বিতর্কের ‘করোনিল’ বেচে রমরমা পতঞ্জলীর, রোজ চাহিদা ১০ লাখ প্যাকেট

এক প্যাকেট করোনিলের দাম ৫০০ টাকা। আর এই রকম প্যাকটে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ করে। বু‌ধবার রামদেব জানিয়েছেন, হরিদ্বারের সংস্থা চাহিদা মতো যোগান দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনিল। প্রথমে বলা হয়েছিল, এটাই প্রথম করোনা রুখতে আয়ুর্বেদিক ওষুধ। দু’বেলা নিয়ম করে খেলেই সাত থেকে দশদিনে সেরে যাবে কোভিড-১৯। পালাবে করোনাভাইরাস। দাবি করেছিল বাবা রামদেবের পতঞ্জলী সংস্থা। খোদ যোগগুরুও এমন দাবি করাছিলেন। তিনি এমনও বলেন যে, দেশীয় আয়ুর্বেদিক উপাদান যথা তুলসী, অশ্বগন্ধা, গুলঞ্চ ইত্যাদির সংমিশ্রণে তৈরি করোনিল করোনা রোগীদের উপরে প্রয়োগ করে দেখা হয়েছে সংক্রমণ কমছে সাতদিনের মধ্যেই। কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই। কিন্তু লাইসেন্স নেওয়ার সময়ে বলা হয় ওষুধ নয়, করোনিল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর হবে। এনিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু করোনা আবহে সেই করোনিল বিক্রি করেই রমরমা কারবার পতঞ্জলীর। বাবা রামদেবই দাবি করেছেন, প্রতিদিন করোনিলের চাহিদা ১০ লাখ প্যাকেট। যার যোগান দিতে পারছে না সংস্থা।

আরও পড়ুন

স্কুল বন্ধ, তাই চা বাগানের ছেলেমেয়েদের ১০ টাকায় টিউশন পড়াচ্ছেন শিলিগুড়ির দম্পতি

এক প্যাকেট করোনিলের দাম ৫০০ টাকা। আর এই রকম প্যাকটে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ করে। বু‌ধবার রামদেব জানিয়েছেন, হরিদ্বারের সংস্থা চাহিদা মতো যোগান দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। বাবা রামদেবের কথায়, “আমাদের কাছে এখন প্রতিদিন ১০ লাখ প্যাকেট করোনিলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু আমরা এক লাখ উৎপাদন করতে পারছি।” তিনি আরও বলেন, “করোনা পরিস্থিতিতে আমরা যদি এর দাম ৫ হাজার টাকা রাখতাম তাহলে সহজেই ৫ হাজার কোটি টাকা কামাতে পারতাম। কিন্তু আমরা সেটা করিনি।”

বুধবার বণিক সংস্থা অ্যাসোচেম আয়োজিত ‘আত্মনির্ভর ভরত – ভোকাল ফর লোকাল’ শীর্ষক আলোচনা চক্রে যোগ দেন যোগগুরু রামদেব। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হওয়া সেই আলোচনা চক্রেই করোনিলের এমন চাহিদার দাবি করেন তিনি।

হরিদ্বারে পতঞ্জলির হেড কোয়ার্টারে প্রেস কনফারেন্স করে যোগগুরু বাবা রামদেব যেদিন ঘোষণা করেন যে তাঁরা প্রথম আয়ুর্বেদিক উপাদানে তৈরি করোনার ওষুধ নিয়ে এসেছেন, বিতর্কের শুরু সেদিন থেকেই। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক ও আষুষ মন্ত্রকের অনুমোদন ছাড়া কীভাবে করোনার প্রতিষেধক বাজারে ছাড়লেন রামদেব সেই নিয়ে শুরু হয় টানাপড়েন। পতঞ্জলিকে আইনি নোটিশও ধরানো হয়। বলা হয়, কোনও ওষুধ বাজারে আনতে হলে আগে তার ফর্মুলা ও ক্লিনিকাল ট্রায়ালের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা করতে হয়। কী কী উপাদানে তৈরি হয়েছে সেই ওষুধ, কোন পথে এগিয়েছে গবেষণা, ল্যাবরেটরিতে তার সেফটি ট্রায়াল ও মানুষের শরীরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফলাফল কী, লাইসেন্সের জন্য অনুমোদন করা হয়েছে কিনা ইত্যাদি তথ্য সবিস্তারে জানিয়ে রিপোর্ট জমা করতে হয়। কিন্তু সেসবের নাকি কিছুই করেনি পতঞ্জলি। তাই এই ওষুধ ব্যবহারে কোনওভাবেই অনুমতি দেওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।

পরে জুলাই মাসের শুরুতে বহু তর্ক-বিতর্কের পরে করোনিলে ছাড়পত্র দিয়েছিল আয়ুষ মন্ত্রক। তবে শর্তে বলা হয়, এটাকে করোনার ওষুধ বলে দাবি করা যাবে না। সংক্রমণ সারাতেও এর প্রয়োগ করা যাবে না। তবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে প্রোফিল্যাক্টিক ড্রাগ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে পতঞ্জলির করোনিল।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More