অভিনয় করব কী করে! আমি অভিনয়ের কী জানি!” পাহাড়িবাবু প্রত্যুত্তরে বলেন “আপনি কতটা কী জানেন তা তো আমি জানি না। তবে আপনার মুখে যেভাবে এক্সপ্রেশন খেলা করে তাতে তো আমার মনে হয় আপনি অভিনয় করলে বেশ নামটাম করতে পারবেন।”

কথাটা বেশ মনে ধরে হুয়াবাবুর। এরপর পাহাড়ি সান্যালের আগ্রহেই তাঁর লেখা চিঠি নিয়ে শ্যাম দেখা করেন প্রমথেশ বড়ুয়া সাহেবের সঙ্গে নিউ থিয়েটার্স স্টুডিওতে। তখন প্রমথেশ বড়ুয়ার ‘দেবদাস’ ছবির কাস্টিং কমপ্লিট, কিন্তু পাহাড়ি সান্যালের কথা রাখতে বড়ুয়া সাহেব দুটি দৃশ্যের একটা মাতালের রোল দিয়েছিলেন শ্যাম লাহাকে। এরপর নিজের অমায়িক ব্যবহার আর গুণের জন্য হুয়াবাবু নিউ থিয়েটার্সের সকলের মন জয় করে নিয়েছিলেন অচিরেই। ১৯৩২ সালে দেবকী কুমার বসুর ‘চণ্ডীদাস’ ছবিতে অভিনয় করে শ্যাম লাহা রাতারাতি বিখ্যাত মুখ হয়ে ওঠেন এবং এই ছবির দু’বছর পর হিন্দিতেও রিমেক করা হয়। ১৯৩৪ সালে প্রথম বাংলা অ্যানিম্যাটেড ছবি ‘পিয়ার ব্রাদার্স’-এ অভিনয় করেছিলেন শ্যাম লাহা। সংগীত পরিচালক শ্যাম লাহাকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন এম.এল.বি স্বাধীন প্রোডাকশান কোম্পানি।

পাহাড়ি সান্যাল কিন্তু এভাবেই একদিন ফ্লপমাস্টার অরুণ কুমারের নাম সাজেস্ট করেছিলেন এম পি প্রোডাকশানে। পরবর্তীকালে সেই অরুণই হয়ে গেলেন মহানায়ক উত্তম কুমার।

শ্যাম লাহার আত্মীয় আবার ছিলেন পরিচালক বিভূতি লাহা। কিন্তু হুয়া বাবুর শুরুটা করে দিয়েছিলেন শ্রদ্ধেয় পাহাড়ি সান্যাল এবং এরপর তিনি হয়ে উঠলেন বিখ্যাত কমেডিয়ান শ্যাম লাহা।

উত্তম মহানায়ক হওয়ার আগে থেকেই হুয়াদার সাথে বন্ধুত্ব

উত্তম কুমারের সঙ্গে খুব বন্ধুত্ব ছিল শ্যাম লাহার। বলতে গেলে উত্তম কুমার মহানায়ক হওয়ার আগে থেকেই মহানায়কের সাথে অভিনয় করেছেন তিনি। স্টার থিয়েটারে দুজনে একসঙ্গে ‘শ্যামলী’ নাটক করেছেন। যখন উত্তম কুমার দুঃস্থ শিল্পীদের জন্য ‘শিল্পী সংসদ’ প্রতিষ্ঠা করলেন, তখন ‘শিল্পী সংসদ’ এর কোষাধ্যক্ষ-র দায়িত্বপদে ছিলেন শ্যাম লাহা।

শ্যাম লাহা র বনেদিয়ানা ছিল দেখার মতো। লাহা বাড়ির ছেলে, বনেদিয়ানা তাঁর রক্তে। কোঁচানো ধুতি, পাটভাঙ্গা সাদা পাঞ্জাবি পরতেন। মুখে শোভা পেত দামি চুরুট। শৌখিন বড় মনের মানুষ ছিলেন। কথাবার্তায় মার্জিত রুচির ছাপ ছিল।

‘পৃথিবী আমারে চায়’, ‘ইন্দ্রাণী’, ‘৮০তে আসিও না’, ‘রাজদ্রোহী’, ‘বাদশা'(পুরনো), মরুতীর্থ হিংলাজ, উত্তর ফাল্গুনি, লাখ টাকা, সাত নম্বর কয়েদি, এন্টনি ফিরিঙ্গী, শ্রীমান পৃথ্বীরাজ প্রভৃতি ছবিতে অসাধারণ অভিনয় করেছিলেন শ্যাম লাহা। পাশাপাশি হিন্দি ছবিতেও তাঁর অভিনয়ের নজির রেখেছেন যেমন নীতিন বোসের ‘ধূপ ছাঁও’, প্রমথেশ বড়ুয়ার ‘জিন্দেগি’, প্রফুল্ল রায়ের ‘পূজারন’।
সিনেমায় চরিত্র ছোট হলেও তাকে নিজস্ব আঙ্গিকে উপস্থাপন করতেন তিনি।
এক দৃশ্যেই বুঝিয়ে দিতেন তিনি জাত অভিনেতা।

 

শ্যাম লাহাকে মঞ্চে নিয়ে আসেন ছবি বিশ্বাস

মঞ্চেও খুব নাম-ডাক ছিল তাঁর। ১৯৪৭ সালে
মির্নাভা থিয়েটারে প্রথম শ্যাম লাহাকে নিয়ে আসেন ছবি বিশ্বাস। পরে স্টার থিয়েটারেও দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন বিভিন্ন নাটকে। শ্যাম লাহা অভিনীত মঞ্চ-নাটকগুলির মধ্যে ‘কালো টাকা’, ‘শ্যামলী’, ‘পরিণীতা’, ‘শ্রীকান্ত ও রাজলক্ষ্মী’, ‘দাবি’, ‘ডাকবাংলো’, ‘বিদ্রোহী নায়ক’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। মঞ্চ ফিল্মের পাশাপাশি তিনি আকাশবাণীর রেডিও হাস্যকৌতুক নাটকেও কাজ করেছেন এবং সেগুলি বেশ জনপ্রিয় হয়। বাংলা রঙ্গমঞ্চের খ্যাতনামা অভিনেতা হয়েও তাঁর সেসব নাটক আজ বিস্মৃতির অতলে।

উত্তম আর সাবিত্রী’র সঙ্গে ‘লাখ টাকা’ ছবিতে

কমেডিয়ানদের মৃত্যুতেও লোকে হাসে

শ্যাম লাহা রয়ে গেছেন সাদা কালো ছবি জুড়েই। যদিও হারিয়ে গেছে তাঁর অভিনীত অনেক ছবি।
কিন্তু কমেডিয়ান হিসেবেই তিনি রয়ে গেছেন বাঙালি মননে। অমন কৌতুক নকশায় তাকানো, গোলগাল চেহারা আর থতমত হয়ে কথা বলার স্টাইলে জয় করে নিতেন। আজও নেন সব বাঙালির মন।

নিজের শেষ রিলিজ ছবি দেখে যেতে পেরেছিলেন ‘বসন্ত বিলাপ’। মই ফেরত নিতে আসা রাম বাবুকে মনে পড়ে? কণিকা মজুমদার আর অমরনাথ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেন লুঙি ফতুয়া পড়ে শ্যাম লাহা।

‘বসন্ত বিলাপ’ ছবিতে কণিকা মজুমদারের সঙ্গে

জীবনের শেষদিনে তিনি অভিনয় করেছিলেন ‘জনপদ বধূ’ নাটকে। ১৯৭৩ সালের ২৫শে অক্টোবর প্রয়াণ ঘটে শ্যাম লাহার, ইন্ডাস্ট্রির হুয়াদার।

কমেডিয়ানদের মৃত্যুতেও লোকে হাসে বলেছিলেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, জহর রায়রা। কমেডিয়ানরা হাসাতেই আসে। তাঁরা ভাঁড়  তাঁরা জোকার। অথচ তাঁরা যে কত বলিষ্ঠ অভিনেতা আরো কত গুণের অধিকারী তা হারিয়ে যায় কালের গর্ভে। ভানু জহর কমেডিয়ান হিসেবে প্রচুর সম্মান পেলেও তাঁর ছিটেফোঁটাও পাননি বহুমুখীপ্রতিভার স্বর্ণযুগের নট শ্যাম লাহা। অথচ সিনেমার এক লহমার দৃশ্যতেই তিনি দর্শকের মন জিতে নেন আজও।
যিনি বাংলা চলচ্চিত্র ও রঙ্গমঞ্চের দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষী, তিনি আজ বিস্মৃতির অতলে। বাংলা ছায়াছবির স্বার্থে এ অনুসন্ধান অবশ্য প্রয়োজনীয়।

শ্যাম লাহাকে প্রণাম ও শ্রদ্ধা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More