নিরাপত্তা ছাড়াই করোনার বিরুদ্ধে লড়ছেন অনেকে, সাতসকালে ভিডিও বার্তা সনিয়ার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার বেলা ১০ টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার আগে এদিন সাতসকালেই ‘করোনা যোদ্ধা’-দের অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। তিনি বলেছেন, আমাদের দেশে ডাক্তার, স্যানিটেশন কর্মী এবং পুলিশকর্মীরা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে উপযুক্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা ছাড়াই অতিমহামারীর মোকাবিলা করছেন।

তাঁর কথায়, “সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অতিমহামারীর মোকাবিলা করাই এখন দেশপ্রেমিক কাজ। আমাদের করোনা যোদ্ধারা প্রাথমিক সুরক্ষা ছাড়াই রোগীদের সেবা করছেন।” মানুষের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, “লকডাউন মেনে চলুন। সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং বজায় রাখুন।”

সনিয়া লিখেছেন, “পুলিশ আর জওয়ানরা লকডাউন সফল করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্যানিটেশন কর্মীরা নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর ব্যবস্থা করছেন। সরকারি অফিসাররা চেষ্টা করছেন যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সরবরাহ অক্ষুণ্ণ থাকে। কিন্তু আমরা সমর্থন না করলে তাঁদের উদ্যোগ সফল হবে না।”

এর পরে সনিয়া বলেছেন, “অনেক সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্যানিটাইজার বিলি করছেন। তাঁদেরও প্রশংসা করা উচিত। এই লড়াইয়ে কংগ্রেস কর্মীরা তাঁদের পাশে আছে। আমরা কোনও রাজ্যে সরকারে থাকি বা না থাকি, করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করব।”

গত সপ্তাহে টুইট করে সনিয়া বলেছিলেন, “লকডাউনের ফলে আমাদের অর্থনীতির ওপরে বিরাট বোঝা চাপবে। অর্থনীতি ইতিমধ্যেই সংকটে আছে। অতিমহামারীর ফলে এই সংকট আরও গভীর হবে।”

লকডাউনের মেয়াদ যে আরও ১৬ দিনের জন্য বাড়ছে সে বিষয়ে কোনও রহস্য আর বাকি নেই। সর্বভারতীয় স্তরে ঘোষণা না হলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত শনিবারই জানিয়ে দিয়েছেন যে লকডাউন ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।

সাউথ ব্লক সূত্রে বলা হচ্ছে, লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো ছাড়াও এদিন আরও কিছু তথ্য দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রী জানাতে পারেন। যেমন কিছু ক্ষেত্রে সরকার লকডাউনের শর্ত শিথিল করেছে। বিশেষ করে উৎপাদন ক্ষেত্রের অনেক কিছুকেই সরকার লকডাউনের আওতা থেকে ক্রমশ বাইরে রাখছে। তবে সে ক্ষেত্রে তাদের কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নিতে বলেছে। যেমন, কর্মীদের পরিবহণের ব্যবস্থা কী করে করা হবে, কারখানা ও উৎপাদন পরিসর কতক্ষণ অন্তর স্যানিটাইজ করতে হবে ইত্যাদি।

করোনা নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া দ্বিতীয় বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী হিসেব দিয়ে বলেছিলেন কী ভাবে করোনাভাইরাস ক্রমশ সংক্রমণের ব্যপ্তি বাড়ায়। মুখ্যমন্ত্রীদের ভিডিও কনফারেন্সেও মোদী জানিয়েছেন, আগামী দু’সপ্তাহ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। মনে করা হচ্ছে, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কী ভাবে চলতে হবে সে ব্যাপারেই হয়তো দেশবাসীকে আরও একবার সতর্ক করবেন প্রধানমন্ত্রী।

ইতিমধ্যেই সরকার করোনা সংক্রমণের সমস্ত তথ্য দেখে লাল, কমলা এবং সবুজ– এই তিন রঙের এলাকায় ভাগ করেছে। লাল এলাকার ক্ষেত্রে করোনা সংক্রমণ গুরুতর। কমলা এলাকার অর্থ সেখানে সংক্রমণ ছড়িয়েছে কিন্তু তা ব্যাপক নয়। আর সবুজ এলাকার মানে সেখানে করোনাভাইরাস এখনও থাবা বসাতে পারেনি। অর্থাৎ এই এলাকাগুলিতে কী কী খোলা থাকবে না থাকবে তা হয়তো নববর্ষের বক্তৃতায় স্পষ্ট করবেন প্রধানমন্ত্রী।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More