অটোর পাদানিতে করোনায় মৃতের দেহ, অসম্মানের অভিযোগ তেলেঙ্গানায়

নিয়ম অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স বা শববাহী গাড়িতে দেহ বহন করার কথা। কিন্তু দেখা গেল স্রেফ অটোয় করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে একটি দেহ। সেটাও আবার পাদানি-তে শুইয়ে। সঙ্গে কোনও স্বাস্থ্যকর্মীও ছিল না। অটোচালকের পরনেও ছিল না পিপিই।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে করোনা রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সব রাজ্যেই এমন অনেক অভিযোগ যে, ঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরুর আগেই অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। এক হাসপাতাল থেকে আর এক হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে আক্রান্তদের। সেই সঙ্গে মৃতদেহের অসম্মানের অভিযোগ তো আছেই। কোথাও আঁকশি দিয়ে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে নামানো হচ্ছে দেহ, কোথাও আবার পলিথিনবন্দি করেই ফেলে দেওয়া হচ্ছে বর্জ্যের মধ্যে। এবার সামনে এল এক ‌অমানবিক ছবি। করোনায় মৃত রোগীর দেহ প্লাস্টিকে মুড়ে অটোর পাদানিতে রেখে নিয়ে যাওয়ার ছবি।

আরও পড়ুন

করোনা গোপন করেছিল চিন, সরব হলেন ভয়ে আমেরিকায় পালিয়ে যাওয়া হংকংয়ের বিজ্ঞানী

নিয়ম অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স বা শববাহী গাড়িতে দেহ বহন করার কথা। কিন্তু দেখা গেল স্রেফ অটোয় করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে একটি দেহ। সেটাও আবার পাদানি-তে শুইয়ে। সঙ্গে কোনও স্বাস্থ্যকর্মীও ছিল না। অটোচালকের পরনেও ছিল না পিপিই।

এই ছবি তেলেঙ্গনার নিজামাবাদের সরকারি হাসপাতালের। কতটা অব্যবস্থা হতে পারে তারই ছবি যেন এই দেহ নিয়ে যাওয়ার পদ্ধতি। প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে করোনা আক্রান্তের দেহ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আইসিএমআর-এর নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, সেখানে সরকারি হাসপাতাল কী ভাবে এমন কাজ করল। শুধু মৃতদেহের অপমান নয় অন্য দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, পিপিই পরিহিত স্বাস্থ্যকর্মীরাই করোনায় মৃতের দেহ সৎকার করে থাকেন। দেহ থেকে ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কার কারণে শব থেকে দূরে রাখা হয় পরিবারকেও। কিন্তু নিজামাবাদের ঘটনায় কোনও নির্দেশিকাই তো মানা হয়নি। অটো যিনি চালাচ্ছিলেন, তার পরণে পিপিই ছিল না কেন সেটাও বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। এই ছবি ঠিক যতটা কুৎসিত ঠিক ততটাই বিপজ্জনক।

এই ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পরে ছবিটিও ভাইরাল হয়ে যায়। চারিদিকে সমালোচনা শুরু হয়। আর তার পরেই নড়েচড়ে বসে তেলেঙ্গনা প্রশাসন। সরকারের তরফে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, রাজ্যের মেডিক্যাল এডুকেশনের ডিরেক্টর ডঃ রমেশ রেড্ডি এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কোভিড আক্রান্তের দেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কেন এমন অনিয়ম করা হল, তার জন্য তদন্ত কমিটিও বসেছে। হাসপাতাল কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে ফৌজদারি মামলাও।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, যা হয়েছে সবটাই মৃতের পরিবারের ইচ্ছায়। তাদের কথা মতোই দেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। দেহ অটোয় করে নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে হাসপাতালের দাবি, রোগীর পরিবারের একজন এই হাসপাতালেই কাজ করেন। তিনি দেহ হস্তান্তরের আবেদন করেন। সেটা মেনেই হস্তান্তর হয়। এবং তিনি অ্যাম্বুলেন্স পেতে সময় লাগবে বলে অটোয় করেই দেহ নিয়ে যান।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More